নিউজ ডেস্ক : আজ শুক্রবার (২১ নভেম্বর) যথাযথ মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে সশস্ত্র বাহিনী দিবস উদযাপিত হচ্ছে। দিবস উদযাপনের শুরুতেই দেশের সকল সেনানিবাস, নৌঘাঁটি ও বিমানঘাঁটির মসজিদে ফজরের নামাজের পর বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের শহীদ সৈনিকদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়।
রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন এবং প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস পৃথক পৃথক বাণী প্রদান করবেন।
সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর ঢাকার সেনানিবাসের শিখা-অনির্বাণ স্মৃতিস্তম্ভে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টা ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। একই সময় তিন বাহিনী প্রধান (সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী) নিজ নিজ বাহিনীর পক্ষে সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। পরে তারা প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে এবং বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।
বিকেল ৪টায় ঢাকার সেনানিবাসস্থ সেনাকুঞ্জ প্রাঙ্গণে প্রধান উপদেষ্টার পক্ষ থেকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এতে দেশের প্রধান বিচারপতি, রাষ্ট্রপতি, প্রধান উপদেষ্টা, মন্ত্রী এবং মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদের উত্তরাধিকৃতিসহ উর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করবেন। প্রধান অতিথি হিসাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, সেনাবাহিনী প্রধান, নৌ ও বিমান বাহিনী প্রধানসহ উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থাকবেন।
ঢাকার বাইরে বরিশাল, কক্সবাজার, বগুড়া, সিলেট, ঘাটাইল, চট্টগ্রাম, যশোর, রংপুর ও খুলনার সেনানিবাস/ঘাঁটিতে সংশ্লিষ্ট এরিয়া সদর দপ্তরের ব্যবস্থাপনায় একই দিনে বিশেষ সংবর্ধনা অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে।
এ ছাড়াও সকাল ২টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিশেষভাবে সাজানো নৌবাহিনীর জাহাজসমূহ ঢাকা, খুলনা, চাঁদপুর, বরিশাল ও চট্টগ্রামের ঘাটে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে।
সন্ধ্যায়, ২০ নভেম্বর বাংলাদেশের টেলিভিশনে ‘বিশেষ অনির্বাণ’ এবং ২১ নভেম্বর বাংলাদেশ বেতারে ‘বিশেষ দুর্বার’ শীর্ষক অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা হবে। এছাড়া জাতীয় দৈনিক পত্রিকাগুলোতে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ এবং সশস্ত্র বাহিনী পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও তাৎপর্য
সশস্ত্র বাহিনী দিবসের মূল উদ্দেশ্য ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগকারী মুক্তিযোদ্ধা ও সৈনিকদের স্মৃতিচারণ করা।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতেও উল্লেখ আছে, এ দিন মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের দিন। ১৯৭১-এর গণযুদ্ধে পাকিস্তানী বাহিনীর বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী সম্মিলিতভাবে লড়াই করে স্বাধীনতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তাই ২১ নভেম্বরকে তিন বাহিনীর ঐক্য ও সাহসের প্রতীক হিসেবে পালন করা হয়।
বর্তমানে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী দেশের নিরাপত্তা রক্ষা, সীমান্ত সংহতি বজায় রাখা এবং বিশ্ব শান্তিরক্ষা মিশনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। বন্যা-দুর্যোগে ত্রাণকাজ, সড়ক-মহাসড়ক নির্মাণে সহায়তা এবং সার্বজনীন নিরাপত্তা নিশ্চয়তাসহ বাহিনী আধুনিকায়নের মাধ্যমে জাতির আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করছে।
সশস্ত্র বাহিনী দিবস কেবল অতীতের স্বরণোৎসব নয়; এটি সামরিক শক্তি ও জাতীয় ঐক্যের বার্তা বহন করে। এ দিবসের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে দেশপ্রেম ও সামরিক মূল্যবোধের প্রতিও গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কর্তব্যরত এই আধুনিক বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসনীয় এবং তাৎপর্যপূর্ণ। সূত্র: আইএসপিআর।
ঢাকানিউজ২৪/মহফ



