নিউজ ডেস্ক : সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল-২০২৬ কোরআন ও সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক—এমন দাবি করে বিলটি সংশোধনের আহ্বান জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। সংগঠনটির নেতারা বলেছেন, মুসলিম নাগরিকদের ব্যক্তিগত আইন ও ধর্মীয় বিধানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো আইন প্রণয়ন বা সংশোধনের আগে আলেম-ওলামা, ইসলামি আইন বিশেষজ্ঞ ও আইনজ্ঞদের মতামত নেওয়া প্রয়োজন।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীতে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় এসব কথা বলা হয়। সভায় সম্প্রতি জাতীয় সংসদে পাস হওয়া সম্পত্তি হস্তান্তর-সংক্রান্ত আইন নিয়ে সংগঠনের পক্ষ থেকে উদ্বেগ ও প্রতিবাদ জানানো হয়।
হেফাজতের নেতাদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট বিলটি পাসের আগে শরিয়াহ বিশেষজ্ঞদের পর্যাপ্ত মতামত নেওয়া হয়নি। তাঁদের আশঙ্কা, নতুন বিধানের ফলে মুসলিমদের হেবা বা দান-সংক্রান্ত প্রচলিত বিধানের সঙ্গে ভবিষ্যতে আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে। এ কারণে আইনটির সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে বলে মত দেন তারা।
সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল-২০২৬ সংশোধনের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে হেফাজতে ইসলামের একটি প্রতিনিধি দল। হেফাজতের আমিরের নেতৃত্বে গঠিতব্য ওই দলে সংগঠনের নেতাদের পাশাপাশি ইসলামি ফিকাহ বিশেষজ্ঞদের রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
যে বিধান নিয়ে বিতর্ক
সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল-২০২৬ মূলত ১৮৮২ সালের সম্পত্তি হস্তান্তর আইন সংশোধনের উদ্যোগ। সংসদে বিলটি ৬ সেপ্টেম্বর পাস হয়। সংশোধিত ব্যবস্থার অন্যতম আলোচিত দিক হলো—কোনো ব্যক্তি নির্দিষ্ট নিকটাত্মীয়ের কাছে সম্পত্তি দান বা হস্তান্তর করলেও জীবদ্দশায় ওই সম্পত্তির ভোগ ও দখলের অধিকার ধরে রাখতে পারবেন।
বিলটির পক্ষে সরকারের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়েছে, এর মাধ্যমে বিশেষ করে বৃদ্ধ বাবা-মায়ের জীবনকালীন আবাসন ও সম্পত্তি ভোগের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। অন্যদিকে বিরোধিতাকারীদের বক্তব্য, মানবিক উদ্দেশ্য থাকলেও মুসলিম নাগরিকদের ব্যক্তিগত আইন, হেবা এবং ভবিষ্যৎ উত্তরাধিকার-সংক্রান্ত অধিকারের সঙ্গে এর সামঞ্জস্য স্পষ্ট করা জরুরি।
হেফাজতে ইসলাম বলছে, মুসলিমদের ধর্মীয় ও ব্যক্তিগত আইন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে শরিয়াহ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। সংগঠনটি শান্তিপূর্ণ ও আইনসম্মতভাবে বিল সংশোধনের দাবি তুলে ধরার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে জনপরিসরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, সেখানে একটি বিষয় স্পষ্ট—হেফাজতে ইসলামের ‘কোরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক’ বক্তব্যটি সংগঠনটির নিজস্ব অবস্থান ও দাবি। আইনটির প্রকৃত আইনি প্রভাব, বিশেষ করে হেবা ও অন্যান্য প্রচলিত সম্পত্তি হস্তান্তর পদ্ধতির ওপর এর প্রভাব, নিয়ে সরকারি ব্যাখ্যা ও আইন বিশেষজ্ঞদের মতামতও গুরুত্বপূর্ণ। ফলে বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে যাওয়ার আগে সংশোধিত আইনের নির্দিষ্ট ধারাগুলো এবং সংশ্লিষ্ট আইনগত ব্যাখ্যা পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।-
হেফাজতের জরুরি সভায় অংশ নেওয়া নেতারা জানিয়েছেন, তাঁরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তাঁদের আপত্তি ও সংশোধনী প্রস্তাব তুলে ধরবেন। একই সঙ্গে ইসলামি ফিকাহ বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে বিষয়টি সরকারের কাছে উপস্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।




