ঢাকা  বুধবার, ১লা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeআন্তর্জাতিকইরানের পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন কেন ট্রাম্পের নতুন টার্গেট

ইরানের পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন কেন ট্রাম্পের নতুন টার্গেট

নিউজ ডেস্ক:   ইরানের পারমাণবিক স্থাপনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’-এ শিগগির হামলা চালানো হতে পারে বলে হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের নাতাঞ্জে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনার কাছের এই পাহাড়ের গভীরে তৈরি করা হয়েছে শক্তিশালী সুরক্ষিত স্থাপনা। চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের মধ্যে এ নিয়ে ট্রাম্পের হুমকি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

শুক্রবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে কারা চলাফেরা করছে, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র জানে। এর আগে গত জুলাইয়েও তিনি স্থাপনাটি ধ্বংস করার হুমকি দিয়েছিলেন। তখন তিনি ইরানকে প্রস্তুত থাকার কথাও বলেছিলেন।

ট্রাম্পের নতুন হুমকির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের খার্গ দ্বীপের কাছে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে চারটি মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে বলে ইরানের সংবাদমাধ্যমে বলা হয়। খার্গ দ্বীপ ইরানের তেল রপ্তানির প্রধান কেন্দ্র; দেশটির প্রায় ৯০ শতাংশ তেল রপ্তানি এই দ্বীপের মাধ্যমে হয়ে থাকে।

ইরানে ‘কুহ-ই কোলাং গাজ লা’ নামে পরিচিত পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন রাজধানী তেহরান থেকে প্রায় ২২০ কিলোমিটার দক্ষিণে ইসফাহান প্রদেশে অবস্থিত। নাতাঞ্জের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনা থেকে এর দূরত্ব মাত্র প্রায় দুই কিলোমিটার।

মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, পাহাড়টির ভেতরে মাটির কয়েক শ মিটার নিচে অত্যন্ত সুরক্ষিত স্থাপনা তৈরি করা হয়েছে। মূল কক্ষগুলো অন্তত ১০০ মিটার গভীরে বলে ধারণা করা হয়। ফলে শক্তিশালী বাংকার বিধ্বংসী বোমা দিয়েও স্থাপনাটিতে হামলা চালানো কঠিন হতে পারে।

স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণকারী ইনস্টিটিউট ফর সায়েন্স অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি জানিয়েছে, স্থাপনাটি এখনো নির্মাণাধীন এবং চালু হয়নি। তবে পশ্চিমা কয়েকজন বিশ্লেষকের ধারণা, ইরানের ঘোষিত পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা হলে বিকল্প হিসেবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম চালানোর জন্য এই স্থাপনা তৈরি করা হয়ে থাকতে পারে।

স্থাপনাটি কেন গুরুত্বপূর্ণ: পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনের সবচেয়ে বড় গুরুত্ব হলো, এটি এখনো প্রায় অক্ষত। ২০২৫ সালের জুনে ইরানের ফোরদো, নাতাঞ্জ ও ইসফাহানের পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালেও পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন তখন হামলার লক্ষ্য হয়নি। চলমান সংঘাতেও স্থাপনাটির বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এদিকে ইরানের সেন্ট্রিফিউজ উৎপাদনকেন্দ্র ও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনাগুলোর বেশ কিছু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে এসব কার্যক্রম পুনর্গঠনের জন্য পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। সেখানে সেন্ট্রিফিউজের যন্ত্রাংশ তৈরি, সংযোজন কিংবা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের কাজ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জুলাইয়ে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রকে এমন গোয়েন্দা তথ্য দিয়েছিল যে গত বছরের শেষ দিকে হাজার হাজার সেন্ট্রিফিউজ এই স্থাপনায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এই তথ্য নিশ্চিত করেনি।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular