নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যসভা উপনির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) প্রার্থী হিসেবে জনপ্রিয় অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিকের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে কয়েক মাসের ব্যবধানে তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে রাজ্যসভায় যাওয়া কোয়েল এবার বিজেপির প্রার্থী হিসেবে একই আসনে ফের প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হচ্ছেন।
বিজেপি রোববার (৪ অক্টোবর) পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি উত্তরাখণ্ডের রাজ্যসভা নির্বাচনের জন্যও প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে। পশ্চিমবঙ্গ থেকে কোয়েল মল্লিক এবং উত্তরাখণ্ড থেকে দিনেশ আর্যকে প্রার্থী করা হয়েছে। আগামী ১৬ অক্টোবর ২০২৬ রাজ্যসভার এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
কোয়েল মল্লিকের প্রার্থিতা ঘোষণার মধ্য দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। কারণ, চলতি বছরের শুরুতে তৃণমূল কংগ্রেসের মনোনয়নে তিনি রাজ্যসভার সদস্য নির্বাচিত হন। ৬ এপ্রিল তিনি রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে শপথ নেন। তবে এর কয়েক মাস পর ১৬ জুলাই রাজ্যসভা থেকে পদত্যাগ করেন। ফলে তার ছেড়ে দেওয়া আসনটিই এখন উপনির্বাচনের জন্য নির্ধারিত হয়েছে।
ভারতের নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের শূন্য রাজ্যসভা আসনে ১৬ অক্টোবর ভোটগ্রহণ ও গণনা হবে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ৬ অক্টোবর এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ৯ অক্টোবর।
কোয়েল মল্লিক বাংলা চলচ্চিত্রের পরিচিত মুখ এবং অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিকের কন্যা। অভিনয়জগতে দীর্ঘদিনের জনপ্রিয়তার কারণে রাজনীতিতেও তার প্রার্থিতা বিশেষ আগ্রহ তৈরি করেছে। চলতি বছরই তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন এবং তৃণমূল কংগ্রেসের মনোনয়নে রাজ্যসভায় যান।
তৃণমূলের রাজ্যসভা সদস্য হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর সংসদের কোনো অধিবেশনে অংশ নেওয়ার আগেই তিনি পদত্যাগ করেন বলে একাধিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে বিজেপির সঙ্গে তার রাজনৈতিক যোগাযোগের বিষয়টি সামনে আসে এবং এখন সেই বিজেপিই তাকে তার ছেড়ে যাওয়া আসনে প্রার্থী করেছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের কাছে বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে এ কারণে যে, কোয়েলের আগে তৃণমূলের কয়েকজন রাজ্যসভা সদস্য পদত্যাগের পর বিজেপির প্রার্থী হিসেবে আবারও উচ্চকক্ষে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। ফলে কোয়েলের প্রার্থিতাকেও পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।-
এখন মূল নজর ১৬ অক্টোবরের ভোটে। কোয়েল মল্লিক নিজের ছেড়ে যাওয়া রাজ্যসভা আসনটি এবার বিজেপির প্রার্থী হিসেবে পুনরায় দখলে নিতে পারেন কি না, সেটিই হয়ে উঠেছে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে আলোচনার অন্যতম বিষয়।




