নিউজ ডেস্ক: দূরের জেলায় নিয়োগ পাওয়া এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল নিজ এলাকায় ফেরার। আন্দোলনের মুখে অবশেষে বদলির সুযোগ মিললেও শর্তের বেড়াজাল ও জটিল নীতিমালার কারণে সেই প্রত্যাশা পূরণ হচ্ছে না।
সারা দেশে যেখানে ৮৫ হাজারের বেশি শূন্যপদ রয়েছে, সেখানে জটিলতার কারণে মাত্র ১৩ হাজার ৪১৬ জন শিক্ষক বদলির আবেদন করতে পেরেছেন। এর ওপর দ্বিতীয় ধাপে কারা আবেদন করতে পারবেন, তা নিয়েও একধরনের বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
এমন সরকারি বিজ্ঞপ্তির জটিলতায় বিপাকে পড়েছেন হাজারো শিক্ষক। তাই উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনায় শেষ ধাপের বদলি আবেদনের জন্য সার্ভার পুনরায় উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষকরা।
বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) গণবিজ্ঞপ্তির জটিলতায় দূর-দূরান্তের জেলাগুলোতে নিয়োগ পান শিক্ষক পদপ্রার্থীরা। যেমন: পঞ্চগড়ের চাকরিপ্রত্যাশীকে সিলেটের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কিংবা বান্দরবানের চাকরিপ্রত্যাশীকে যশোরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দেওয়া হয়।
চাকরির শুরুতে মাত্র সাড়ে ১২ হাজার টাকা বেতনে নিজ এলাকা ও পরিবার ছেড়ে এত দূরে গিয়ে শিক্ষকতা করা অনেকের জন্যই কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছিল। ফলে অনেক তরুণই এই পেশা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছিলেন।
শিক্ষকদের এই দুর্ভোগ লাঘব করতে সরকার অবশেষে ঐচ্ছিক বদলি প্রক্রিয়া চালু করে। তবে বদলির এই নিয়ম বা নীতিমালার বিভিন্ন শর্তের কারণে শিক্ষকদের প্রত্যাশা অনুযায়ী এটি তেমন ফলপ্রসূ হচ্ছে না এবং এতে কাঙ্ক্ষিত সাড়া মিলছে না।
এনটিআরসিএ কর্তৃক সুপারিশকৃত বাংলাদেশ শিক্ষক ফোরামের একাধিক শিক্ষক নেতা গতকাল শনিবার ‘Dhaka News 24.com’কে জানান, বদলি আবেদনের শুরুতেই সফটওয়্যারে বিষয়ভিত্তিক জটিলতা দেখা দেয়। যেমন: দর্শন ও যুক্তিবিদ্যা একই বিষয় হলেও সফটওয়্যারে এগুলো ভিন্ন ভিন্ন নামে প্রদর্শিত হয়েছিল। ফলে এই বিষয়ের শিক্ষকরা আবেদন করতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
তা ছাড়া নীতিমালায় স্তরজনিত সমস্যাও ছিল। এর কারণে উচ্চমাধ্যমিক ছাড়া অন্য কোনো স্তরের কলেজে প্রভাষকরা আবেদন করতে পারেননি। অনেক ক্ষেত্রে কলেজের প্রভাষক পদটি শূন্য থাকা সত্ত্বেও সফটওয়্যারে তা সহকারী অধ্যাপক হিসেবে প্রদর্শিত হওয়ায় প্রভাষকরা আবেদন করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন।
এসব তথ্য সংশোধনের প্রয়োজন হওয়ায় পরে মাউশি আবেদনের সময় বাড়ায়। সংশোধিত তথ্যের ভিত্তিতে ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর আবেদনের সুযোগ রাখা হয়। তবে শিক্ষকদের অভিযোগ, এ সময়ের মধ্যে অনেকেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ ও তথ্য সংশোধনের কাজে ব্যস্ত ছিলেন। পরে দ্বিতীয় ধাপে কারা আবেদন করতে পারবেন, সে বিষয়ে নতুন নির্দেশনা আসায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়।
শিক্ষকদের অভিযোগ, মাউশির পরবর্তী বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় ধাপে শুধু যেসব শিক্ষক প্রথম ধাপে তাদের তথ্য সংশোধন করেছেন, তারাই আবেদন করতে পারবেন। প্রথম ধাপে আবেদন করা শিক্ষকরা দ্বিতীয় ধাপে নতুন করে আবেদন করতে পারবেন না।
শিক্ষকদের দাবি, প্রথম বিজ্ঞপ্তিতে শুধু তথ্য সংশোধনকারীরাই পরবর্তী ধাপে আবেদন করতে পারবেন–এমন বিষয় স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল না। ফলে যারা প্রথম ধাপে আবেদন করতে পারেননি, তাদের নতুন করে আবেদনের সুযোগ দেওয়া উচিত।
তাদের মতে, নতুন করে আবেদনের সুযোগ না দিলে অনেক যোগ্য শিক্ষক বদলির প্রক্রিয়া থেকে বাদ পড়বেন। এ জন্য শেষ ধাপে সার্ভার সবার জন্য উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
গত ২১ আগস্ট বেলা ১১টা থেকে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলির আবেদন শুরু হয়। নির্ধারিত ওয়েবসাইটে মুঠোফোনে পাঠানো ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে আবেদন করার ব্যবস্থা করা হয়। ২৭ আগস্ট আবেদনের সময় শেষ হওয়ার কথা ছিল।
শিক্ষকদের অভিযোগ, অনেকে সময়মতো পাসওয়ার্ড পাননি। পাশাপাশি কারিগরি ত্রুটির কারণেও অনেকে আবেদন করতে পারেননি। পরে মাউশি আবেদনের সময় ও তথ্য সংশোধনের বিষয়ে নতুন নির্দেশনা দেয়।
তবে দ্বিতীয় ধাপে কারা আবেদন করতে পারবেন, তা নিয়ে নতুন করে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ায় শিক্ষকরা শেষবারের মতো সার্ভার উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।
মাউশির মহাপরিচালক প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমাকে শাখা থেকে সংশোধনকারীদের আবেদনের জন্য বলা হয়েছিল।
এটা নিয়ে যে সমস্যা তৈরি হয়েছে, সেটি আমার জানা নেই। আমি খোঁজ নেব। কিন্তু সার্ভার উন্মুক্তের বিষয়টি খুব সহজ নয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। আবেদনে ইচ্ছুকের সংখ্যা বেশি হলে প্রয়োজনে চেষ্টা করা হবে। না হলে আগামী বছর বদলি প্রত্যাশীরা পুনরায় আবেদন করতে পারবেন।’




