ঢাকা  বুধবার, ১লা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
HomeUncategorizedইন্টারনেটে ধীরগতির দেশ বাংলাদেশ, মোবাইলে ৯১ ও ব্রডব্যান্ডে ৯৩তম

ইন্টারনেটে ধীরগতির দেশ বাংলাদেশ, মোবাইলে ৯১ ও ব্রডব্যান্ডে ৯৩তম

নিউজ ডেস্ক: দেশে ফোরজি নেটওয়ার্কের বিস্তার ঘটলেও ৪৭ শতাংশ মানুষ এখনো ইন্টারনেট ব্যবহারের বাইরে। ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়লেও সে অনুপাতে বাড়েনি ইন্টারনেটের গতি ও সেবার মান। মোবাইল ইন্টারনেটের গতিতে বিশ্বের ১০৩টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৯১তম। অন্যদিকে ফিক্সড ব্রডব্যান্ডে ১৪১টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৯৩তম।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইন্টারনেট সংযোগ ও গতির নাজুক অবস্থা এবং ডিজিটাল অবকাঠামোর দুর্বলতা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করছে। এর প্রভাব পড়ছে বিনিয়োগ, রফতানি, প্রযুক্তিনির্ভর আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, ফ্রিল্যান্সিং, স্টার্টআপ, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও সরকারি ডিজিটাল সেবার সম্প্রসারণেও। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের ক্যাশলেস সমাজ গড়ার লক্ষ্য বাস্তবায়নও কঠিন হয়ে পড়বে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে দেশে এখনই ডিজিটাল অর্থনীতিতে বড় ধরনের রূপান্তর ঘটানো প্রয়োজন।

সম্প্রতি বিশ্বব্যাংক প্রকাশিত ‘দি আনফিনিশড ডিজিটাল রেভল্যুশন: এক্সপান্ডিং ইন্টারনেট অ্যাকসেস’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উচ্চগতির ইন্টারনেট এখন আর শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়। এটি একটি দেশের উৎপাদনশীলতা, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, উদ্ভাবন ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি। পুরো বাংলাদেশে ইন্টারনেটে সংযোগের আওতায় এলেও এখনো ব্যক্তিগত ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা তুলনামূলক কম। তবে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) দাবি, দেশে এখন ব্যক্তিগত পর্যায়ে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৫৮ দশমিক ৬ শতাংশ, যা এক বছরের ব্যবধানে বেড়েছে ৫ শতাংশ। একই সঙ্গে মোবাইল ব্যবহারকারীর সংখ্যাও বেড়েছে। দেশে এখন ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ৮৯ দশমিক ৫ শতাংশ।

বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের উদাহরণ দিয়ে বলেছে, নেটওয়ার্ক দেশের অধিকাংশ জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছলেও উচ্চমূল্যের ডিভাইস, ডেটা প্যাকেজ ও ডিজিটাল সাক্ষরতার ঘাটতির কারণে অনেক মানুষ এখনো ইন্টারনেট ব্যবহারের বাইরে রয়েছে। ২০২৪ সালে বাংলাদেশে ফোরজি মোবাইল নেটওয়ার্ক দেশের শতভাগ জনগোষ্ঠীর আওতায় পৌঁছলেও বাস্তবে ইন্টারনেট ব্যবহার করত মাত্র ৫৩ শতাংশ মানুষ। অর্থাৎ নেটওয়ার্ক কাভারেজ থাকা সত্ত্বেও প্রতি নয়জনের মধ্যে তিনজন এখনো অনলাইনে নেই। এটা স্পষ্ট করে, কেবল অবকাঠামো নির্মাণ করলেই প্রকৃত ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত হয় না। নেটওয়ার্ক সুবিধা থাকা সত্ত্বেও মানুষ কেন ইন্টারনেট ব্যবহার করছে না, সে কারণগুলো বোঝা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কার্যকর ও ন্যায়সংগত নীতি ও উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে মানুষের জন্য অর্থবহ ইন্টারনেট ব্যবহার নিশ্চিত করতে হলে এ প্রতিবন্ধকতাগুলো চিহ্নিত ও দূর করা প্রয়োজন। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের ২৭টি দেশে অর্ধেকের বেশি মানুষ জীবনে কখনো মোবাইল ফোনে এসএমএস পাঠায়নি; বাংলাদেশও এ তালিকায় রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকার যখন নগদ অর্থের ব্যবহার কমিয়ে ক্যাশলেস সমাজ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে, তখন ধীরগতির ইন্টারনেট বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। ডিজিটাল পেমেন্ট, মোবাইল আর্থিক সেবা, অনলাইন ব্যাংকিং, পয়েন্ট অব সেল ও কিউআর কোডভিত্তিক লেনদেন নিরবচ্ছিন্ন সংযোগের ওপর নির্ভরশীল। ইন্টারনেটের গতি কম থাকলে লেনদেন সম্পন্ন হতে দেরি, সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া, পেমেন্ট ব্যর্থ হওয়া ও একই লেনদেন একাধিকবার সম্পন্ন হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। এতে গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের আস্থা কমে যায়।

দ্রুত ও স্থিতিশীল ইন্টারনেট নিশ্চিত না করে একটি কার্যকর ক্যাশলেস সমাজ গড়ে তোলা কঠিন বলে মনে করেন ওয়ান ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহিত রহমান। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমরা যে ডিজিটাল কার্যক্রমই পরিচালনা করি না কেন, তার জন্য নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট সংযোগ অপরিহার্য। ইন্টারনেটের গতি কম হলে পুরো ব্যবস্থাই কার্যকরভাবে কাজ করবে না এবং মানুষের আস্থাও তৈরি হবে না। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরও এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ইন্টারনেট সংযোগ না থাকলেও যাতে লেনদেন চালু রাখা যায়, প্রয়োজনে সে ধরনের বিকল্প প্রযুক্তি উদ্ভাবনের ওপর তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন।’

বাংলাদেশের মতো নিম্নমধ্যম আয়ের দেশগুলোয় ইন্টারনেটের আওতা বাড়লেও সে অনুপাতে ইন্টারনেটের গতি বাড়ছে না। বিপরীতে উন্নত ও দ্রুত অগ্রসরমাণ অর্থনীতির দেশগুলোয় ইন্টারনেট ব্যবহারের পাশাপাশি সংযোগের গতিও দ্রুত বাড়ছে। সিঙ্গাপুর, আরব আমিরাত, হংকং, কুয়েত, কাতারের মতো দেশগুলোয় ইন্টারনেটের গতি সবচেয়ে বেশি। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে দেশভিত্তিক মধ্যম ডাউনলোড গতির (মেগাবিট প্রতি সেকেন্ড) তথ্য দেয়া হয়েছে। সেখানে দেখা যায়, মোবাইল ইন্টারনেট গতিতে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটির ইন্টারনেট গতি সেকেন্ডে ৬৮১ মেগাবিট। এমনকি নিম্নমধ্যম আয়ের দেশ ভিয়েতনামে প্রায় ১৮৮ এমবিপিএস। তবে বাংলাদেশের মোবাইল ইন্টারনেটের গতি ৪৩ মেগাবিট। অন্যদিকে ব্রডব্যান্ডে গতি ৬৬ মেগাবিট। যেখানে সবার ওপরে সিঙ্গাপুরে ইন্টারনেট গতি ৪২১ এমবিপিএস। ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডেও ব্রডব্যান্ডের গতি বাংলাদেশের তুলনায় অনেক বেশি।

এ বিষয়ে ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক বিশেষজ্ঞ সুমন আহমেদ সাবির বণিক বার্তাকে বলেন, ‘দেশে মোবাইল ইন্টারনেটে গতি এখনো কম। এর কারণ গত সাত-আট বছরে এ খাতে অবকাঠামোগত বিনিয়োগ হয়নি। ফোরজি সারা দেশে থাকলেও সেটার গুণগত মানের উন্নতি হয়নি। অথচ প্রতিবেশী সব দেশ ফাইভজিতে চলে গেছে। বিশেষত মোবাইল ইন্টারনেটে আমরা এখনো বেশ পিছিয়ে আছি। ব্রডব্যান্ডের গতিও সব স্থানে একই নয়। ফলে অর্থনৈতিক জায়গা থেকে এটি এখনো চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।’

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular