মো: জহিরুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার, মৌলভীবাজার : মৌলভীবাজারে শ্রীমঙ্গল উপজেলাধীন রাজঘাট ইউনিয়নের উদনাছড়া চা বাগানের প্রেমিকা বিশ্বমনি হত্যা জড়িত প্রেমিক রনজিত সাতঁওয়াল নামে এক যুবকে গ্রেফতার করেছে শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ।
শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ মো আমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
গত ০৫ ই ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার বিশ্বমনি দাস কাজের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে হয়ে আর ফিরেনি । পরবর্তীতে বিকাল সাড়ে ৩ টায় সময় ডিকটিম বিশ্বমণি দাস এবং তার সহকর্মীসহ নিরালা পুঞ্জি থেকে কাজ শেষ করে বাড়ীর উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলে বিকাল সাড়ে ০৪ টায় উদনাছড়া চা বাগানের ১১নং ভাঙ্গা ব্রীজের নিকট পৌছিলে তার সহকর্মীদের বাথরুমে যাওয়ার কথা বলে।
ভিকটিমের সহকর্মীরা সেখানে ভিকটিম বিশ্বমনির জন্য কিছুক্ষন অপেক্ষা করার জন্য বলিলে বাদীর বোন বিশ্বমণি দাস তাদেরকে চলে যেতে বলে এবং তিনি পরে পিছনের লোকদের সাথে বাড়ী আসবেন বলে জানায় ।
কিন্তু ঐ দিন ৫ই ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার ভিকটিম বিশ্বমনি দাশ সন্ধ্যা পর্যন্ত অপেক্ষা করার পরেও ভিকটিম বাড়ীতে ফিরে না আসায় খোঁজাখুজি শুরু হয়। পরবর্তীতে বাদীর পরিবারের লোকজন মিলে ভিকটিমকে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করলে গত ৭ ই ডিসেম্বর শনিবার সকাল ৯ টার দিকে ভিকটিম বিশ্বমনি দাস (২৫) এর লাশ উদনাছড়া চা বাগানের ১১নং সেকশনের চা বাগানের চারস গাছের নিচে গলায় ওড়না প্যাচানো মৃতদেহ পাওয়া যায়।
নিহত বিশ্বমনি দাশ ( ২৫) শ্রীমঙ্গল উপজেলাধীন রাজঘাট ইউনিয়নে উদনাছড়া চা বাগানের মৃত লক্ষীন্দর দাশের মেয়ে। নিহত বিশ্বমনি দাশ উদনাছড়া চাবাগানের নিরালা পান পুঞ্জিতে শ্রমিকের কাজ করতেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য ও চা বাগান বাসী লাশ দেখতে পেয়ে শ্রীমঙ্গল থানায় সংবাদ দিলে শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মৃতদেহের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করে লাশ ময়না তদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেন।
ঘটনার বিষয়ে ভিকটিমের ছোট ভাই বাদী থানায় অভিযোগ দায়ের করলে শ্রীমঙ্গল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, হত্যাকান্ডের স্বীকার বিশ্বমনি দাশের সঙ্গে উদনাছড়া চা বাগানের শংকর সাওতাল ছেলে রনজিত সাঁওতাল(২১) দীর্ঘ দিনের প্রেমের সম্পর্কে থাকায় নিহত বিশ্বমনি দাশ, বিশ্বমনির গর্ভবতী হয়ে পড়ে , সেই সন্তান কে নষ্ট করতে চাপ দিলে বিশ্বমনি প্রেমিক কে বিষ খাওয়ার হুমকি দিলে প্রেমিক চলে যেতে থাকে।বিশ্বমনি বিষ পান করলে প্রেমিক বাচাঁনোর পরিবর্তে বিষক্রীয়া চটফট করতে থাকলে রনিজত লোক জন আসতে দেখে তাকে টেনে হিচড়ে চারা গাছে তলে নিয়ে গলায় ওড়না প্যাচিয়ে হত্যা করে লাশ রেখে চলে যায়।
ঘটনায় জড়িত থাকায় গত ১০ ই ডিসেম্বর মঙ্গলবার শংকর সাঁতওয়ালের ছেলে রনজিত সাঁতওয়াল কে পুলিশ উদনাছড়া চা বাগান এলাকা থেকে গ্রেফতার করে।
হত্যাকান্ডে ঘটনায় জড়িত সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদে জানায় যে, ভিকটিমের সাথে বিগত ০৬ (ছয়) মাস যাবত তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ভিকটিমের সাথে ইতিপূর্বে একাধিকবার তার সাথে শারীরিক সম্পর্কে জড়িত হওয়ার কারনে ভিকটিম অন্তঃসত্তা হয়ে পড়ে।
শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ মো: আমিনুল ইসলাম বলেন, বিশ্বমনির সাথে একই বাগানে বস্তির রনজিত সাঁতওয়াল এর সাথে দীর্ঘ দিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিলো। হত্যাকান্ডে জড়িত থাকা প্রেমিক রনজিত সাতঁওয়াল (২১) কে গ্রেফতার করা এবং তাকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।



