ঢাকা  শুক্রবার, ১০ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeআন্তর্জাতিকড্রোন হামলার প্রতিবাদে আফগানিস্তানের ১০ জায়গায় পাকিস্তানের বিমান হামলা

ড্রোন হামলার প্রতিবাদে আফগানিস্তানের ১০ জায়গায় পাকিস্তানের বিমান হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:  আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে ১০ জায়গায় বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদ দাবি করেছে, একদিন আগে এসব স্থান থেকেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ড্রোন ও ভারী অস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালানো হয়েছিল।

দু’দেশের সীমান্ত অঞ্চলে নতুন করে এ সংঘাতের কারণে প্রতিবেশী রাষ্ট্র দুটির মধ্যে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে, যা আঞ্চলিক শক্তিগুলোর মধ্যস্থতার প্রচেষ্টাকে বড় ধরনের হুমকির মুখে ফেলেছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্ব) ভোরে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে এ বিমান হামলার কথা নিশ্চিত করেন।

এর আগে পাকিস্তানি কর্মকর্তারা জানান, আফগান তালেবান বাহিনী আটটি প্রাথমিক স্তরের (রুডিমেন্টারি) ড্রোন ও মর্টার শেল দিয়ে পাকিস্তানি সীমান্ত চৌকিগুলোতে হামলা চালায়। এর ঠিক আগেই পাকিস্তানি বাহিনী সীমান্তে জঙ্গিদের একটি অনুপ্রবেশের চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছিল বলে দাবি করে।

পাকিস্তানের সাম্প্রতিক এ হামলার বিষয়ে কাবুলের তালেবান সরকারের কাছ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

তবে আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বুধবার আফগান বাহিনী কর্তৃক কোনো ধরনের হামলার কথা অস্বীকার করেছেন। এর দু’দিন আগেই পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান পূর্ব আফগানিস্তানের বেশ কিছু স্থানে হামলা চালিয়েছিল, যাকে পাকিস্তান জঙ্গিদের আস্তানা বলে দাবি করে।

পাকিস্তানি কর্মকর্তারা বুধবার জানান, আফগান তালেবানের ছুঁড়ে মারা আটটি ড্রোন উত্তর-পশ্চিমের শহর কোহাত এবং সীমান্ত শহর তোরখামে প্রবেশের আগেই সেগুলোকে গুলি করে ভূপাতিত করা হয়। তারা জানান, ড্রোনগুলো ধ্বংস করায় কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি এবং এতে পাকিস্তানের সীমান্ত সতর্কতার প্রতিফলন ঘটেছে।

এ সপ্তাহের সামরিক পদক্ষেপগুলোর মধ্য দিয়ে সীমান্ত অঞ্চলে গত কয়েক সপ্তাহের আপেক্ষিক শান্তি ভেঙে পড়ল। এর আগে, চলতি মাসের শুরুর দিকে সীমান্ত অতিক্রম করার সময় ১৫ জন জঙ্গিকে নিহত করার দাবি করে পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনী।

চারজন স্থানীয় পাকিস্তানি কর্মকর্তা জানান, আফগান তালেবান বাহিনীর সহায়তায় পাকতিয়া ও নানগারহার প্রদেশের সীমান্ত চৌকিগুলোর কাছাকাছি অঞ্চল দিয়ে জঙ্গিরা অনুপ্রবেশের চেষ্টা করে। পাকিস্তানি কর্মকর্তারা এই জঙ্গিদের “ফিতনা-উল-খাওয়ারিজ” নামে অভিহিত করেন-যা মূলত তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-কে চিহ্নিত করতে ব্যবহার করে ইসলামাবাদ।

পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে যে, তালেবান সরকার তাদের ভূখণ্ড থেকে পাকিস্তানি বিরোধী জঙ্গিদের কার্যক্রম চালানোর সুযোগ দিচ্ছে, যদিও কাবুল এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, অনুপ্রবেশের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর আফগান তালেবান বাহিনী ভারী অস্ত্র ও মর্টার দিয়ে পাকিস্তানি চৌকিতে গোলাবর্ষণ শুরু করে। জবাবে পাকিস্তানি বাহিনীও তালেবানদের সীমান্ত অবস্থান, মর্টার সাইট ও প্রতিরক্ষা ঘাঁটি লক্ষ্য করে কামান থেকে পাল্টা গোলাবর্ষণ করে। এতে আফগান বাহিনী ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়ে বেশ কিছু পোস্ট ছেড়ে পিছু হটতে বাধ্য হয়।

সীমান্তের এই সাম্প্রতিক সংঘাত চীন, তুরস্ক, কাতার এবং সৌদি আরবের মতো আঞ্চলিক দেশগুলোর টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার মধ্যস্থতার প্রচেষ্টাকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করছে।

সূত্র: এনডিটিভি

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular