ঢাকা  রবিবার, ১২ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeজাতীয়অপরাধে জড়ালে পুলিশ সদস্যদের বিভাগীয় ও ফৌজদারি ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অপরাধে জড়ালে পুলিশ সদস্যদের বিভাগীয় ও ফৌজদারি ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক : পুলিশের কোনো সদস্য শৃঙ্খলাভঙ্গ, দায়িত্বে অবহেলা বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়ালে বিভাগীয় শাস্তির পাশাপাশি প্রচলিত ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

আজ শনিবার সকালে রাজধানীর রাজারবাগে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে ‘পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬-এর পদক প্রদান’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুলাই ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের চেতনা, জনআকাঙ্ক্ষা ও জনপ্রত্যাশাকে ধারণ করে পুলিশকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর, মানবিক ও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। জনগণের আস্থা ছাড়া কোনো আইন প্রয়োগকারী সংস্থা দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে না।

তিনি বলেন, পুলিশকে দক্ষতা ও পেশাদারত্বে আধুনিক, প্রযুক্তিতে সক্ষম, আচরণে মানবিক, আইন প্রয়োগে দৃঢ় এবং দায়িত্ব পালনে নিরপেক্ষ হতে হবে। পুলিশের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো মানুষের আস্থা অর্জন।

পদকপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের অভিনন্দন জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, রাষ্ট্রীয় পদক শুধু কৃতিত্বের স্বীকৃতি নয়; এর সঙ্গে দেশ ও জনগণের প্রতি দায়িত্বও বেড়ে যায়।

বিগত সরকারের সময়ে পুলিশকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করানো হয়েছিল বলে মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার পুলিশের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার ও জনআস্থা ফিরিয়ে আনতে প্রাতিষ্ঠানিক, আইনি ও প্রশাসনিক সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে।

পুলিশের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা ও শৃঙ্খলাভঙ্গের প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ভালো কাজের জন্য পুরস্কার এবং দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা বা অপরাধে জড়ালে শাস্তির ব্যবস্থা থাকবে। পুলিশের সদস্যদের সংশোধনের সুযোগও দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।

পুলিশের সক্ষমতা ও আইনি সংস্কারের বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জন-আকাঙ্ক্ষা ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের মানদণ্ড বিবেচনায় নিয়ে বিভিন্ন আইন ও কাঠামো সংস্কার করা হয়েছে। আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নকে (এপিবিএন) আধুনিকায়নের জন্য নতুন আইন প্রণয়ন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তদন্তের ক্ষমতা দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে সাহসিকতা, সততা, দক্ষতা, নিষ্ঠা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদ্‌ঘাটন ও জনসেবায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশের ৯২ জন সদস্যকে বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম), বিপিএম-সেবা, রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম) ও পিপিএম-সেবা দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন পুলিশ হেডকোয়ার্টারের অতিরিক্ত আইজিপি (এইচআরএম) খন্দকার রফিকুল ইসলাম।

এ সময় পুলিশ হেডকোয়ার্টারের অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) এ কে এম আওলাদ হোসেনসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার, পদকপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular