ঢাকা  বৃহস্পতিবার, ১৬ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ১লা অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeখেলাসিটির মহাবিপদে অবশেষে নীরবতা ভাঙলেন গার্দিওলা

সিটির মহাবিপদে অবশেষে নীরবতা ভাঙলেন গার্দিওলা

ক্রীড়া ডেস্ক: ম্যানচেস্টার সিটি যখন আর্থিক নিয়মভঙ্গের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে বড় ধরনের সংকটের মুখোমুখি, ঠিক তখনই ক্লাবের প্রতি সমর্থন জানিয়ে সামনে এলেন ক্লাবটির ইতিহাসের সবচেয়ে সফল কোচ পেপ গার্দিওলা।

প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক নিয়মভঙ্গের দায়ে সিটি দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের নীরবতা ভাঙলেন গার্দিওলা। সেখানে ক্লাবের মালিকপক্ষ, কর্মকর্তা, খেলোয়াড় ও সমর্থকদের প্রতি নিজের অবিচল আস্থার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন কিংবদন্তি ম্যান সিটির কিংবদন্তি কোচ।

ইনস্টাগ্রামে সিটির চেয়ারম্যান খালদুন আল মুবারকের সঙ্গে নিজের একটি ছবি পোস্ট করে গার্দিওলা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন—এমন কঠিন ও দুর্যোগপূর্ণ সময়েও ক্লাবের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক আগের মতোই অটুট রয়েছে।

গার্দিওলা লেখেন, ‘বিশ্বজুড়ে থাকা ম্যানচেস্টার সিটির প্রতিটি সমর্থককে আমি জানাতে চাই, অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে আমি এখন আরও বেশি আপনাদের পাশে আছি। আমি সবসময় আমার ক্লাব, আমার মালিক, চেয়ারম্যান, ফেরান (সোরিয়ানো), খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ, এনজো (মারেস্কা) এবং আমাদের অনন্য সমর্থকদের পাশে ছিলাম, আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব। একটি বিষয় স্পষ্ট করে বলি: আমরা সবাই মিলে এই সংকট কাটিয়ে উঠব। আপনাদের সবাইকে ভালোবাসি।’

২০০৯-১০ থেকে ২০১৭-১৮ মৌসুমের মধ্যে প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক নিয়ম গুরুতরভাবে লঙ্ঘনের জন্য স্বাধীন কমিশন সিটিকে দোষী সাব্যস্ত করার পরদিনই গার্দিওলার এই আবেগঘন বার্তা সামনে এল।

তদন্ত প্রতিবেদনে কমিশন উল্লেখ করে, স্পন্সরদের সঙ্গে ‘ভুয়া’ ও জালিয়াতিপূর্ণ চুক্তি দেখিয়ে ক্লাবের আয় কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে এবং খরচ কমিয়ে দেখানোর এক ছক এঁকেছিল সিটি, যেখানে মূল অর্থায়ন এসেছিল আবুধাবি ইউনাইটেড গ্রুপ থেকে।

এছাড়া ক্লাবটি তাদের আর্থিক হিসাবপত্রে জালিয়াতি করেছে, প্রকৃত আর্থিক অবস্থা গোপন রেখেছে এবং প্রিমিয়ার লিগ ও ইউয়েফার খরচের নির্ধারিত সীমা ব্যাপকভাবে লঙ্ঘন করেছে বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়।

প্রিমিয়ার লিগের তদন্তে অসহযোগিতার চারটির মধ্যে তিনটি অভিযোগও স্বাধীন কমিশনের রায়ে প্রমাণিত হয়েছে।

তবে এই রায় পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে ম্যানচেস্টার সিটি এবং তারা জানিয়েছে, এর বিরুদ্ধে তারা আপিল করতে যাচ্ছে। আপিল আবেদন জমা দেওয়ার জন্য ক্লাবটিকে ২ অক্টোবর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। তবে সিটির বিরুদ্ধে কী ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা পরবর্তীতে আলাদাভাবে নির্ধারণ করা হবে।

গার্দিওলার জন্য এই রায় এক বড় ধরনের আবেগের ধাক্কা, কারণ ইত্তিহাদে যে এক দশক তিনি কাটিয়েছেন, তা ম্যানচেস্টার সিটির ইতিহাসের সবচেয়ে সফল সোনালী অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত।

২০১৬ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর ইংলিশ ও ইউরোপীয় ফুটবলে সিটিকে এক একক পরাশক্তিতে পরিণত করেন এই স্প্যানিশ কোচ। তাঁর অধীনে দলটি জয় করে ৬টি প্রিমিয়ার লিগ, ৩টি এফএ কাপ, ৫টি লিগ কাপ, ৩টি কমিউনিটি শিল্ড, ১টি করে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, উয়েফা সুপার কাপ ও ফিফা ক্লাব ওয়ার্ল্ড কাপ। 

গার্দিওলার সেরা সাফল্য আসে ২০২২-২৩ মৌসুমে, যখন প্রিমিয়ার লিগ, এফএ কাপ ও চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতে ঐতিহাসিক ‘ট্রেবল’ জেতে সিটি। এ ছাড়া ২০২০-২১ থেকে ২০২৩-২৪ মৌসুমের মধ্যে টানা চারবার প্রিমিয়ার লিগ জেতার নজিরবিহীন রেকর্ডও গড়ে তাঁর দল।

ইত্তিহাদ স্টেডিয়ামে নিজের ১০ বছরের অধ্যায় শেষ করার আগে ২০টি ট্রফি জিতে নিজেকে সিটির ইতিহাসের সর্বকালের সবচেয়ে সফল কোচ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন গার্দিওলা।

যদিও কমিশনের এই তদন্ত ২০০৯ সাল থেকে শুরু হওয়া সময়সূচির ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে—যার একটি বড় অংশে গার্দিওলা ক্লাবে ছিলেন না—তবুও তাঁর মেয়াদের প্রথম দিকের কিছু সময় এই তদন্তসীমার মধ্যে পড়ে গেছে।

আইনি লড়াইয়ের পরবর্তী ধাপ ও আপিলের প্রস্তুতি নেওয়ার এই সংকটকালে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে গার্দিওলা পুনারাবৃত্তি করেন, ‘আমি আমার ক্লাবের পাশে ছিলাম, আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব। সবাই মিলে আমরা এই কঠিন সময় পার হব।’

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular