নিউজ ডেস্ক: সংবিধানে মৌলিক কোনো পরিবর্তন বা সংশোধন আনা হলে তা গণভোটের মাধ্যমে চূড়ান্ত করা হবে বলে জানিয়েছে সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি।
সংবিধানে মৌলিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে জনগণের মতামত নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছে কমিটি। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজন হলে আবারও গণভোট আয়োজন করা হবে।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে বিশেষ কমিটির তৃতীয় বৈঠকে গণমাধ্যমের সম্পাদক, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও সাংবাদিক সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ অবস্থান জানানো হয়। দুপুর আড়াইটায় শুরু হয়ে বৈঠকটি বিকেল সোয়া ৫টা পর্যন্ত চলে।
কমিটির চেয়ারম্যান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, মৌলিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে জনগণের মতামত নেওয়ার জন্য গণভোটের বিধান রয়েছে। এবার যেহেতু মৌলিক পরিবর্তনের বিষয় রয়েছে, তাই আবারও সাংবিধানিক গণভোট হতে পারে।
বৈঠকে আগামী বছরের শুরুতে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই সংবিধান সংশোধন বিল পাসের লক্ষ্যে কাজ করার কথা জানানো হয়। এর আগে বিভিন্ন অংশীজনের মতামত নিয়ে বিলটি চূড়ান্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মতবিনিময়ে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশেষ কমিটিতে বিরোধী দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য সর্বোচ্চ উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা। জবাবে সালাহউদ্দিন আহমেদ বিরোধী দলকে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানোর কথা জানান।
বৈঠকে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য আনার বিষয়েও মতামত দেন সাংবাদিকরা। প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা অতিরিক্ত কেন্দ্রীভূত না রাখার পাশাপাশি সরকারি নিয়োগে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার বিষয়ে সাংবিধানিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
এ ছাড়া বাতিল হওয়া তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল এবং ভবিষ্যতে যাতে সহজে তা বাতিল করা না যায়, সে জন্য সংবিধানে কার্যকর সুরক্ষা রাখার বিষয়েও আলোচনা হয়।
উল্লেখ্য, জুলাই জাতীয় সনদের ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবের মধ্যে ৪৮টি সংবিধান-সম্পর্কিত। এসব সংস্কার বাস্তবায়নে অন্তর্বর্তী সরকার ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ’ জারি করেছিল। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে এসব সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে গণভোটও অনুষ্ঠিত হয়। পরে গত ১৩ জুলাই জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদকে সভাপতি করে ১২ সদস্যের সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে বিরোধী দলের পাঁচজন প্রতিনিধি রাখার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তারা এখনো নাম দেয়নি।




