নিউজ ডেস্ক : রাজধানীর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আবারও মাদক ‘কুশে’র একটি চালান জব্দ করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। বৃহস্পতিবার ধরা পড়া এই চালানে ৫ কেজি ১২০ গ্রাম কুশ ছিল। এ সময় মাদক চোরাচালানে জড়িত দুই ভারতীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ নিয়ে গত ৩৫ দিনে বিমানবন্দর থেকে প্রায় ৩০ কেজি কুশের পাঁচটি চালান জব্দ করা হলো। প্রতিটিই বহন করছিলেন ভারতীয় নাগরিকরা।
ডিএনসির সর্বশেষ অভিযানে গ্রেপ্তাররা হলেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা আবদুল রহমান ও মোহাম্মদ ইকবাল আনসারি। তাদের কাছ থেকে কুশের পাশাপাশি দুটি ভারতীয় পাসপোর্ট, ৫০০ মার্কিন ডলার, ১০ হাজার ভারতীয় রুপি, তিনটি স্মার্টফোন ও দু’জনের বোর্ডিং কার্ড জব্দ করা হয়েছে।
ডিএনসি ঢাকা মহানগর উত্তরের সহকারী পরিচালক ড. আবু সাঈদ মিয়া বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে বিমানবন্দরের গ্রিন চ্যানেলে অবস্থান নেয় ডিএনসির একটি দল। এ সময় ব্যাংকক থেকে একটি ফ্লাইটে আসা দুই ভারতীয় নাগরিককে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়। পরে বিমানবন্দরে কর্মরত বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের সামনে তাদের ট্রাভেল ট্রলি তল্লাশি করা হয়। ট্রলিতে কাপড়ের নিচে কৌশলে লুকিয়ে রাখা কুশ পাওয়া যায়।
এর আগে, ২৪ আগস্ট বিমানবন্দর থেকে ভারতীয় শাড়ির আড়ালে কৌশলে লুকিয়ে আনা ৫ কেজি ৪০ গ্রাম কুশ ও ৩ লিটার বিদেশি মদসহ দুই ভারতীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করে ডিএনসি। তারা হলেন– ভারতের উত্তর ২৪ পরগনার বাসিন্দা সানাওয়ার আলী ও ইমতিয়াজ আহমেদ। তাদের কাছে ২৪ পিস ভারতীয় শাড়ি, দুটি ভারতীয় পাসপোর্ট, চারটি স্মার্টফোন ও বিভিন্ন দেশের মুদ্রাও পাওয়া যায়।
শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে ২২ আগস্ট হোসেন আবদুল কাদের শেখ নামে এক ভারতীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছে পাওয়া যায় ৩ কেজি কুশের একটি চালান। তিনি কলকাতা থেকে ব্যাংকক যান। সেখান থেকে কুশ নিয়ে ঢাকায় আসেন। ভারতের মুম্বাইয়ে তার ‘সোহেল ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস’ নামে ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান আছে। পাশাপাশি পোশাক ব্যবসাও করেন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার দেওয়া তথ্যমতে, প্রতি কেজি কুশের দাম প্রায় ২০ লাখ টাকা। এর আগে ১৮ আগস্ট বিমানবন্দরে ৪ কেজি ১০০ গ্রাম কুশ জব্দ করা হয়। ওই চালানটি আনেন ভারতীয় নাগরিক আকাশ দুবে ও আকাশ পান্ডে। তবে চালান জব্দের প্রক্রিয়া বুঝতে পেরে তারা বিমানবন্দর থেকে পালিয়ে যান। এখনও তারা বাংলাদেশে আছেন বলে জানা গেছে। এই চক্রের আরেক সদস্য জুলফিকার মোল্লাকে গ্রেপ্তার করা হয় গত ২৪ জুলাই। তার কাছে পাওয়া যায় ১১ কেজি ৮০০ গ্রাম কুশ।



