নিউজ ডেস্ক: ব্রিটিশ ও জার্মান কোম্পানিগুলো ইতোমধ্যেই টাইফুন ইউরোফাইটার জেট ও বক্সার আর্মার্ড ভেহিকলের মতো প্রতিরক্ষা পণ্যে যৌথভাবে কাজ করছে। এখন দুই সরকার যৌথ রপ্তানি উদ্যোগ চালু করতে যাচ্ছে, যা বিলিয়ন পাউন্ড বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে পারে।
জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জ স্বীকার করেছেন, ইউরোপ দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ছায়ায় থেকে নিজস্ব প্রতিরক্ষা ব্যয় ও উদ্যোগে অবহেলা করেছে। তবে এখন সময় পাল্টেছে, প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় বাড়াচ্ছে ইউরোপীয় দেশগুলো। খবর বিবিসি।
মার্জ বলেন, ‘আমরা বুঝি যে আমাদের নিজেদের আরো বেশি কিছু করতে হবে। অতীতে আমরা ফ্রি-রাইডার ছিলাম, আমরা এখন আরো দায়িত্ব নিচ্ছি।’
একটি ঐতিহাসিক ‘মৈত্রী চুক্তি’ স্বাক্ষর করতে মার্জ বর্তমানে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন। এ চুক্তির আওতায় প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারের পাশাপাশি অনিয়মিত অভিবাসন রোধ, শিক্ষার্থী বিনিময় ও যৌথ পরিকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে কাজ করছে জার্মানি ও ব্রিটেন।
চ্যান্সেলর মার্জের চ্যান্সেলরশিপের প্রথমদিকেই ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইউরোপীয় ইউনিয়নের রপ্তানির ওপর ৩০ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপের হুমকি—এই দুই বড় সংকট সামনে এসেছে। এসব চাপে ইউরোপীয় নিরাপত্তা ও অর্থনীতির দুর্বলতা প্রকট হয়ে উঠেছে। ক্ষমতায় আসার আগেই মার্জ জার্মান সংবিধানে পরিবর্তন এনে প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর পথ খুলে দেন। তার ভাষায়, ‘আমরা যথেষ্ট শক্তিশালী নই। আমাদের সেনাবাহিনী যথেষ্ট শক্তিশালী নয়। এ কারণেই আমরা প্রচুর অর্থ ব্যয় করছি।’
মার্জ জানিয়েছেন, তিনি ইতোমধ্যে ট্রাম্পের সঙ্গে তিনবার দেখা করেছেন। ফোনালাপেরও শুল্ক ও যুদ্ধ বন্ধ বিষয়ে আলোচনা করেছেন।
এখন যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও ফ্রান্স ই-থ্রি নামে একটি ত্রিপাক্ষিক জোট গঠন করছে, যা শুধু নিরাপত্তা নয় বরং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখবে। জার্মান চ্যান্সেলর জানান, তিনি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ও ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁর সঙ্গে ‘খুব ঘনিষ্ঠ’ কাজ করছেন। ম্যাক্রোঁ আগামী সপ্তাহে বার্লিন সফর করবেন এবং এর মাধ্যমে ইউকে‑ফ্রান্স‑জার্মানি ত্রয়ীর দ্বিপাক্ষিক চুক্তিগুলোর একটি পূর্ণ ত্রিভুজ গঠিত হবে।
ব্রিটিশ ও জার্মান কোম্পানিগুলো ইতোমধ্যেই টাইফুন ইউরোফাইটার জেট ও বক্সার আর্মার্ড ভেহিকলের মতো প্রতিরক্ষা পণ্যে যৌথভাবে কাজ করছে। এখন দুই সরকার যৌথ রপ্তানি উদ্যোগ চালু করতে যাচ্ছে, যা বিলিয়ন পাউন্ড বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে পারে।
মার্জকে ওয়াশিংটন ভালোভাবেই চেনেন। রাজনীতির বাইরে থাকা সময় তিনি একটি মার্কিন বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। তবে নিজের নির্বাচনী বিজয়ের রাতে তিনি ট্রাম্প প্রশাসনকে ইউরোপের প্রতি ‘উদাসীন’ বলে সমালোচনা করেছিলেন। এখনও সেই মত বদলায়নি। বিবিসিকে বলেন, ‘ট্রাম্প পূর্বতন মার্কিন প্রেসিডেন্টদের মতো পরিষ্কার বা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নন। আমেরিকা ইউরোপ থেকে মুখ ফিরিয়ে এশিয়ার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে।’ তাই ইউরোপকে এখন আরো বেশি স্বাধীনভাবে প্রতিরক্ষা কৌশল নির্ধারণ করতে হবে।



