আন্তর্জাতিক ডেস্ক: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত রেড কার্পেট বায়োমেট্রিক ইমিগ্রেশন ব্যবস্থার মাধ্যমে ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে ৭ লাখ ৪৫ হাজার ১৮৮ জন যাত্রী দুবাই বিমানবন্দর অতিক্রম করেছেন।
এই ব্যবস্থার ফলে পাসপোর্ট, বোর্ডিং পাস বা কোনো কাগজপত্রের ব্যবহার ছাড়াই নির্ধারিত একটি লেনের মধ্য দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময়ই যাত্রীদের ইমিগ্রেশন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।
দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দ্রুত ও ১০০ শতাংশ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-ভিত্তিক ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় জানুয়ারি থেকে আগস্টের মধ্যে এই পরিষেবাটি শতভাগ বাধা বা থামামুক্ত অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করেছে।
একই সময়ে দুবাই বিমানবন্দর ব্যবহার করেছেন ২ কোটি ৫৮ লাখেরও বেশি যাত্রী, যার মধ্যে ৯৩ লাখ ৮২ হাজার ৮১৪ জন যাত্রী সেকেন্ডের মধ্যে তাদের ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করতে স্মার্ট গেট ব্যবহার করেছেন।
এয়ারপোর্ট পাসপোর্ট সেক্টরের তথ্য অনুযায়ী, বিমানবন্দরের প্রায় ৬০ শতাংশের বেশি যাত্রী এখন এই স্মার্ট গেট ব্যবহারের মাধ্যমে যাতায়াত করছেন।
দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জেনারেল ডিরেক্টরেট অব রেসিডেন্সি অ্যান্ড ফরেনার্স অ্যাফেয়ার্স দুবাইয়ের মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ আহমেদ আল মারি, বিমানবন্দর বিষয়ক সহকারী মহাপরিচালক মেজর জেনারেল তালাল আহমেদ আল শানকিতি এবং ডিজিটাল সার্ভিসেসের সহকারী মহাপরিচালক কর্নেল এক্সপার্ট খালিদ বিন মেদিয়া আল ফালাসিসহ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা এই পরিসংখ্যান প্রকাশ করেন। এই সম্মেলনে ক্লিক অ্যান্ড ট্রাভেল নামে যাত্রীদের জন্য নতুন একটি সেবার ঘোষণাও দেওয়া হয়।
ফেসিয়াল রিকগনিশন এবং এআই প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে নির্মিত রেড কার্পেট সিস্টেমটি যাত্রীরা লেনের মধ্য দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময়ই রিয়েল-টাইমে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করে।
এই প্রযুক্তি সনাতন ইমিগ্রেশন কাউন্টারের প্রয়োজনীয়তা দূর করেছে এবং নিরাপত্তা ও কাজের গতি বজায় রেখে একসাথে ১০ জন পর্যন্ত যাত্রীর তথ্য প্রক্রিয়াকরণ করতে পারে।
এর ফলে সীমান্ত অতিক্রমের গড় সময় ১২ দশমিক ৫ সেকেন্ড থেকে কমে মাত্র ৩ দশমিক ৪ সেকেন্ডে নেমে এসেছে, যা প্রায় ৬০ শতাংশ সময় সাশ্রয় করে।
এটি কোনো প্রকার কাগজের নথি বা স্পর্শ ছাড়াই একসাথে ১০ জন যাত্রীর ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করতে সক্ষম।
আন্তর্জাতিক প্রচারমাধ্যমেরও ব্যাপক নজর কেড়েছে এই প্রকল্প। ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৩২০ কোটি মিডিয়া ইম্প্রেশন এবং ৪৪ কোটি ৬০ লাখ সোশ্যাল মিডিয়া ইম্প্রেশন সৃষ্টি করেছে এই রেড কার্পেট সিস্টেম।
দুবাই বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থার মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে ‘স্মার্ট গেট’। যোগ্য যাত্রীরা মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে কোনো স্পর্শ ছাড়াই পাসপোর্ট ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করতে পারেন।
চলতি বছরের প্রথম আট মাসে ৬০ শতাংশের বেশি বা প্রায় ৯৩ লাখ ৮২ হাজার ৮১৪ জন যাত্রী এই সুবিধা ব্যবহার করেছেন। যাত্রীদের এই আগ্রহ ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি দুবাইয়ের বিমানবন্দরকে চাপমুক্ত রাখতে এবং যাত্রী সেবা দ্রুত করতে সহায়তা করছে।
বিশ্বে প্রথমবারের মতো শিশুদের জন্য একটি নিবেদিত ও আকর্ষণীয় পাসপোর্ট প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে দুবাই। শিশুবান্ধব এই ইন্টারেক্টিভ সুবিধাটির মাধ্যমে ছোট শিশুদের ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া অত্যন্ত সহজ ও আনন্দদায়ক করা হয়েছে।
চালু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত সুবিধাটি ২১ লাখ ২ হাজার ৬৯৫ জন শিশু ব্যবহার করেছে, যার মধ্যে ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসেই এই পরিষেবা নিয়েছে ২ লাখ ১২ হাজার ৭৪৬ জন শিশু।
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন যাত্রীদের সুবিধার্থে দুবাই এয়ারপোর্ট পাসপোর্ট সেক্টর তাদের সেবার পরিধি আরও বিস্তৃত করেছে।
এই প্রক্রিয়ায় সহায়তার জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ২৬৩ জন পাসপোর্ট কর্মকর্তা ও গাইড নিয়োজিত রয়েছেন।
তাদের জন্য ডেডিকেটেড বা বিশেষ লেন, শ্রবণ-সহায়ক ব্যবস্থা এবং সম্পূর্ণ প্রবেশযোগ্য অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার অংশ হিসেবে সেবাটি মূল্যায়নের জন্য ১৫টি বিশেষ মূল্যায়নকারী প্রতিনিধি দল এই সুবিধাটি পরিদর্শনের কাজ পরিচালনা করেছে।
দুবাইয়ের এই স্মার্ট ইমিগ্রেশন মডেলটি বিশ্বের অনেক দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। ২০২৬ সালে বিশ্বজুড়ে অন্তত ৫১টি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি দল দুবাইয়ের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে এবং তাদের নিজ নিজ দেশে একই মডেল প্রয়োগ করা যায় কি না তা শিখতে দুবাই সফর করেছে।
তাছাড়া, সীমান্তে উদ্ভাবন ও উৎকর্ষের জন্য স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রায় ১৫টি পুরস্কার জিতেছে দুবাইয়ের এই এয়ারপোর্ট ইমিগ্রেশন খাত। যার মধ্যে হামদান বিন মোহাম্মদ প্রোগ্রাম ফর স্মার্ট গভর্নমেন্ট অ্যাওয়ার্ড এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় উদ্ভাবনের জন্য সম্মানজনক স্টিভি অ্যাওয়ার্ড অন্যতম।
২৫,৮৪৯,৪৩২ — ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ডিএক্সবি (DXB) দিয়ে যাতায়াতকারী মোট যাত্রী
৯,৩৮২,৮১৪ — স্মার্ট গেট ব্যবহারকারী যাত্রী
৭৪৫,১৮৮ — রেড কার্পেট পরিষেবার মাধ্যমে প্রক্রিয়াকৃত যাত্রী
৩.৪ সেকেন্ড — রেড কার্পেট সীমান্ত প্রক্রিয়াকরণের গড় সময়
৬০% — গড় প্রক্রিয়াকরণের সময় হ্রাস
১০ জন ভ্রমণকারী — একই সাথে প্রক্রিয়া করা সম্ভব এমন সংখ্যা
২১২,৭৪৬ — ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে বিশেষ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্রক্রিয়াকৃত শিশু
২,০৬৬,১৯৫ — প্ল্যাটফর্মটি চালু হওয়ার পর থেকে মোট পরিষেবা প্রাপ্ত শিশু
২৬৩ — বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের সহায়তাকারী প্রশিক্ষিত কর্মকর্তা ও সহায়তাকারী
১৫ — আতিথেয়তা প্রাপ্ত প্রবেশগম্যতা মূল্যায়ন প্রতিনিধিদল
৫১ — গৃহীত আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদল
১৫ — প্রাপ্ত স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার
৩.২ বিলিয়ন — রেড কার্পেট প্রকল্পের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী আনুমানিক মিডিয়া ইমপ্রেশন
৪৪৬ মিলিয়ন — ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে সোশ্যাল মিডিয়ায় তৈরি হওয়া ইমপ্রেশন
সূত্র: গালফ নিউজ




