ঢাকা  বুধবার, ১লা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeউৎসব/দিবসশ্রীমঙ্গলে গারো সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী বড় উৎসব "ওয়ানগালা'' উদযাপিত

শ্রীমঙ্গলে গারো সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী বড় উৎসব “ওয়ানগালা” উদযাপিত

মো: জহিরুল ইসলাম,স্টাফ রিপোর্টার মৌলভীবাজার : গারো জাতিগোষ্ঠীর বিশ্বাস, ‘মিশি সালজং’ বা শস্যদেবতার ওপর ভরসা রাখলে ফসলের ভালো ফলন হয়। গারোরা নতুন ফসল ধান, ফল, সবজি ইত্যাদি ঘরে তুলে নিজেরা খাওয়ার আগে মিসি সালজংকে উৎসর্গ করত। এখন গারোরা খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করার পর নতুন ফসল যিশুখ্রিষ্টের নামে উৎসর্গ করে।

অনুষ্ঠানস্থলে নানা রকমের নিজস্ব বাহারি পোশাক পরে এসেছেন আদিবাসী গারো সম্প্রদায়ের লোকজন। অনুষ্ঠানস্থলে আশপাশের গারো জনগোষ্ঠী ছাড়াও বিভিন্ন আদিবাসী জাতিসত্তার লোকজন আসেন এ উৎসব দেখতে । এক জায়গায় গোল করে ঝুড়ির মধ্যে রাখা হয়েছে জমি থেকে তুলে আনা নতুন ফসল।

সৃষ্টিকর্তার নামে এই নতুন ফসলগুলো উৎসর্গ করার পাশাপাশি নিজস্ব সংস্কৃতির নাচগান ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে গারো জনগোষ্ঠী পালন করল তাদের ঐতিহ্যবাহী বড় উৎসব ওয়ানগালা।

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের ফুলছড়া ( কালাপুর গারো পল্লী) অনুষ্ঠিত হয়েছে ওয়ানগালা গারোদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উৎসব। ‘ওয়ান’ শব্দের অর্থ দেব-দেবীর দানের দ্রব্যসামগ্রী আর ‘গালা’ অর্থ উৎসর্গ করা। দেব-দেবীর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও মনোবাসনার নানা নিবেদন হয় এ উৎসবে। সাধারণত বর্ষার শেষে ও শীতের আগে নতুন ফসল তোলার পর এ উৎসবের আয়োজন করা হয়।

রোববার (১ পহেলা ডিসেম্বর) সকাল থেকে ওয়ানগালাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন জায়গা থেকে গারো জনগোষ্ঠীর লোকজন ফুলছড়া গারো লাইন এলাকায় জড়ো হন। গারো জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি খ্রিষ্টধর্মাবলম্বী বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মানুষ এই উৎসবে অংশ নেন। প্রার্থনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ঐতিহ্যবাহী খাওয়াদাওয়ার মধ্য দিয়ে গারো জনগোষ্ঠী উদ্‌যাপন করে নতুন ফসল ঘরে তোলার উৎসব ওয়ানগালা। উৎসবে নতুন ফসল ঘরে তোলার বিভিন্ন অনুষঙ্গ নৃত্য গীতের মধ্য দিয়ে উপস্থাপন করা হয়।

দুপুরে ওয়ানগালা উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে । সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শ্রীমঙ্গল ক্যাথলিক মিশনের ফাদার ড.জেমস শ্যামল গমেজ সিএসসি প্রধান পুরোহিত,

এসময় ওয়ানগালা উৎসবের ফাদার ড.জেমস শ্যামল গমেজ সিএসসি প্রধান পুরোহিত’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা মো: ইসলাম উদ্দিন।
বিশেষত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রীমঙ্গল সহকারী কমিশনার (ভূমি), সালাউদ্দিন বিশ্বাস, ফিনলে চা বাগানের ডিস্টশন ডিভিশনের উপ মহা ব্যবস্থাপক হুমায়ূন কবির মজুমদার , ডানকান ব্রাদাস লিমিটেড মাজদিহি চা বাগান ব্যবস্থাপক মো: শাহরিয়া পারভেজ, হরিণচড়া ফিনলে চা বাগান ব্যবস্থাপক বিকাশ সিনহা এবং জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্য প্রীতম পাল সহ প্রমুখ

গারো সম্প্রদায়ের বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আগে নতুন খাদ্যশস্য ভোজন নিষেধ থাকে এ সম্প্রদায়ের জন্য। তাই অনেকেই একে নবান্ন বা ধন্যবাদের উৎসবও বলে থাকেন। গারোরা নিজেদের ‘আচিক মান্দি’ বা ‘পাহাড়ি মানুষ’ হিসেবে পরিচয় দিতে অধিক পছন্দ করে। তবে সমতলের গারোরা নিজেদের শুধুই ‘মান্দি’ বা ‘মানুষ’ হিসেবে পরিচয় দেয়। গারোদের বিশ্বাস, ‘মিসি সালজং’ বা শস্যদেবতার ওপর নির্ভর করে ফসলের ভালো ফলন। নতুন ফল ও ফসল ঘরে উঠবে, তার আগে কৃতজ্ঞতা জানাতেই হবে শস্যদেবতার প্রতি। গারো সম্প্রদায়ের এটাই নিয়ম। তাই শস্যদেবতাকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ও নতুন ফসল খাওয়ার অনুমতির জন্য নেচে-গেয়ে উদ্‌যাপন করা হয় ঐতিহ্যবাহী ওয়ানগালা উৎসব। একই সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের মঙ্গল কামনা করা হয় শস্যদেবতার কাছে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular