ঢাকা  বুধবার, ১লা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeসারাদেশটেকনাফে ঘন ঘন লোডশেডিং, দুর্ভোগে গ্রাহকেরা

টেকনাফে ঘন ঘন লোডশেডিং, দুর্ভোগে গ্রাহকেরা

মোহাম্মদ ইউনুছ অভি, টেকনাফ প্রতিনিধি : কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলা টেকনাফে ঘন ঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন গ্রাহকেরা। দিনের পাশাপাশি রাতেও দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় তীব্র গরমে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। ব্যাহত হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কোনো কোনো এলাকায় একবার বিদ্যুৎ চলে গেলে দীর্ঘ সময় পর সরবরাহ স্বাভাবিক হয়। আবার বিদ্যুৎ আসার কিছুক্ষণ পরই তা চলে যায়। এতে ফ্যান, ফ্রিজ, পানির মোটরসহ প্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহার করা যাচ্ছে না। বিশেষ করে রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু ও বয়স্কদের ভোগান্তি বাড়ছে।

টেকনাফের এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘বিদ্যুৎ না থাকলে দোকানের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। জেনারেটর বা বিকল্প ব্যবস্থা করে ব্যবসা চালানোও সবার পক্ষে সম্ভব নয়। নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল দেওয়ার পরও যদি সেবা না পাওয়া যায়, বিষয়টি হতাশাজনক।’

এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘রাতে বিদ্যুৎ না থাকলে গরমের মধ্যে পড়াশোনা করা কঠিন হয়ে পড়ে। পরীক্ষার সময় এই সমস্যা আরও বেশি ভোগান্তিতে ফেলে।’

স্থানীয় এক গৃহিণী বলেন, ‘দিনে কয়েকবার বিদ্যুৎ চলে যায়। কখন বিদ্যুৎ থাকবে আর কখন থাকবে না, তা বোঝা যায় না। গরমের মধ্যে ছোট বাচ্চাদের নিয়ে খুব কষ্ট হয়।’

নিরাপদ সীমান্ত আন্দোলনের প্রতিনিধি রুবায়েত হোসাইন বলেন, টেকনাফ সীমান্তবর্তী ও গুরুত্বপূর্ণ একটি উপজেলা। ঘন ঘন ও দীর্ঘ সময়ের লোডশেডিংয়ে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্মত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, বিভিন্ন সময় কারিগরি ত্রুটি, সঞ্চালন লাইনের সমস্যা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং চাহিদার তুলনায় সরবরাহের ঘাটতির কারণে সাময়িক বিদ্যুৎ বিভ্রাট হতে পারে। সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত মেরামত করে সরবরাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হয়।

স্থানীয় গ্রাহকদের দাবি, সাময়িক কারিগরি ত্রুটির কারণে বিদ্যুৎ বিভ্রাট মেনে নেওয়া গেলেও নিয়মিত ও দীর্ঘ সময়ের লোডশেডিংয়ের স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন। টেকনাফের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেবে—এমন প্রত্যাশা তাঁদের।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular