একই পরিবারের দুজনকে ডিলারশিপ দেওয়ার প্রস্তাব ও পশুখাদ্য বিক্রেতাকে নিয়োগের অভিযোগ; পুনঃতদন্তের দাবি ব্যবসায়ীদের
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরে সার ডিলার নিয়োগের সুপারিশ নিয়ে অনিয়ম ও একতরফাভাবে ডিলারশিপ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই পরিবারের দুজনকে ডিলারশিপ দেওয়ার সুপারিশ, পশুখাদ্য বিক্রির প্রতিষ্ঠানের নামে সার ডিলারশিপের প্রস্তাব এবং চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নে বাহার উদ্দিন নামে এক ব্যবসায়ীকে ডিলার করার সুপারিশ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) নিয়োগপ্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ এনে লক্ষ্মীপুর শহরের দুই সার ব্যবসায়ী হামিদুর রহমান ও ইয়াছিনুর রহমান জেলা প্রশাসক এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে পৃথক লিখিত অভিযোগ দেন।
অভিযোগে বলা হয়, লক্ষ্মীপুর পৌরসভায় ইফাজ এগ্রোকে সার ডিলার হিসেবে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রতিষ্ঠানটিতে মুরগি, মাছ ও গরুর খাদ্য বিক্রি করা হয়, যা ডিলার নিয়োগের নীতিমালার পরিপন্থী।
ইফাজ এগ্রোর স্বত্বাধিকারী জাকির হোসেনের ভাই ইকবাল ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী ইকবাল হোসেন আগে থেকেই বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) সার ডিলার ও খুচরা বিক্রেতার পরিচয়পত্রধারী। একই পরিবারের দুজনকে ডিলারশিপ দেওয়ার সুপারিশ নীতিমালাবিরোধী বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা।
তাঁদের আরও অভিযোগ, ইফাজ এগ্রোর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় প্রতিষ্ঠানটিকে একতরফাভাবে ডিলারশিপ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। ডিলার হতে ২৫ মেট্রিক টন সার সংরক্ষণের সক্ষমতা প্রয়োজন হলেও প্রতিষ্ঠানটির সেই সক্ষমতা নেই বলে দাবি তাঁদের। এ কারণে ডিলারশিপের সুপারিশ বাতিল, পুনঃতদন্ত এবং নতুন করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
শহরের ব্যবসায়ী আবদুর রহমান বলেন, ইফাজ এগ্রোকে নিয়মবহির্ভূতভাবে ডিলারশিপ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পরিবারে আগে থেকেই একজন ডিলার রয়েছেন এবং তাঁরা পশুখাদ্যও বিক্রি করেন। বাজারে আরও ২০ থেকে ২৫ জন সার ব্যবসায়ী থাকলেও তাঁরা নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পর্কে কিছু জানেন না বলে অভিযোগ করেন তিনি। সুপারিশ স্থগিত করে পুনঃতদন্তের মাধ্যমে নতুন করে নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরুর দাবি জানান আবদুর রহমান।
অন্যদিকে, চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নে মেসার্স বাহার এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী বাহার উদ্দিনকে সার ডিলার হিসেবে নিয়োগের সুপারিশ নিয়েও আপত্তি তুলেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। তাঁদের দাবি, বাহার উদ্দিন আওয়ামী লীগের একটি অঙ্গসংগঠনের সঙ্গে যুক্ত এবং আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে তাঁর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এ কারণে তাঁর ডিলারশিপের সুপারিশ বাতিলের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে বাহার উদ্দিনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগের বিষয়ে ইফাজ এগ্রোর স্বত্বাধিকারী জাকির হোসেন বলেন, সরকার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করায় তিনি আবেদন করেছেন। অন্য কেউ আবেদন না করলে সেটি তাঁর দোষ নয়। তাঁর দাবি, পশুখাদ্য ও সার বিক্রির জন্য আলাদা দোকান রয়েছে। তাঁর ভাই বিএডিসির ডিলার হলেও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ডিলার নন। অভিযোগকারীরা হিংসাপরায়ণ হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
লক্ষ্মীপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ জহির আহমেদ বলেন, সার ডিলার নিয়োগ এখনো চূড়ান্ত হয়নি; শুধু সুপারিশ এসেছে। উপজেলা পর্যায়ে যাচাই-বাছাইয়ের পর মন্ত্রণালয়ের সুপারিশের ভিত্তিতে নিয়োগপ্রক্রিয়া এগোবে। এ পর্যায়ে অভিযোগের বিষয়ে তাঁদের দপ্তরের কিছু করার নেই বলেও জানান তিনি।



