নিউজ ডেস্ক: মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস রক্ষায় সাংবাদিকদের পাহারাদারের ভূমিকা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি ডা. সারওয়ার আলী।
তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পাহারা দেওয়ার বিকল্প নেই। তথাকথিত রাজনৈতিক সমঝোতার নামে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের পাহারাদারের ভূমিকা পালন করতে হবে।’
বুধবার (২৮ অক্টোবর) মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের সেমিনার কক্ষে ‘সাংবাদিকদের জন্য মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিবেদন তৈরিতে দক্ষতা বৃদ্ধি ও অভিজ্ঞতা বিনিময়’ শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি ও অপতথ্য রোধে সাংবাদিকদের তথ্যভিত্তিক ও বস্তুনিষ্ঠ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি ও গবেষকরা।
তাদের মতে, রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরা এবং অজানা ঘটনা অনুসন্ধানের মাধ্যমে ইতিহাস সংরক্ষণে সাংবাদিকদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে।
কর্মশালার সূচনা বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি ডা. সারওয়ার আলী স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি, অপতথ্য প্রচার ও মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান করার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, ‘আজকাল অবিশ্বাস্য সব ঘটনা দেখছি, সাক্ষী হচ্ছি। তাতে মনে হয়, এক অচেনা দেশ, অচেনা শহরে বসবাস করছি, আশপাশের মানুষগুলোও অচেনা লাগে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পাহারা দেওয়ার বিকল্প নেই। তথাকথিত রাজনৈতিক সমঝোতার নামে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের পাহারাদারের ভূমিকা পালন করতে হবে।’
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি ও সদস্য সচিব মফিদুল হক বলেন, ‘২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দেশে স্বাধীনতাবিরোধীদের উত্থান ঘটেছে। রক্তের দামে অর্জিত মুক্তিযুদ্ধকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে নানা ধরনের অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে। একাত্তরের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে মুক্তিযুদ্ধের অজানা গল্পগুলো অনুসন্ধান করে তুলে আনার আহ্বান জানান তিনি।’
মুক্তিযুদ্ধের সংবাদমূল্য, তথ্য যাচাই ও সম্পাদনার কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন দৈনিক দেশ রূপান্তরের সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি।
তিনি বলেন, ‘বাঙালি জাতির জীবনে মুক্তিযুদ্ধের চেয়ে বড় ঘটনা আর আসবে না। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি ও অপতথ্য প্রতিরোধের পাশাপাশি সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণে সাংবাদিকতা গুরুত্বপূর্ণ। আগামী একশ বছরও এ বিষয়ে গবেষণার প্রয়োজনীয়তা থাকবে।’
কর্মশালায় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সাংবাদিকতায় বিষয় নির্বাচন ও গবেষণাভিত্তিক সাংবাদিকতা নিয়ে বক্তব্য দেন সাংবাদিক ও গবেষক অধ্যাপক আফসান চৌধুরী। মুক্তিযুদ্ধে মাঠপর্যায়ের সাংবাদিকতার ওপর আলোচনা করেন সাংবাদিক ও গবেষক সিরাজুল ইসলাম আবেদ এবং জাদুঘরের ত্রপা মজুমদার ও ড. রেজিনা বেগম।
আলোচনার শুরুতে সদ্য প্রয়াত রহমান স্মৃতিপদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক ড. খাইরুল ইসলামের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। পরে বজলুর রহমান স্মৃতিপদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক আজিজুল পারভেজ, সোমা ইসলাম, পার্থ সঞ্জয় ও ইশতিয়াক আহমেদ অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করেন জাদুঘরের আর্কাইভ বিভাগের সত্যজিত রায় মজুমদার ও মন্টু বাবু সরকার।



