নিউজ ডেস্ক : মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (মিডা) আইন, ২০২৬-এর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ধারার সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে। প্রাথমিক শুনানি শেষে সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো কেন অবৈধ, অসাংবিধানিক ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না—তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
রিটে মূলত পরিবেশ সংরক্ষণ, ভূমি ও জীবিকার অধিকার এবং স্থানীয় সরকারের ক্ষমতা ও ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। আবেদনকারীর অভিযোগ, আইনের কয়েকটি বিধান বাস্তবায়িত হলে মহেশখালীর স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অধিকার, পরিবেশগত ভারসাম্য এবং স্থানীয় সরকারের ওপর প্রভাব পড়তে পারে।
মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০২৬ জাতীয় সংসদে প্রণীত ২০২৬ সালের ৮৪ নম্বর আইন। সরকারি আইন তালিকা অনুযায়ী, আইনটি ১০ এপ্রিল ২০২৬ গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়।
এর আগে ২০২৫ সালে একই উদ্দেশ্যে মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। ওই অধ্যাদেশের মাধ্যমে মহেশখালী ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট অথরিটি বা মিডা প্রতিষ্ঠার বিধান করা হয়।
নতুন আইনের আওতায় মহেশখালী অঞ্চলের পরিকল্পিত উন্নয়ন, ভূমি ব্যবহার ও অবকাঠামোগত কর্মকাণ্ডে একটি সমন্বিত কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে রিটকারীদের দাবি, উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে স্থানীয় মানুষের ভূমি, জীবিকা ও পরিবেশগত অধিকার যথাযথভাবে সুরক্ষিত না হলে তা সংবিধানের মৌলিক অধিকার ও স্থানীয় সরকারের ক্ষমতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।
রুল জারির অর্থ হলো, আদালত এখন সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কাছে ব্যাখ্যা চাইছেন—চ্যালেঞ্জ করা ধারাগুলো কেন আইনগতভাবে বহাল থাকবে এবং কেন সেগুলোকে অবৈধ বা অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না। রুল জারি হওয়া চূড়ান্ত রায় নয়; পরবর্তী শুনানি ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য বিবেচনার পর আদালত এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন।
এদিকে মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইনটি ২০২৬ সালের অন্যান্য উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-সংক্রান্ত আইনের সঙ্গে একই সময়ে প্রণীত আইনগুলোর একটি। সরকারি তালিকায় রাজধানী, নারায়ণগঞ্জ ও বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইনসহ একাধিক উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-সংক্রান্ত আইনও রয়েছে।-
মহেশখালীতে শিল্প, জ্বালানি, পর্যটন ও অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবেশ ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা রয়েছে। ফলে মিডা আইনের কয়েকটি ধারার সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে করা এই রিটের পরবর্তী শুনানি সংশ্লিষ্ট মহলে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।




