আন্তর্জাতিক ডেস্ক: অবশেষে ফিলিস্তিনের গাজায় যুদ্ধ বিরতি চুক্তি কার্যকর হয়েছে। ইসরায়েল এবং হামাসের মধ্যে সম্মত হওয়া বহু প্রতীক্ষিত যুদ্ধ বিরতি প্রায় তিন ঘণ্টা বিলম্বের পর কার্যকর হলো।
রবিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয়। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ও ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
সংমাধ্যমগুলোতে আরও বলা হয়, গাজায় স্থানীয় সময় বেলা ১১টা ১৫ মিনিট থেকে এ যুদ্ধবিরতি শুরু হয়েছে বলে নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি এক বিবৃতিতে বলেন, তিন জিম্মির নাম ইসরায়েলি পক্ষের কাছে হস্তান্তর করার পর যুদ্ধবিরতি শুরু হয়েছে। তারা ইসরায়েল, রোমানিয়া ও ব্রিটেনের নাগরিক।
১৫ মাস যুদ্ধের পর ইসরায়েল ও হামাস গত বুধবার যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। প্রথম ধাপের যুদ্ধবিরতি ৪২ দিনের। যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপে ৩৩ জিম্মিকে মুক্তি দেওয়ার বিনিময়ে ১ হাজার ৮৯০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি বন্দীকে ছেড়ে দেবে ইসরায়েল।
নেতানিয়াহুর কার্যালয় আরও জানায়, বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হবে রবিবার দুপুর ২ টার পরে। আরও চার জীবিত নারী জিম্মিকে সাত দিনের মধ্যে মুক্ত করা হবে।
যদিও ফিলিস্তিনের গাজায় স্থানীয় সময় রবিবার সকাল সাড়ে ৮টায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু যথাসময়ে তা হয়নি। উল্টো এই সময়ের পর গাজায় হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এই হামলায় অন্তত ১০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থার বরাত দিয়ে আল-জাজিরার লাইভে বলা হয়, উত্তর গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন তিনজন। গাজা সিটিতে নিহত হয়েছেন ছয়জন। রাফায় নিহত হয়েছেন একজন। এছাড়া, ২৫ জনের বেশি ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন।
যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে অনুমোদন ইসরায়েলের, প্রথম দফায় ৯৫ ফিলিস্তিনির মুক্তিযুদ্ধবিরতি চুক্তিতে অনুমোদন ইসরায়েলের, প্রথম দফায় ৯৫ ফিলিস্তিনির মুক্তি
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাজার হাজার ফিলিস্তিনি এখন উত্তর এবং দক্ষিণ গাজার জাবালিয়া এবং রাফাহসহ এমন এলাকায় যেতে পারবেন যেখানে তাদের আগে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, রবিবার সকাল থেকে গাজার মানুষজন যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার অপেক্ষায় ছিল। তারা রাফাহ অভিমুখে অগ্রসর হতে শুরু করে। অনেক মানুষ তাদের মালপত্র জড়ো করে। তারা ফিরে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কিন্তু ওই বাসিন্দারা এটাও জানেন যে তাদের বেশিরভাগ বাড়িই সেখানে আর নেই। যুদ্ধে তাদের বেশির ভাগ বাড়িই গুঁড়িয়ে গেছে। তবুও বেশিরভাগ ফিলিস্তিনি বলছেন, তারা ধ্বংসস্তূপের উপরে তাদের তাঁবু ফেলতে যাচ্ছেন।
ফিলিস্তিনের সরকারি মিডিয়া অফিস থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমানে গাজার নিরাপত্তায় হাজারো ফিলিস্তিনি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এর আগে, গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকরের জন্য প্রথম দিনে মুক্তি পেতে যাওয়া তিন ইসরায়েলি জিম্মির নাম প্রকাশ করে হামাস। হামাসের এক মুখপাত্র টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানান।
হামাসের সশস্ত্র শাখা কাসেম ব্রিগেডের মুখপাত্র আবু ওবেইদা বলেছেন, “বন্দি বিনিময় চুক্তির অংশ হিসেবে আজ আমরা রোমি গোনেন (২৪), এমিলি দামারি (২৮) ও ডোরন শানবার খাইরকে (৩১) মুক্তি দিতে যাচ্ছি।”
এদিকে, গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তির বিরোধিতা করে ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রী ইতামার বেন-গাভির পদত্যাগ করেছেন। ইতামার ইসরায়েলের কট্টর জাতীয়তাবাদী ধর্মীয় দল জিউইশ পাওয়ার পার্টির নেতা। ইতামারের দলের দুই সদস্যও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরকারের মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেছেন।



