নিউজ ডেস্ক : কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোনো ধরনের ‘রিকনসিলেশন’ বা সমঝোতার কোন সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার দুপুরে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
জাহেদ উর রহমান বলেন, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য ক্ষমা না চেয়ে, বরং ক্রমাগত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, বিদেশে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তা ও দেশে অস্থিরতাকে উসকে দেওয়ার অপচেষ্টা অব্যাহত রাখা নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোনো ধরনের ‘রিকনসিলেশন’ বা সমঝোতার কোন সুযোগ নেই।
প্রধানমন্ত্রী তথ্য ও সম্পচার উপদেষ্টা বলেন, ‘আওয়ামী লীগের কেউ কেউ ক্ষমা চাইলে রিকনসিলেশন হতে পারে কি-না, তা একেবারেই কাল্পনিক একটি প্রশ্ন। কারণ গণহত্যার মতো ভয়াবহ অপরাধের পরও গত দুই বছরে তাদের নানা অপকর্ম, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও অডিও বার্তা দিয়ে দেশজুড়ে আগুন জ্বালানোর চেষ্টার আমলনামা সরকারের কাছে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তাদের সাথে আলোচনা বা সমঝোতার কোনো প্রশ্নই ওঠে না।’ সরকারিআদেশ দেখুন
ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা স্পষ্ট করে বলেন, সরকার প্রতিশ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ফেরত আনার আইনি প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এর মধ্যে তিনি নিজে থেকেই দেশে চলে আসলে সরকারের কোনো আপত্তি নেই, বরং দেশে ফিরে তিনি যে মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছেন, তার জন্য আদালত কর্তৃক ঘোষিত দণ্ড ও ন্যায়বিচারের মুখোমুখি হবেন।
নিউইয়র্কের জেএফকে বিমানবন্দরে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গণহত্যা চালিয়ে পালিয়ে যাওয়া দলটি এখনো কোনো অনুশোচনা প্রকাশ করেনি। উল্টো বিদেশের মাটিতে ড. ইউনূস ও সরকারের অন্যান্য দায়িত্বশীল ব্যক্তি ও অভিনেত্রীকে হেনস্তা এবং দেশে সহিংসতা উসকে দেওয়ার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে।
বিমানবন্দরে ড. ইউনূসের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা জানান, নিউইয়র্ক বিমানবন্দরে তার নিরাপত্তা বিধানে স্থানীয় বাংলাদেশ দূতাবাসের কোনো ধরনের ঘাটতি ছিল কিনা— তা গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হবে।
তিনি বলেন, অভিনেত্রী বাঁধনকে যারা হেনস্তা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে লিগ্যাল প্রসেস শুরু হয়েছে। ড. ইউনূসের ক্ষেত্রেও এটা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা বলেন, বিদেশের বিভিন্ন জায়গায় থাকা আওয়ামী সন্ত্রাসীদের বলতে চাই, তারা যদি পুনরায় এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে এটা আন-চ্যালেঞ্জ যাবে না। প্রশ্নই আসে না। সরকারিআদেশ দেখুন
ব্রিফিংয়ে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার পাশাপাশি অপসাংবাদিকতা রোধে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল আইন সংস্কার ও আধুনিকায়নের চলমান অগ্রগতির চিত্রও তুলে ধরেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা।
ব্রিফিংয়ে মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ড. মো. আলম মোস্তফা ও তথ্য অধিদফতরের সিনিয়র উপপ্রধান তথ্য অফিসার মোছা. মোবাস্বেরা কাদেরী উপস্থিত ছিলেন।




