নিউজ প্রতিবেদক: স্পেনের সঙ্গে অভিবাসন সহযোগিতায় নতুন কৌশল গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন মরক্কোর বাদশাহ ষষ্ঠ মোহাম্মদ।
তিনি বলেছেন, স্পেনের সঙ্গে অংশীদারত্ব মরক্কোর সার্বভৌম সিদ্ধান্ত। এ সম্পর্ক কোনো চাপ, হুমকি কিংবা ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রভাবিত করা যাবে না। একই সঙ্গে যৌথ উন্নয়ন, অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় নতুন কৌশলগত প্রস্তাব দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) পার্লামেন্টের দ্বাদশ আইনসভার প্রথম আইন প্রণয়ন বর্ষের উদ্বোধনী ভাষণে বাদশাহ ষষ্ঠ মোহাম্মদ এসব কথা বলেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন ক্রাউন প্রিন্স মৌলে এল হাসান, প্রিন্স মৌলে রশিদ ও প্রিন্স মৌলে আহমেদ।
ভাষণে বাদশাহ বলেন, মরক্কো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দায়িত্বশীল ও নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেছে। দেশটি তার অঙ্গীকার রক্ষা করে এবং অংশীদারদের কাছ থেকেও একই ধরনের দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশা করে। তবে অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় বর্তমান সহযোগিতার কাঠামো পুরোনো হয়ে পড়েছে। বারবার সংকট তৈরি হওয়া তারই প্রমাণ।
তিনি বলেন, স্পেনের সঙ্গে অবৈধ অভিবাসন মোকাবিলাসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতায় অগ্রগতি হয়েছে। তবে কিছু পুরোনো আইনি বিধান ও বিচারিক সিদ্ধান্ত অপ্রাপ্তবয়স্ক অভিবাসী এবং ভুয়া আশ্রয়প্রার্থীদের প্রত্যাবাসনে বাধা সৃষ্টি করছে। এতে অপরাধী চক্রও লাভবান হচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় মরক্কো অংশীদারদের কাছে সুস্পষ্ট ও বাস্তবভিত্তিক কৌশলগত প্রস্তাব উপস্থাপন করবে।
বাদশাহর ভাষণে শুধু কূটনীতি নয়, দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নও গুরুত্ব পেয়েছে। পানি, জ্বালানি ও খাদ্যনিরাপত্তা, শিল্পায়ন, ডিজিটাল অর্থনীতি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ ও রপ্তানি বাড়ানোর ওপর জোর দেন।
প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণে বিলম্বের সমালোচনা করে তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার থেকে অঞ্চলগুলোতে প্রয়োজনীয় ক্ষমতা, জনবল ও আর্থিক সম্পদ হস্তান্তরে আর গড়িমসি গ্রহণযোগ্য নয়। স্থানীয় সমস্যা চিহ্নিত করে বাস্তবসম্মত সমাধান নিশ্চিত করতে হবে।
/মাহমুদ/




