ঝিনাইদহ প্রতিবেদক: রাজধানীর পুরানা পল্টনে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফনে বাধা প্রদান এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে মব-সন্ত্রাসের প্রতিবাদে ঝিনাইদহে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের ঝিনাইদহ জেলা শাখার উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
মিছিলটি শহরের এইচএসএস সড়ক থেকে শুরু হয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে স্থানীয় পায়রা চত্বরে গিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশে মিলিত হয়।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) ঝিনাইদহ জেলা সভাপতি কমরেড স্বপন বাগচীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আবু তোয়াব অপুর সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)-এর জেলা আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আসাদুল ইসলাম আসাদসহ যুক্তফ্রন্টের অন্যান্য নেতারা।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, ‘গত ২৭ অক্টোবর রাতে সিপিবি কার্যালয়ে কথিত ‘নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্য’ অবস্থানের মিথ্যা অপবাদ দিয়ে একদল উগ্র ও উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তি লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায়। পুলিশ উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও কার্যালয়টি দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ রাখা হয়। একই সঙ্গে বাউল গানসহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বাধা দেওয়া এবং ধানমন্ডিতে মানববন্ধনে অংশ নেওয়া সিপিবি ও যুব ইউনিয়নের নেতাদের গ্রেপ্তারের তীব্র নিন্দা জানান তারা।’
নেতাদের অভিযোগ করেন, মুক্তিযুদ্ধকালীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের অন্যতম সাক্ষী বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফনে পিরোজপুরে বাধা দেওয়ার ঘটনা এবং ঝিনাইদহ বাস টার্মিনাল এলাকার বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বরে হামলার ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা না নিয়ে সরকার দোদুল্যমান নীতি গ্রহণ করেছে। এর ফলে স্বাধীনতাবিরোধী ও উগ্রবাদী গোষ্ঠী প্রশ্রয় পাচ্ছে, যা দেশকে পাকিস্তানি ভাবধারার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
সমাবেশ থেকে নেতারা দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ, রাজনৈতিক সহাবস্থান এবং সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা রক্ষার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে অবিলম্বে সিপিবি কার্যালয়ে হামলাকারী, দাফনে বাধাদানকারী এবং প্রগতিশীল কর্মকাণ্ডে হামলাকারীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।



