ফারজানা আক্তার বৃষ্টি, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি : লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলা উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের পশ্চিম চরঘাসিয়া গ্রামের চান্দার খালের ওপর স্থায়ী সেতু নেই। স্থানীয় লোকজনের চাঁদায় নির্মিত অস্থায়ী পাটাতনটির একাংশ সম্প্রতি জোয়ারের পানিতে ভেঙে গেছে। এতে ঝুঁকি নিয়ে খাল পারাপার করছেন কয়েক হাজার মানুষ। বিশেষ করে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, নারী ও বয়স্কদের দুর্ভোগ বেড়েছে। ভয়ে অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে যাওয়া কমিয়ে দিয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, খালের ওপর সেতু না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ২০২১ সালে এলাকাবাসী নিজেদের উদ্যোগে চাঁদা তুলে প্রায় চার লাখ টাকা ব্যয়ে খালের ওপর চলাচলের জন্য একটি অস্থায়ী পাটাতন নির্মাণ করেন। সম্প্রতি অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে পাটাতনের পশ্চিম পাড়ের অংশ ভেঙে যায়। পরে ভাঙা অংশে বাঁশের চাটাই বিছিয়ে কোনোভাবে চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
পশ্চিম চরঘাসিয়া গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের আয়তন অন্য ওয়ার্ডগুলোর তুলনায় বড়। এ ওয়ার্ডে ভোটার প্রায় সাড়ে সাত হাজার। চান্দার সংযোগ খালের দুই পাড়ে বসবাসকারী মানুষ ছাড়াও চরঘাসিয়া, চর ইন্দুরিয়া, চর জালিয়া, নতুন কানিবগার চর এবং মেঘনা নদীর পশ্চিম পাড়ের বরিশালের হিজড়ার কিছু মানুষ এই পথ দিয়ে যাতায়াত করেন।
স্থানীয়দের মেঠোপথ ধরে খাল পার হয়ে চরবংশীর খাসেরহাট ও রায়পুরে যাতায়াত করতে হয়। অনেক দূর পর্যন্ত কাঁচা রাস্তা থাকায় কৃষিপণ্য পরিবহনেও তাঁদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা মনু মাঝি বলেন, ‘আগে এখানে সাঁকো ছিল। কিছুদিন পর পর সেটি জরাজীর্ণ হয়ে গেলে ঝুঁকি নিয়ে মানুষ চলাচল করত। অনেক শিশু ও নারী সাঁকো থেকে পড়ে আহত হয়েছেন। পরে এলাকার মানুষের কাছ থেকে চাঁদা তুলে খালের ওপর পাটাতন তৈরি করা হয়। কিন্তু জোয়ারের পানি খাল দিয়ে ঢোকার সময় পাটাতনের একাংশ ধসে পড়ে। এরপর চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে ভাঙা অংশে বাঁশের চাটাই বিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।’
করিম মাঝি নামের আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা ভালো না হওয়ায় চরের মানুষকে পণ্য নিয়ে মাইলের পর মাইল কাদাযুক্ত কাঁচা রাস্তা দিয়ে হাঁটতে হয়। চরের জমিতে ব্যাপকভাবে সয়াবিন, ধান ও সবজি আবাদ হয়। কিন্তু কৃষিপণ্য ঘরে তোলা কিংবা বাজারে নেওয়ার জন্য কোনো পরিবহন পাওয়া যায় না। কাঁচা রাস্তা সলিং করা এবং খালের ওপর সেতু নির্মাণ করা হলে এই এলাকার মানুষের দুর্ভোগ অনেকটা কমবে।’
আরেক বাসিন্দা মনু মিয়া বলেন, ‘চরের কোনো মানুষ অসুস্থ হলে সহজে হাসপাতাল বা চিকিৎসকের কাছে নেওয়া যায় না। রোগীকে কাঁধে করে নিয়ে যেতে হয়। পাটাতন ভেঙে যাওয়ায় এখন ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন ও মানুষ চলাচল করছে। একটি সেতু না থাকায় আমাদের দুর্ভোগের শেষ নেই। আমরা সরকারের কাছে এখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের জোর দাবি জানাচ্ছি।’
পশ্চিম চরঘাসিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘ভেলা দিয়ে খাল পার হওয়ার সময় আমিও পানিতে পড়ে গেছি। ভয়ে বিদ্যালয়ে ছোট ছাত্রছাত্রীরা কম আসছে। অনেকে সাঁতরে এসে পাড়ে জামাকাপড় বদলে বিদ্যালয়ে আসে। সবার দাবি, খালের ওপর একটি সেতু নির্মাণ করা হোক। সরকার নজর দিলে আমরা এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাব।’
এ বিষয়ে রায়পুর উপজেলা প্রকৌশলী বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত রয়েছি। জনদুর্ভোগ লাঘবে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’



