ঢাকা  শুক্রবার, ১৭ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২রা অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeঅপরাধশুল্কমুক্ত মদ রাখায় চার গুদাম সিলগালা

শুল্কমুক্ত মদ রাখায় চার গুদাম সিলগালা

নিউজ ডেস্ক : অননুমোদিত গুদামে শুল্কমুক্ত মদসহ বন্ড সুবিধায় আমদানি করা পণ্য মজুতের অভিযোগে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুর শেখ নুর ইসলামের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ‘টস বন্ড প্রাইভেট লিমিটেড’-এর চারটি গুদাম সিলগালা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) গভীর রাতে রাজধানীর দক্ষিণ গুলশানে প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়ে যৌথ অভিযান চালিয়ে গুদামগুলো সিলগালা করা হয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি), মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং বিশেষায়িত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এ অভিযান পরিচালনা করেন।

অভিযানসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ‘টস বন্ড প্রাইভেট লিমিটেড’-এর অনুমোদিত বা ঘোষিত ওয়্যারহাউসের সংখ্যা ছিল দুটি। তবে সরেজমিন পরিদর্শনে প্রতিষ্ঠানটির মোট চারটি গুদামে পণ্য মজুতের তথ্য পাওয়া যায়। এর মধ্যে দুটি গুদাম অনুমোদিত সীমার বাইরে ছিল বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

প্রাথমিক পরিদর্শনে গুরুতর কিছু অসংগতি পাওয়ায় অধিকতর যাচাই ও তদন্তের স্বার্থে চারটি গুদামই সিলগালা করা হয়। এর মাধ্যমে বন্ড সুবিধায় আমদানি করা শুল্কমুক্ত পণ্য অননুমোদিত স্থান থেকে সরিয়ে নেওয়া বা অন্যত্র স্থানান্তরের সুযোগ বন্ধ রাখার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ‘টস বন্ড’ একটি কূটনৈতিক বন্ডেড ওয়্যারহাউস হিসেবে বিদেশি কূটনীতিকদের শুল্কমুক্ত অ্যালকোহল সরবরাহ করে থাকে। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে শুল্কমুক্ত পণ্য খোলাবাজারে বিক্রির অভিযোগ ওঠার পর কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন সংস্থা বিষয়টি অনুসন্ধান করছিল।

তবে গুদাম সিলগালা করাকে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত অপরাধ প্রমাণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো বর্তমানে তথ্য-প্রমাণ যাচাই ও তদন্ত করছে। তদন্ত শেষে অভিযোগের বিষয়ে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এনবিআর-সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, চারটি গুদাম সিলগালা করার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির বন্ড সুবিধায় আমদানি করা পণ্যের হিসাব ও সংরক্ষণব্যবস্থা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শুল্কমুক্ত পণ্য অনুমোদিত গুদামের বাইরে কীভাবে মজুত হলো, সে বিষয়টিও যাচাই করা হচ্ছে।

এদিকে শেখ নুর ইসলাম ও তাঁর পরিবারের ব্যবসা, আর্থিক লেনদেন এবং বিদেশি নাগরিকত্বসংক্রান্ত কিছু তথ্য নিয়েও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর অনুসন্ধানের কথা বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে। তবে এসব বিষয়ে তদন্ত এখনো চলমান এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে কোনো অভিযোগকে প্রমাণিত হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না।-

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্ত ও যাচাই-বাছাই শেষে বিষয়টি সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেলে সে অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular