নিউজ ডেস্ক : আওয়ামী লীগকে আবার গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ জনগণ দেবে না বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগ একটি নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল। দলটি স্বৈরতান্ত্রিক ও মাফিয়া শক্তি হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করেছে। গণঅভ্যুত্থানের মুখে দলটির নেতারা দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে ২৭তম শিক্ষানবিশ সার্জেন্ট ও ৪৩তম ক্যাডেট সাব-ইন্সপেক্টর ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। মানচিত্রদেখুন
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগের শাসনামলে জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী ১ হাজার ৪০০-এর বেশি এবং তাঁদের হিসাব অনুযায়ী ২ হাজারের বেশি মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। এসব ঘটনাকে গণহত্যা হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
মন্ত্রীর অভিযোগ, এসব ঘটনার জন্য আওয়ামী লীগ এখন পর্যন্ত ক্ষমা চায়নি বা দুঃখ প্রকাশ করেনি। বরং ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানকে জঙ্গিবাদী তকমা দেওয়ার চেষ্টা করেছে দলটি।
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ আবার গণতান্ত্রিকভাবে রাজনীতি করতে চাইলেও দেশের জনগণ তা গ্রহণ করবে না এবং সে সুযোগ দেবে না।
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কে কখন আসতে চাইছে বা চাইছে না, তা নিয়ে সরকার মোটেও বিচলিত নয়। সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর। যে-ই আসুক না কেন, আইন অনুযায়ী তাকে হেফাজতে নেওয়া হবে।
বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সৌরির মরদেহ উদ্ধারের বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক তদন্ত ও ময়নাতদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর সব বিষয় জেনে এ বিষয়ে বিস্তারিত বলা যাবে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর অপরাধীদের শনাক্ত, গ্রেপ্তার, তদন্ত ও বিচার সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে সরকার সফলভাবে কাজ করছে। তবে দুই-একটি ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম থাকতে পারে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, বিএনপি ক্ষমতা নেওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, বোমা হামলা বা হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।
পার্বত্য অঞ্চলের পরিস্থিতি নিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পাহাড়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ রয়েছে। তবে মাঝেমধ্যে কিছু ঘটনা ঘটে। বাংলাদেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সেনাবাহিনী আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে।
পুলিশ সদস্যদের প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সব ধরনের ভয়ভীতি ও পক্ষপাতিত্ব উপেক্ষা করে জনগণকে আইনি সেবা ও সুরক্ষা দিতে হবে। সেবাপ্রত্যাশী অসহায় মানুষসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতি আন্তরিক হতে হবে। মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সেবা দেওয়ার মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে। সত্যিকার অর্থে ‘জনগণের পুলিশ’ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করে মানুষের হৃদয় জয় করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সাইবার অপরাধ, অনলাইন প্রতারণা, আর্থিক জালিয়াতি, মাদকসংক্রান্ত অপরাধ, মানব পাচার ও সংঘবদ্ধ অপরাধ মোকাবিলা পুলিশের সামনে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পুলিশ সদস্যদের সততা, দক্ষতা, নিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব ও কর্তব্যপরায়ণতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, বিপিএম এবং বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি, সারদার প্রিন্সিপাল (অতিরিক্ত আইজিপি) মো. মাইনুল হাসান, বিপিএম, পিপিএম, এনডিসি। এএসপি প্রবেশনার মো. মাহবুব হোসেন প্যারেড কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় বিভিন্ন পদমর্যাদার সামরিক ও বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।



