ঢাকা  বুধবার, ১লা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeলিডচরমপন্থা ও অসহিষ্ণুতা প্রতিরোধের চাবিকাঠি সাংস্কৃতিক জাগরণ: নিতাই

চরমপন্থা ও অসহিষ্ণুতা প্রতিরোধের চাবিকাঠি সাংস্কৃতিক জাগরণ: নিতাই

সংস্কৃতি ডেস্ক: সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী আজ বলেছেন, সমসাময়িক বিশ্বে ধর্মীয় চরমপন্থা, অসহিষ্ণুতা ও সাম্প্রদায়িক বিভাজনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো সাংস্কৃতিক জাগরণ।

তিনি সাহিত্য, সঙ্গীত, নাট্য ও লোকসংস্কৃতির মাধ্যমে মানবিক মূল্যবোধ ও সম্প্রীতিকে শক্তিশালী করতে বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন।

আজ সচিবালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে মন্ত্রী এই মন্তব্য করেন।

বৈঠকে তারা দুই দেশের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক, নজরুল বর্ষ উদযাপন, শিল্পী ও গবেষক বিনিময়, শাস্ত্রীয় সঙ্গীত, লোকসংস্কৃতি, তরুণ প্রতিভার বিকাশ এবং সামুদ্রিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে যৌথ উদ্যোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

নিতাই বলেন, দুই দেশের মানুষের ভাষা, সাহিত্য, সঙ্গীত, লোক ঐতিহ্য এবং মানবিক মূল্যবোধের মধ্যে গভীর বন্ধনই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সবচেয়ে শক্তিশালী ভিত্তি।

চলমান নজরুল বর্ষ উপলক্ষে তিনি বাংলাদেশে আয়োজিত বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য ভারত থেকে প্রখ্যাত নজরুল গবেষক, শিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

তিনি দুই দেশের যৌথ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, লালন শাহ এবং বাংলা লোকসংগীতের কথাও উল্লেখ করেন।

সভায় সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খিয়ম দুই দেশের মধ্যে একটি শাস্ত্রীয় সংগীত নেটওয়ার্ক স্থাপনের প্রস্তাব দেন। প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে তিনি কর্মশালা পরিচালনার জন্য ভারত থেকে দুজন শাস্ত্রীয় সংগীত শিল্পীকে বাংলাদেশে আমন্ত্রণ জানানোর প্রস্তাব দেন।

তিনি বাংলাদেশ-ভারত সাংস্কৃতিক সহযোগিতা চুক্তি নবায়নের মাধ্যমে একটি নতুন কর্মপরিকল্পনা গ্রহণেরও আহ্বান জানান।

সভায় সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খিয়ম, সচিব ইয়াসমিন বেগম, ভারতের ডেপুটি হাই কমিশনার এবং ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের পরিচালকসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

ভারতীয় হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেছেন, দুই দেশের তরুণ প্রতিভাদের জন্য যৌথ প্রশিক্ষণ, আবাসিক কর্মসূচি এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় কার্যক্রম চালু করা হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া আরও জোরদার হবে।

তিনি আরও বলেন, বঙ্গোপসাগরকে কেন্দ্র করে সামুদ্রিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ গবেষণা ও সাংস্কৃতিক উদ্যোগের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে।

তিনি বাংলাদেশকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সঙ্গীত ও সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের দেশ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

হাই কমিশনার কাজী নজরুল ইসলামের জন্মস্থান চুরুলিয়ায় বৃহত্তর পরিসরে আন্তর্জাতিক মানের অনুষ্ঠান আয়োজনে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন এবং ব্যক্তিগতভাবে এমন একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular