ঢাকা  বুধবার, ১লা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeআন্তর্জাতিকদিল্লিতে ব্রিক্‌স সম্মেলনে যে বার্তা দিলেন নরেন্দ্র মোদী

দিল্লিতে ব্রিক্‌স সম্মেলনে যে বার্তা দিলেন নরেন্দ্র মোদী

নিউজ ডেস্ক: বিশ্বব্যাপী নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে আরও বেশি করে এগিয়ে আসতে হবে দক্ষিণ গোলার্ধের দেশগুলিকে। দিল্লিতে ব্রিক্‌স সম্মেলন থেকে এই বার্তাই দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বুঝিয়ে দিলেন, ১১ দেশের এই জোট কারও বিরুদ্ধে নয়। ব্রিক্‌স গোষ্ঠী যে আগামী দিনেও একে অন্যের পাশে থাকবে, সেই বার্তাও দিলেন তিনি। বক্তৃতায় উঠে এল রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে দ্রুত সংস্কারের দাবিও।

শনিবার বিকেলে দিল্লি সম্মেলনের ঘোষণাপত্র প্রকাশ করে ব্রিক্‌স। সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত ওই ঘোষণাপত্রে একতরফা ভাবে শুল্ক চাপানোর নিন্দা জানানো হয়েছে। গত এক বছরে বিভিন্ন দেশের উপরে একতরফা ভাবে শুল্ক চাপায় আমেরিকা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওই শুল্কনীতি বার বার সমালোচিত হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। ব্রিক্‌সের ঘোষণাপত্র একতরফা শুল্কের প্রসঙ্গে কোনও দেশের নামোল্লেখ না করলেও নিশানায় যে মার্কিন শুল্কনীতিই, তা স্পষ্ট।

বিভিন্ন দেশের উপরে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা চাপানোরও বিরোধিতা করেছে ব্রিক্‌স। এই ধরনের কোনও পদক্ষেপ সংশ্লিষ্ট দেশের উন্নয়ন, খাদ্যসুরক্ষা, স্বাস্থ্য এবং মানবাধিকারের উপরে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বস্তুত, সম্প্রতি বিভিন্ন দেশের উপরে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা চাপানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে আমেরিকাই। পাশাপাশি, কূটনীতি এবং আলোচনার মাধ্যমেই যে সংঘাতের সমাধান সম্ভব। উঠে এসেছে গাজ়ায় সংঘর্ষবিরতির কথাও। রাষ্ট্রপুঞ্জে প্যালেস্টাইনের পূর্ণ সদস্যপদের দাবিকেও সমর্থন জানিয়েছে ।

রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্য হওয়ার লক্ষ্যে বহু বছর ধরে কূটনৈতিক স্তরে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে ভারত। দাবি তুলেছে সংস্কারেরও। এ বার দিল্লিতে ব্রিক্‌স সম্মেলন থেকে ফের এক বার তা স্পষ্ট করে নরেন্দ্র মোদী। নিরাপত্তা পরিষদে অবিলম্বে সংস্কারের ডাক দিলেন তিনি। মোদীর কথায়, “নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারে আর দেরি করা চলবে না।”

প্রধানমন্ত্রীর মতে, গত দুই দশকে ‘ব্রিক্‌স’ যথেষ্ট সফল হয়েছে। বিশ্বমঞ্চে স্বতন্ত্র পরিচিতি তৈরি করেছে। এই আন্তর্জাতিক গোষ্ঠী আগামী দিনে আরও বিকশিত হবে বলে মনে করেন মোদী। আন্তর্জাতিক এই গোষ্ঠীর অষ্টাদশ শীর্ষ সম্মেলনের বক্তৃতায় তিনি বলেন, “আজ ব্রিক্‌স আরও পরিণত হওয়ার সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে রয়েছে। পরস্পরের দৃষ্টিভঙ্গিকে সম্মান করে এবং ঐকমত্যের ভিত্তিতে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। আমরা কারও বিরুদ্ধে নই। বরং, আমরা সকলেকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই।”

মোদী দক্ষিণ গোলার্ধের দেশগুলি যাতে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে আরও সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পায়, তা নিয়ে সরব হন । এ প্রসঙ্গে মন্তব্যের সময়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চের নীতি নির্ধারণ কাঠামোকে একটি পিরামিডের সঙ্গে তুলনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর কথায়, এই পিরামিডের মাথায় যে দেশগুলি রয়েছে, শুধু তারাই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে। আর পিরামিডের নীচের দিকে থাকা দেশগুলি সেই সিদ্ধান্ত এবং নীতির দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular