ঢাকা  বুধবার, ১লা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeআন্তর্জাতিকব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে দিল্লি যাচ্ছেন শি জিনপিং

ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে দিল্লি যাচ্ছেন শি জিনপিং

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সব কূটনৈতিক জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ১৮তম ব্রিকস (BRICS) শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতের রাজধানী নতুন দিল্লিতে যাচ্ছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আমন্ত্রণে আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর এই সম্মেলনে অংশ নেবেন তিনি- বিষয়টি নিশ্চিত করেছে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এর আগে দিনের শুরুর দিকে, চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়া-কুন নতুন দিল্লিতে শি জিনপিংয়ের সফরের বিষয়ে কোনো তথ্য নিশ্চিত করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন।

চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে চীনা প্রেসিডেন্ট ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে ভারত সফর করবেন কি না- সাংবাদিকদের এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আপনার উত্থাপিত প্রশ্নটির বিষয়ে এই মুহূর্তে দেওয়ার মতো কোনো তথ্য আমার কাছে নেই।’

এই সফরটি সাত বছরের মধ্যে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের প্রথম ভারত যাত্রা। ২০২০ সালে গালওয়ান উপত্যকায় রক্তক্ষয়ী সীমান্ত সংঘর্ষের পর দুই দেশের সম্পর্কে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়।

এর আগে ২০১৯ সালে চেন্নাইয়ের মামাল্লাপুরামে মোদীর সাথে অনানুষ্ঠানিক সম্মেলনে যোগ দিতে শেষবার ভারত সফরে এসেছিলেন শি। উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে তিনি প্রথম ভারত সফর করেন এবং পরবর্তীতে ২০১৬ সালে ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিতে গোয়া গিয়েছিলেন।

ভারত ও চীন ‘প্রতিযোগী নয়, অংশীদার’

সম্প্রতি দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে কিছুটা ইতিবাচক হাওয়া বইতে শুরু করেছে- বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে টানাপোড়েনের মুখে গত বছর প্রধানমন্ত্রী মোদীর চীন সফরের পর থেকে।

২০২০ সালের সীমান্ত সংঘর্ষের পর চীনা বিনিয়োগের ওপর ভারত যেসব কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল, বিশেষ করে ইলেকট্রনিক্স, মূলধনী পণ্য ও সৌরকোষ খাতে তা কিছুটা শিথিল করা হয়েছে।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রয়টার্সকে জানায়, চলতি মাসে কিরগিজস্তানে আয়োজিত এক আঞ্চলিক ফোরামে প্রেসিডেন্ট শি ও প্রধানমন্ত্রী মোদীর মধ্যে সংক্ষিপ্ত বৈঠক হয়। এতে দুই নেতাই একমত হন যে, উভয় দেশ ‘পরস্পরের উন্নয়নের অংশীদার, প্রতিযোগী নয় এবং একে অপরের জন্য সুযোগের রূপ, হুমকির নয়।’

তবে কূটনৈতিক বার্তা ইতিবাচক হলেও ভারতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এখন খোদ বেইজিংয়ের পক্ষ থেকেই কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে। বিশেষ করে অত্যাধুনিক উৎপাদন ও উচ্চপ্রযুক্তিভিত্তিক খাতে দেশীয় কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগের প্রস্তাবে সতর্ক রয়েছে চীন।

এসব সত্ত্বেও দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক বেশ জোরদার। চীনা কাস্টমসের তথ্যমতে, গত বছর দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ১২.৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে রেকর্ড ১৫৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে- যা ১০ বছর আগের (৭১.৬ বিলিয়ন ডলার) দ্বিগুণেরও বেশি। আর চলতি বছরের প্রথম সাত মাসেই এই বাণিজ্য আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় আরও ২৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular