ঢাকা  , ;           সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeজাতীয়কুরআনের শিক্ষা নিয়ে সমাজের নেতৃত্বে আসার আহ্বান শফিকুর রহমানের

কুরআনের শিক্ষা নিয়ে সমাজের নেতৃত্বে আসার আহ্বান শফিকুর রহমানের

হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতায় অংশ নেন ১ লাখ ৩৫ হাজার শিক্ষার্থী, পুরস্কার পেলেন ২৪৩ জন

নাজমুল হোসেন : রাজধানীর মিরপুরে পাঁচ মাসব্যাপী ‘হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা ২০২৬’-এর গ্র্যান্ড ফাইনাল ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত শুক্রবার বিকেলে শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

অনুষ্ঠানে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যাঁরা পবিত্র কুরআন বুকে ধারণ করেছেন, তাঁরা যেন সমাজে কুরআনের শিক্ষা বাস্তবায়নে নেতৃত্ব দিতে পারেন। তাঁদের মেহরাব থেকে নেতৃত্বের আসনে দেখতে চান তাঁরা।

নগর উন্নয়ন ফোরামের উদ্যোগে এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের পৃষ্ঠপোষকতায় এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নগর উন্নয়ন ফোরামের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৬ জুলাই শুরু হওয়া এ প্রতিযোগিতায় ঢাকার ৮০০টি মাদ্রাসার প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেন। কুরআনের ১০, ২০ ও ৩০ পারা—এই তিন বিভাগে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। চূড়ান্ত পর্ব শেষে মোট ২৪৩ জনকে বিজয়ী নির্বাচিত করে পুরস্কার দেওয়া হয়। পুরস্কারের মধ্যে ছিল ওমরাহ পালনের সুযোগ, ল্যাপটপ, সাইকেল ও নগদ অর্থ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এ ধরনের বিরল আয়োজন আগে কোথাও হয়নি। আয়োজনটি বাস্তবায়নের জন্য নগর উন্নয়ন ফোরামের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

ছোটখাটো মতপার্থক্য দূরে রেখে সবাইকে পবিত্র কুরআন ও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহর আলোকে সমাজ গঠনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

প্রতিযোগিতার ১০ পারা বিভাগে প্রথম স্থান অর্জনকারী রিদওয়ান বিন আলীকে অভিনন্দন জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তাঁর বাবা, মা ও উস্তাদকে নিজের পক্ষ থেকে ওমরাহ করানোর ব্যবস্থা করবেন, ইনশা আল্লাহ।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, শুধু পুরস্কার দেওয়া বা নেওয়া নয়, কুরআনের আলোয় সমাজকে আলোকিত করা এবং সমাজে কুরআনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠা করাই এ আয়োজনের উদ্দেশ্য।

তিনি বলেন, কওমি ও আলিয়া মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন। শিক্ষাপদ্ধতি ও পরিচয়ের ভিন্নতা থাকলেও পবিত্র কুরআনের প্রশ্নে সবাই ঐক্যবদ্ধ। ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনে কুরআনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলাই তাঁদের লক্ষ্য।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান বলেন, পবিত্র আল-কুরআন মুসলিম জাতির জীবনবিধান। দেশে প্রতিবছর হাজার হাজার হাফেজে কুরআন তৈরি হচ্ছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের আমির ও সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, দীর্ঘ পাঁচ মাস ধরে কুরআন মুখস্থকারীদের নিয়ে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন স্মরণীয় হয়ে থাকবে। ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিটি ক্ষেত্রে কুরআনের শিক্ষা বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

নগর উন্নয়ন ফোরামের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান মূসা বলেন, এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে কুরআনের আদর্শে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করছেন তাঁরা।

বিশিষ্ট আলেম মুফতি আলী হাসান উসামা বলেন, এ আয়োজন বাংলাদেশের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। ভবিষ্যতে রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বসহ দেশের বিভিন্ন পর্যায়ে হাফেজ ও আলেমদের দায়িত্ব পালনের সুযোগ তৈরি হলে এ আয়োজনের সার্থকতা আরও বাড়বে।

প্রতিযোগিতার প্রধান বিচারক ও হুফফাজুল কুরআন ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের চেয়ারম্যান শায়েখ হাফেজ আব্দুল হক এ আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রশংসা করেন। জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা যায়নুল আবেদিনও কুরআনের শিক্ষা অনুসরণকারীদের যথাযথ সম্মান দেওয়ার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য কর্নেল (অব.) আব্দুল বাতেন, ঢাকা মহানগরী উত্তরের জামায়াতের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা, আলেম-ওলামা, প্রতিযোগী ও তাঁদের অভিভাবকেরা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম ও হাফেজ খালিদ সাইফুল্লাহ বকসি।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular