ঢাকা  বুধবার, ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeআন্তর্জাতিকইরানে বিক্ষোভ: মূল্যস্ফীতি নিয়ে অসন্তোষ

ইরানে বিক্ষোভ: মূল্যস্ফীতি নিয়ে অসন্তোষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরানে মূল্যস্ফীতির প্রতিবাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভ সরকারবিরোধী রূপ নিচ্ছে। ক্রমেই ছড়িয়ে পড়ছে দেশটির নতুন নতুন অঞ্চলে। গাড়ি ও স্থাপনায় অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটছে। এ অবস্থায় তৃতীয় দিনের মতো দেশব্যাপী ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে সরকার। বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ ঘটছে। এতে হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে আহতের সংখ্যা। পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে সরকারি বাহিনী। এ প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন।

বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে দুটি হাসপাতালের চিকিৎসক গত শুক্রবার রাতে বিবিসিকে জানান, তাদের চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোতে বিপুলসংখ্যক আহত লোকজন আসছেন। এক চিকিৎসক জানান, তেহরানের একটি চক্ষু হাসপাতাল রোগী সামাল দিতে সংকটে পড়েছে। এ অবস্থায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, ইরান ‘বড় ধরনের সমস্যায়’ পড়েছে। তিনি সরকারকে সতর্ক করে বলেন, ‘গুলি চালানো আপনাদের উচিত হবে না। এমনটা করলে আমরাও গুলি চালানো শুরু করব।’

অপরদিকে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে লেখা এক চিঠিতে ইরান বিক্ষোভকে ‘সহিংস নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ও ব্যাপক ভাঙচুরে’ রূপ দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন– কোনো স্বাধীন দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের অধিকার অন্য দেশের নেই। প্রেসটিভি অনলাইন জানায়, ওমানে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। আরাগচি বলেন, আন্তর্জাতিক আইনে আলোচনা ছাড়া কোনো স্বাধীন-সার্বভৌমত্ব দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিষ্পত্তি করা যায় না।

বিক্ষোভকারীদের ‘দাঙ্গাবাজ’ আখ্যা দিয়ে ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সি লিখেছে, বেশ কয়েকটি প্রদেশে অভিযান চালিয়ে দাঙ্গার সঙ্গে জড়িত শতাধিক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। আটকরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কথা বলেছেন। বরুজের্দ ও খুররামাবাদ অঞ্চলে আগ্নেয়াস্ত্রসহ দুটি সশস্ত্র গ্রুপকে আটক করা হয়। দ্য গার্ডিয়ান প্রকাশিত একটি চিত্রে দেখা যায়, ইরানের শতাধিক শহরের মধ্যে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লেও পশ্চিমাঞ্চলের শহরগুলোতে উত্তাপ বেশি।

দুটি মানবাধিকার সংগঠনের উদ্ধৃতি দিয়ে বিবিসি জানায়, গত শুক্রবার সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ইরানের কয়েক ডজন স্থানে সংঘটিত হয়। এতে কমপক্ষে ৫০ জন নিহত হন। এর আগে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে পুরো ইরান ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। তবে স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের মাধ্যমে যোগাযোগ করা ইরানের এক চিকিৎসক শুক্রবার রাতে বলেন, তেহরানের প্রধান চক্ষুবিশেষজ্ঞ কেন্দ্র ফারাবি হাসপাতাল রোগীর চাপে সংকটে পড়েছে। সেখানে জরুরি নয়– এমন ভর্তি ও অস্ত্রোপচার স্থগিত রাখা হয়েছে।

তেহরানের অন্য একটি হাসপাতালের এক স্বাস্থ্যকর্মী বিবিসিকে বলেন, তাদের রোগীদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহতও রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদ সংস্থা এইচআরএএনএ বলছে, গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে দুই হাজার ৩১১ জনেরও বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে।

জাতিসংঘ ও বিশ্বের নানা দেশের প্রতিক্রিয়া
জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক প্রাণহানির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘বিশ্বের যে কোনো স্থানের মানুষের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অধিকার রয়েছে। সরকারগুলোর সেই অধিকার রক্ষার ও অধিকারকে সম্মান করার বিষয়টি নিশ্চিত করার দায়িত্ব আছে।’

ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ও জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মার্ৎস এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, ‘ইরানি কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব তাদের নিজস্ব জনগণকে রক্ষা করা ও প্রতিশোধের ভয় ছাড়াই মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অনুমতি দেওয়া।’

খামেনির হুঁশিয়ারি
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি গত শুক্রবার টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে বলেন, ‘ইসলামী প্রজাতন্ত্র কয়েক লাখ সম্মানিত মানুষের রক্তের বিনিময়ে ক্ষমতায় এসেছে। যারা তা অস্বীকার করে তাদের সামনে এটি পিছু হটবে না।’ পরে সমর্থকদের এক সমাবেশে খামেনি বলেন, ইরান ‘ধ্বংসাত্মক উপাদানগুলোর সঙ্গে মোকাবিলা করতে পিছপা হবে না।’

দৃশ্যপটে রেজা পাহলভি
ইরানের শেষ শাহের পুত্র রেজা পাহলভি গত শুক্রবার বিক্ষোভকে ‘মহান’ বলে বর্ণনা করেন। তিনি ইরানিদের আরও লক্ষ্যবস্তুতে বিক্ষোভ করার আহ্বান জানান। সামাজিক মাধ্যমে তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য এখন আর কেবল রাস্তায় নামা নয়, লক্ষ্য হলো– শহরের কেন্দ্রগুলো দখল করা এবং আরও দখলের প্রস্তুতি নেওয়া।’ যুক্তরাষ্ট্রে থাকা পাহলভি বলেছেন, তিনি দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular