নিজস্ব প্রতিবেদক: উচ্চতর কোন ডিগ্রী নেই, এস এস সি পাশ তবুও ক্যানসার বিশেজ্ঞ ডা. এস এম সারওয়ার। এই সনদ দিয়েই আবার ৪০টিরও বেশি রোগের চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন তিনি। তারই প্রতিষ্ঠান গণ স্বাস্থ্য হোমিওতে বসেই ধেধারচে চিকিৎসা করে সাধারণ মানুষের। এ প্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে আইনজীবীর লিগ্যাল নোটিশও জারি করা হয়েছে। তবুও তিনি নন স্টপ চিকিৎসা করে যাচ্ছেন!
জানা যায়, তিনি রাজধানীর প্রাণ কেন্দ্র ৫৬/১ বায়তুল ভিউ টাওয়ারের ১২তলায় পুরানা পল্টন, ঢাকা-এর ফ্লোরে গণস্বাস্থ্য হোমিও চিকিৎসক নামে দীর্ঘ দিন ধরে ক্যান্সারসহ ৪০টির বেশি রোগের তিনি চিকিৎসা করে থাকেন। শুধু ঢাকায় নয় ডা. এসএম সারওয়ার তার নিজ এলাকার হবিগঞ্জ জেলার সদর থানার পিটি আই রোড, বাসা নং-৩৫৯৫ রয়েছে চেম্বার। ডা. এস এম সারওয়ারের বিরুদ্ধে রয়েছে নানা অনিয়ম। তিনি কেবল মাত্র এসএসসি পাস করে ঢাকায় এসে হোমিও প্যাথিক কলেজে ভর্তি হয়ে কিছু দিন ক্লাস করে পরীক্ষা দেন। হোমিও প্যাথিক কলেজ থেকে পাস করে তিনি হোমিও ডাক্তার হিসেবে সাইন বোর্ড ব্যানার ও ভিজিটিং কার্ড লাগিয়ে ঢাকার ১৪ পুরানা পল্টন দারুস সালাম মার্কেট-এর ৭ তলায় একটি কক্ষ নিয়ে চিকিৎসা সেবা দিতে শুরু করেন। এরপরে তার কোন কলেজে বা বিশ্ববিদ্যালয়ের লেখাপড়া না করেই ডা. এস এম সারওয়ার এখন ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ডাক্তার হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিয়ে আসছেন। ডা. এস এম সারওয়ারের বিশেষজ্ঞ ডিগ্রী
লেখার কারণে তার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে একজন সিনিয়র আইনজীবী মুহাম্মদ নজরুল খান পাখি একাধিকবার লিগ্যাল নোটিশ দিয়েছেন। গত ৩ ডিসেম্বর ২৪ ইং প্রথম লিগ্যাল নোটিশ করা হয়। নোটিশে ১৫ দিনের মধ্যে ডা. এস এম সাওয়ারের বৈধ কাগজপত্র দেখতে চাওয়া হয়। কিন্তু ১৫ দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও ডা. এস এম সারওয়ার নোটিশের কোন জবাব না দেয়ায় গত ২৫ ডিসেম্বর-২৪ দ্বিতীয় বার লিগ্যাল নোটিশ দেয়া হয়। কিন্তু দ্বিতীয় নোটিশের ও কোন জবাব দেন নাই। ডা. এস এম সারওয়ারের ক্যান্সার বিশেষজ্ঞদের কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেন নাই।
জানা যায়, ডা. এস এম সারওয়ার অবৈধ দালাল শ্রেণীর মাধ্যমে তথ্য প্রযুক্তি এড. মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম খান পাখি তার দ্বিতীয় লিগ্যাল নোটিশ সূত্রে ব্যবহার করে তিনি নিজেকে এশিয়ার বিখ্যাত ক্যান্সার চিকিৎসার জাতীয় থাকেন। ডা. এস এম সারওয়ারের কাছে লিগ্যাল নোটিশ দেয়ার কারণে এড, পুরষ্কারপ্রাপ্ত ক্যান্সার গবেষক, অধ্যক্ষসহ আরো একাধিক পদবী ব্যবহার করে মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম পাখিকে তার ক্যাডার বাহিনী দিয়ে প্রাণ নাশের হুমকি দেয়া হয়েছে বলেও লিগ্যাল নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
এড. মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম পাখি ও তার ভয়েজ ম্যানেজ-এর মাধ্যমে এ প্রতিবেদককে জানান, ডা. এস এম সারওয়ার একজন জুলুমবাজ, প্রতারক ও থেকে প্রতিনিয়ত লাখ লাখ টাকা তিনি হাতিয়ে নিয়েছেন। তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে ডা. এস এম সারওয়ার সাধারণ অসহায় মানুষের সাথে দীর্ঘ দিন ধরে নিজেকে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার পরিচয়ে দিয়ে গোটা নাগরিক সমাজ এমনকি মিথ্যা পরিচয়কারী তার দালাল চক্রের কাছে অনেক নিরীহ লোকজনের কাছ দেশটাকে বোকা বানাচ্ছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জনৈক ব্যক্তি জানান, ডা. এ কে এস সারওয়ারের কোন ডিগ্রী নেই অথচ তিনি সাইন বোর্ড ও ভিজিটিং কার্ডে লিখেছেন ক্যান্সার গবেষক অধ্যক্ষ ডাক্তার এস এম সাওয়ার। যেখানে তার শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন সেখানে কিভাবে ডা. এ কে এস সাওয়ার সাধারণ মানুষের সাথে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা করে আসছেন। তারই সাথে তিনি দীর্ঘ দিন ধরে প্রতারণা করে আসছেন। আর তিনি হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। ক্যান্সার গবেষণার জন্য তিনি কোন ল্যাব ব্যবহার করেন তাও জানা যায়নি। একই সঙ্গে তিনি কোন হোমিও কলেজে অধ্যাপনা করছেন তাও রহস্যজনক।
তিনি বিশেষজ্ঞ সিকিৎসও বটে। ডা. এস এস সাওয়ারের দ্বারা হাজার হাজার মানুষ প্রতিনিয়ত প্রতারণার স্বীকার হচ্ছেন। জনৈক ঐ ব্যক্তি আরো জানান, তার নিকটতম কয়েকজন আত্মীয়-স্বজন ডা. এস এম সাওয়ারের কাছে গিয়ে তার চিকিৎসা শর্তে দীর্ঘদিন ওষুধ সেবন করার পরও কোন রোগ ভালো হয়নি। এবং দীর্ঘ সময় কাল ক্ষেপনের কারণে ভুক্তভোগীদের রোগ আরো বেড়ে গেছে। তিনি বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে যেসব চিত্র মানুষের কাছে তুলে ধরেন এবং ৪০টি ও বেশি রোগের চিকিৎসা করে থাকেন তার মধ্যে একটি রোগ ও ভালো হওয়ার কোন নজির পাওয়া যায়নি। এই ভুয়া ক্যান্সার গবেষক শুধু ঢাকায় নয় নিজ গ্রাম হবিগঞ্জের সাধারণ মানুষের সাথে জীবন ছিনিমিনি খেলছেন।
সূত্র জানায়, ডা. এস এম সাওয়ারের কতিপয় দালাল চক্র রয়েছে। এই দালাল চক্রের মাধ্যমে বিভিন্ন হাসপাতাল ও গ্রামগঞ্জের রোগীদের কাছে গিয়ে তাদের ভালো উন্নত মানের চিকিৎসা সেবা দেয়ার কথা বলে ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীদের ভাগিয়ে নিয়ে আসে। তার বায়তুন আমান চেম্বারে গেলে দেখা যায় ১৫/২০ জনের একটি দালাল চক্র সেখানে বসে থাকে। কোনো একটি ক্যান্সার আক্রান্ত রোগী ডা. এস এম সাওয়ারের কাছে কৌশলে নিয়ে আসতে পারলেই দালালদেরকে অর্থের একটি অংশ দেয়া হয়। ভুক্তভোগীরা অনেক সময়ে কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে ডা. এস এম সাওয়ারের চেম্বারে প্রতিবাদ করতে আসলে তাদেরকে নানারকমভাবে হুমকি দেয়া হয়। রোগীরা ভয়ে তা প্রতিবাদ করেন না। এ ব্যাপারে ডা. এস এম সাওয়ারের সাথে তার মুঠোফোনে একাধিক বার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোনের লাইন কেটে দেন।



