নিউজ ডেস্ক: দেশের বরেণ্য শিশু সাহিত্যিক, বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত বিশিষ্ট ছড়াকার আখতার হুসেন গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় রাজধানী ঢাকার গ্রীন রোডের গ্রীন লাইফ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি হয়েছেন।
বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর প্রথম দিককার প্রায় সব নাটকের রচয়িতা ও নির্দেশক আখতার হুসেন বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন অমিত দে।
১৯৪৫ খ্রিষ্টাব্দের ১ নভেম্বর জন্ম নাটোর জেলার লালপুর উপজেলার নুরুল্লাপুর গ্রামে জন্ম আখতার হুসেনের৷ শিশুসাহিত্যের এই অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্বের পেশাগত জীবন শুরু হয়েছিল সাংবাদিকতার মাধ্যমে।
কর্মজীবনে তিনি ৩০ থেকে ৪০টি বই সম্পাদনা করেছেন এবং ছড়া, গল্প, ছোটোগল্প ও নাটক মিলিয়ে প্রায় ৮০টির মতো গ্রন্থ রচনা করেছেন। ছোটোদের জন্য মৌলিক গ্রন্থ রচনার পাশাপাশি তিনি অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ সংকলন গ্রন্থ সম্পাদনা করেছেন।
তার সম্পাদিত গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘দুই বাংলার কবিতায় বঙ্গবন্ধু’, ‘দুই বাংলার মুক্তিযুদ্ধের কবিতা’, ‘সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী গল্প’, ‘বাংলা ভাষার শ্রেষ্ঠ দেশপ্রেমের গান’, ‘বাংলা সাহিত্যের সেরা উপদেশমূলক কবিতা’, ‘বাংলা সাহিত্যের সেরা গল্পভিত্তিক উপদেশমূলক কবিতা’, ‘বাংলা সাহিত্যের সেরা কিশোর কবিতা’, যৌথ সম্পাদনায় ‘বাংলাদেশের বাছাই কিশোর কবিতা’ ও ‘ছোটোদের প্রিয় কবিতা’, অনুবাদমূলক সংকলন ‘ও হেনরি শ্রেষ্ঠ গল্প’, ‘মোপাসাঁ শ্রেষ্ঠ গল্প’, ‘ম্যাক্সিম গোর্কি শ্রেষ্ঠ গল্প’, ‘মার্ক টোয়েন শ্রেষ্ঠ গল্প’ এবং প্রকাশনার অপেক্ষায় থাকা ‘হাবীবুর রহমান রচনাবলি’।
জীবনীভিত্তিক সাহিত্যকর্মেও তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। তিনি রচনা করেছেন ‘ভাষা শহীদ আবদুল জব্বার’, ‘কিশোর শহীদ মতিউর রহমান’, ‘হাবীবুর রহমান’ এবং ‘কাজি আফসারউদ্দিন আহমেদ’-এর জীবনী। এছাড়া তিনি যৌথ সম্পাদক হিসেবে কাজ করেছেন ‘সত্যেন সেন স্মারক গ্রন্থ’, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসের অ্যালবাম’ এবং ‘আলতাফ আলী হাসু স্মারক গ্রন্থ’-এ।
বাংলাদেশ শিশু একাডেমি থেকে প্রকাশিত ৫ খণ্ডের ‘শিশু-বিশ্বকোষ’-এর সর্বোচ্চ সংখ্যক লেখক হিসেবেও ভূমিকা রেখেছেন আখতার হুসেন। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত তার রচিত বিখ্যাত গান ‘স্বাধীন স্বাধীন দিকে আজ জাগছে বাঙালিরা / আজ রুখবে তাদের কারা’ সে সময় বিপুল জনপ্রিয়তা লাভ করেছিল।
সাহিত্যে অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বহু সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ‘আলাওল সাহিত্য পুরস্কার’, ‘বাংলাদেশ শিশু একাডেমী পুরস্কার’, ‘ভাষা শহিদ আবদুল জব্বার স্মৃতিপদক’, ‘বাংলা একাডেমি পুরস্কার’ সহ অসংখ্য পুরস্কার৷




