ঢাকা  শুক্রবার, ১৭ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২রা অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeখেলাদুই ফুটবলার সাদ-সোহেলের নাইটক্লাব ভিডিও নিয়ে ব্যাখ্যা

দুই ফুটবলার সাদ-সোহেলের নাইটক্লাব ভিডিও নিয়ে ব্যাখ্যা

নিউজ ডেস্ক: ফিফা আসিয়ান কাপে ইন্দোনেশিয়ার কাছে বাংলাদেশের ৯-২ গোলের পরাজয়ের পর জাতীয় দলের দুই ফুটবলার সাদ উদ্দিন ও সোহেল রানাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নাইটক্লাবের ভিডিও ও ছবি নিয়ে নতুন ব্যাখ্যা দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ইন্দোনেশীয় তরুণী। তরুণীর দাবি, ছবি ও ভিডিওগুলো জাকার্তায় নয়, প্রায় দুই মাস আগে নেপাল সফরের সময় ধারণ করা। তবে এ দাবির সঙ্গে তাঁর আগের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টের পার্থক্য থাকায় বিষয়টি নিয়ে এখনও কিছু প্রশ্ন রয়ে গেছে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) জাকার্তার গেলোরা বুং কার্নো স্টেডিয়ামে ফিফা আসিয়ান কাপের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ইন্দোনেশিয়ার কাছে ৯-২ গোলে হারে বাংলাদেশ। ম্যাচটি ছিল বাংলাদেশের টুর্নামেন্টের শেষ ম্যাচ। ইন্দোনেশিয়া বড় ব্যবধানে জিতে গ্রুপের শীর্ষস্থান নিশ্চিত করে ফাইনালে ওঠে। ম্যাচে মিচেল বেকার একাই পাঁচ গোল করেন।

ছবি: সংগৃহীত।

এই হারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ও কয়েকটি ছবি ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে সাদ উদ্দিন ও জুনিয়র সোহেল রানাকে কয়েকজন নারীর সঙ্গে একটি নাইটক্লাবসদৃশ স্থানে দেখা যায়। একটি ভিডিওতে সাদকে গানের সঙ্গে নাচতেও দেখা যায়। ছবি ও ভিডিওগুলো ইন্দোনেশিয়ার এক তরুণীর এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে প্রথমে প্রকাশ করা হয়েছিল।

ভিডিওগুলো প্রকাশের সময় বাংলাদেশের ৯-২ গোলের পরাজয়ের সঙ্গে ঘটনাটিকে যুক্ত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ে। তবে ছবি বা ভিডিওগুলো ম্যাচের দিন কিংবা জাকার্তায় ধারণ করা হয়েছে—এমন প্রমাণ ওই পোস্টগুলোতে ছিল না।

শুক্রবার এক পোস্টে ওই তরুণী জানান, ভাইরাল হওয়া ছবি ও ভিডিওগুলো প্রায় দুই মাস আগে নেপালে তোলা। তিনি বলেন, সেখানেই তাঁর সঙ্গে কিছু বাংলাদেশি ফুটবলারের পরিচয় হয়েছিল। ভ্রমণের সময় তিনি সাধারণত ছবি বা ভিডিও প্রকাশ করেন না এবং পরে সেগুলো পোস্ট করেন—এমন ব্যাখ্যাও দিয়েছেন। পোস্ট নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি হয়ে থাকলে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।

অন্যদিকে সাদ উদ্দিন ও সোহেল রানা শুরু থেকেই দাবি করে আসছেন, ভিডিও ও ছবিগুলো আসিয়ান কাপের সময় জাকার্তায় ধারণ করা নয়। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, জাতীয় দলের ক্যাম্প শুরুর আগে তাঁরা নেপালে ঘুরতে গিয়েছিলেন। সেখানে একটি ক্লাবে ওই তরুণীর সঙ্গে তাঁদের পরিচয় হয়। সাদ ও সোহেলের বক্তব্যও সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

তবে বিষয়টিকে আরও জটিল করেছে ওই তরুণীর আগের একটি পোস্ট। সেখানে তিনি জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশি ফুটবলারদের সঙ্গে তাঁর একটি ‘এইচ ক্লাবে’ দেখা হয়েছিল এবং তাঁকে বাংলাদেশ-ইন্দোনেশিয়া ম্যাচ দেখতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। পরে তিনি ওই পোস্টটি মুছে দেন। নতুন পোস্টে তিনি ছবিগুলোকে নেপাল ভ্রমণের সময়কার বলে ব্যাখ্যা করায় দুই বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য দেখা যাচ্ছে।

ঘটনাটি নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের ম্যানেজার আমিরুল ইসলাম বাবুও কথা বলেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের পর রাতে খাবার শেষে খেলোয়াড়দের নিজ নিজ কক্ষে ফিরে যেতে বলা হয়েছিল। কিন্তু প্রত্যেক খেলোয়াড় সারা রাত কক্ষে আছেন কি না, তা ম্যানেজমেন্টের পক্ষে সার্বক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব নয়।

তিনি আরও বলেন, খেলোয়াড়েরা নির্দেশনা অমান্য করে বাইরে গিয়ে থাকলে বিষয়টি দলের শৃঙ্খলা কমিটির মাধ্যমে দেখা হবে এবং প্রয়োজন হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অর্থাৎ, ম্যানেজারের বক্তব্যে কোনো খেলোয়াড় নির্দেশনা ভেঙেছেন—এমন বিষয় নিশ্চিত করা হয়নি; বরং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

এদিকে ভিডিও প্রকাশের পর ওই তরুণী বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে ছড়িয়ে পড়া কনটেন্ট মুছে ফেলার অনুরোধ করেন। অনুরোধ মানা না হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও তিনি জানিয়েছিলেন।

সব মিলিয়ে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওকে ঘিরে যে আলোচনা তৈরি হয়েছে, তার সময় ও স্থান নিয়ে এখন দুটি ভিন্ন বক্তব্য রয়েছে।-

খেলোয়াড়দের দাবি এবং তরুণীর নতুন ব্যাখ্যা একই দিকে ইঙ্গিত করলেও তাঁর আগের পোস্টের সঙ্গে পার্থক্য থাকায় ঘটনাটির স্বাধীন যাচাই এখনও গুরুত্বপূর্ণ। ফলে ভিডিওগুলোকে আসিয়ান কাপের ম্যাচ-পরবর্তী ঘটনা হিসেবে নিশ্চিতভাবে উপস্থাপনের মতো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে আসেনি।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular