নিউজ ডেস্ক : দেশের প্রধান আইন কর্মকর্তা, অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান ব্যক্তিগত কারণ উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।
সূত্র জানায়, শনিবার রাতেই তিনি অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে অব্যাহতিপত্রে সই করেছেন এবং তা রোববার সকালে আইন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির দফতরে পাঠানো হবে।
জানানো হয়েছে—তিনি এই পদত্যাগের সবচেয়ে প্রমাণ্য কারণ হিসেবে আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণের ইচ্ছা জানিয়েছেন; আসাদুজ্জামান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝিনাইদহ-১ (শৈলকুপা) আসন থেকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে লড়াই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পদত্যাগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর সরকারি মডেল অনুযায়ী আইন মন্ত্রণালয় ও রাষ্ট্রপতি দফতর পরবর্তী পদোন্নতি ও নিয়োগ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা জানাবে।
পেশাগত পরিচয় ও রাজনৈতিক সম্পর্কের প্রসঙ্গও জানা গেছে—সুপ্রিম কোর্টের একজন প্রবীণ আইনজীবী হিসেবে ২০০৫ সালে অ্যাপেলেট ডিভিশনে যোগদান করা এবং ৮ আগস্ট ২০২৪-এ তিনি অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্ব পালন শুরু করেছিলেন; পাশাপাশি তিনি বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির মানবাধিকার সম্পাদক ও দলের উপদেষ্টা হিসেবে সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন—এ প্রেক্ষাপটেই রাজনৈতিক নেতৃত্ব গ্রহণের ইঙ্গিত আরও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।
অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ খবর দেশের রাজনৈতিক-আইনি মহলে দ্রুত আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে—কেননা রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা যদি নির্বাচনী রাজনীতিতে সরাসরি অংশ নেন, তাতে সরকারি আইনগত কৌশল, ভোটপ্রক্রিয়া-সংশ্লিষ্ট মামলাসহ নানা দিকেই প্রভাব বলবৎ হতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।
আইনসচিবালয় ও সর্বোচ্চ ন্যায়ালয় মণ্ডলীর মধ্যে উৎসাহ-শংকার মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে; কেউ এটিকে ব্যক্তিগত রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন, কেউ কেউ বলছেন এতে সরকারি আইন-বিভাগীয় শূন্যস্থান ও সাময়িক প্রশাসনিক সমন্বয় প্রয়োজন হবে।
উল্লেখযোগ্য — গত কয়েক দিনে তিনি নিজে প্রকাশ্যে জানিয়েছেন যে নির্বাচনে প্রার্থী হতে চাইলেও মনোনয়ন পেলে আইনগত ও আচরণগত দ্বায়িত্বে সামঞ্জস্য রেখেই পদত্যাগ করবেন; প্রকৃত পদত্যাগপত্র জমার সঙ্গে এই পূর্ব ঘোষণা মিলায় সিদ্ধান্তকে আনুষ্ঠানিক কাঠামোয় আলোকিত করেছে। স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্রও বলছে—শৈলকুপায় দলের স্থানীয় নেতারা ইতোমধ্যে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে এবং প্রার্থিতা চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া এগোবে।
এখন প্রশ্ন—কারা তার স্থলাভিষিক্ত হবেন এবং এই শূন্যতা কবে পূরণ হবে। সাধারণ নিয়ম অনুসারে আইন মন্ত্রণালয়, প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির পরামর্শক্রমে এ পদে নতুন নিয়োগ করা হবে; তবে তা কবে ও কোন প্রক্রিয়ায় হবে—সেই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা মন্ত্রণালয় ও রাষ্ট্রপতি দফতর থেকে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এছাড়া অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ নির্বাচনী সময়সূচি ও আইনি অগ্রগতিতে কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়েও রাজনৈতিক ও আইনি বিশ্লেষকরা মনোনিবেশ করছেন।
ঢাকানিউজ২৪/মহফ



