নিউজ ডেস্ক: গণতন্ত্র মঞ্চের অন্যতম নেতা এবং নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না স্বাধীনতাউত্তর বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় ছাত্রনেতা। একবার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-চাকসুর সাধারণ সম্পাদক এবং টানা দুইবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-ডাকসুর সহসভাপতি নির্বাচিত হয়ে রেকর্ড স্থাপন করেন। আশির দশকে তিনি বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল বাসদ গঠন প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলেন। ১৯৯১ সালে আওয়ামী লীগে যোগ দেন; এক পর্যায়ে সাংগঠনিক সম্পাদক হন। তাঁর জন্ম বগুড়া শহরে, ১৯৫১ সালে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সমকালের সহকারী সম্পাদক সাইফুর রহমান তপন।
প্রশ্ন: গণ-অভ্যুত্থানের এক বছর পূর্তি হলো। প্রথমে এক বছরের একটি সংক্ষিপ্ত মূল্যায়ন করুন।
মাহমুদুর রহমান মান্না: গণ-অভ্যুত্থানটা বিশাল ছিল– গুণে-মানে-আয়তনে। আকাঙ্ক্ষা ও প্রতিরোধ ছিল আকাশচুম্বী। কিন্তু গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী রাষ্ট্র পরিচালনার প্রস্তুতি ছিল না। প্রস্তুতি বলতে বোঝাচ্ছি, লড়াই হয়েছে, জানবাজি লড়াই সবাই লড়েছে, ফ্যাসিবাদী খতম হলো। কিন্তু ফ্যাসিবাদী শাসকের জায়গায় কে আসবে, সেটা নির্ধারিত ছিল না। সবাই গণতান্ত্রিক উত্তরণ চেয়েছে, একটি গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা। কিন্তু যে ধরনের সরকার এটি সম্ভব করে তুলবে, অন্তত সে পথে যাত্রা সুগম করবে, সে ধরনের সরকার সম্পর্কে সবার মধ্যে কোনো আলোচনা ছিল না।
প্রশ্ন: কিন্তু গণ-অভ্যুত্থানের নেতা বর্তমানে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম তো বলেছেন, তারা বিএনপিকে জাতীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন।
মাহমুদুর রহমান মান্না: হ্যাঁ, নাহিদ ইসলাম এটি এখন বলছেন। অন্যদিকে বিএনপি এর কোনো জবাব দেয়নি এখনও। কিন্তু আসিফ নজরুল, যাকে ৫ আগস্ট সেনানিবাসে এবং বঙ্গভবনের বৈঠকে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছিল, তিনি তো বলেছিলেন– জাতীয় সরকারের কথা কেউ বলেনি। কবি ফরহাদ মজহার বলেছিলেন শহীদ মিনারে শপথ নিতে; যদিও তাঁর স্ত্রী অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে প্রথম দিনই শপথ নিয়েছেন। আবার এটিও দেখুন, ছাত্রনেতারা একটি বৈপ্লবিক সরকার চাচ্ছেন আন্ডার দ্য লিডারশিপ অব প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস, যিনি আপাদমস্তক পশ্চিমা গণতন্ত্রের অনুসারী। এটি প্যারাডক্সিক্যাল বা পরস্পর বিরোধাত্মক না? প্রফেসর ইউনূস আবার শেখ হাসিনার নিয়োগ দেওয়া রাষ্ট্রপতিকে রেখে দিয়েছেন। তিনি হয়তো ভেবেছেন– আমি ক্ষমতা নিলে তার একটি সাংবিধানিক বৈধতা লাগবে। যদিও রাষ্ট্রপতির কোনো ভূমিকা নেই, কোনো ক্ষতিও করতে পারছেন না তিনি, তবুও পুরোনো কাঠামোরই তো মানুষ তিনি। আরেকটি কথা বলি, ১৫ বছর শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্দোলন করল বিএনপিসহ রাজনৈতিক দলগুলো; আর একেবারে শেষ সময়ে; বিজয়ের মুহূর্তে তারা চলে গেল সাইডলাইনে। সামনে চলে এলো নতুন শক্তি, তরুণেরা। এরপর যে সরকার গঠিত হলো, ছাত্র প্রতিনিধিদের কথা বাদ দিলে, তারা কেউই আন্দোলনের সামনের ভাগের লোক ছিলেন না। ফলে দীর্ঘ আন্দোলনে যে আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছিল, যা ৩১ দফায় প্রতিফলিত, তা নিয়ে ড. ইউনূস এগোলেন না।
প্রশ্ন: জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় তা জায়গা পায়নি?
মাহমুদুর রহমান মান্না: জাতীয় ঐকমত্য কমিশন যা করছে, তা একেবারেই তাদের ব্রেইন চাইল্ড বা মস্তিষ্কজাত এবং এটাকে আমি চমৎকার কাজ বলে মনে করি।
প্রশ্ন: কিন্তু কেউ কেউ তো বলছেন, আমজনতাকে বাদ দিয়ে একটি এলিটিস্ট প্রক্রিয়ায় জাতীয় ঐকমত্য কমিশন কাজ করছে।
মাহমুদুর রহমান মান্না: রাষ্ট্র সংস্কার নিয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন যা ভাবছে, তা শুধু তাত্ত্বিকভাবেই সমৃদ্ধ নয়, তার কার্যকারিতাও আছে। এমনকি প্রস্তাবগুলোর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়েও তারা ভাবছে। আমার কাছে মনে হয়েছে, প্রফেসর আলী রিয়াজ ও তাঁর সঙ্গে আরও যারা আছেন তারা সবাই মেধা দিয়ে, শ্রম দিয়ে কাজটা তুলে আনার চেষ্টা করছেন। হ্যাঁ, বলা হতে পারে, ১৯টি বিষয়ে ঐকমত্য তৈরি হলেও তার ১০টিতে নোট অব ডিসেন্ট বা আপত্তি আছে। নোট অব ডিসেন্ট মানে এখনই তা বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না। কিন্তু ৯টি বিষয়ে যে ঐকমত্য হয়েছে, সেটিও একটি বড় অর্জন। এখন তো একেবারে গ্রামের চায়ের দোকানেও সংস্কার নিয়ে কথা হয়। এটি হয়েছে ঐকমত্য কমিশনের জন্য। রাজনীতি নিয়ে আলোচনা সর্বত্র হচ্ছে। একেবারে নিচুতলায়ও তা ছড়িয়ে পড়েছে। এটিকে আমি দারুণ, অনন্য মনে করি। এর ফল এখনই দেখা যাবে না, তবে পাঁচ বছর পর হলেও তা দেখা যাবে।
প্রশ্ন: ঐকমত্য কমিশনের কাজে আপনি তাহলে ভীষণ সন্তুষ্ট?
মাহমুদুর রহমান মান্না: দেখুন, আমাদের রাজনীতি ভীষণ নিচু পর্যায়ে চলে গিয়েছিল। একজন আরেকজনের মুখ দেখত না; পরস্পর কথা বলা দূরের কথা। প্রতিপক্ষকে গালাগাল করাই যেন দস্তুর হয়ে পড়েছিল। অথচ কমিশনের বৈঠকে একেবারে সম্পূর্ণ বিপরীত মতের দলগুলোর নেতারাও পাশাপাশি বসে দিনের পর দিন কথা বলেছেন; যুক্তি-তর্ক করেছেন। একটু একটু রাগারাগি হয়নি, তা নয়। কিন্তু তেমন কোনো উত্তেজনা নেই, মনকষাকষি নেই; বড় কোনো বর্জনের ঘটনাও ঘটেনি। শেষ পর্যন্ত সংলাপটা বেশ ভালোভাবেই উপসংহারে নিয়ে যেতে পেরেছেন তারা। এটি তো বড় একটি সাংস্কৃতিক অগ্রগতি বলে আমি মনে করি, বিশেষত রাজনীতির ক্ষেত্রে। আমি যতটুকু জানি, তৃতীয় দফায় ঐকমত্য কমিশন বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে কথা বলবে। তারা এমনকি এ জন্য সংবিধান বিশেষজ্ঞদের সঙ্গেও কথা বলবে। হ্যাঁ, আমার এ প্রত্যাশা ধুলায় মিশে যেতে পারে, যদি সামনের নির্বাচনটি ঠিকঠাক না হয়। ড. ইউনূস বলেছেন, বিশ্ব তাকিয়ে দেখবে এ সুন্দর নির্বাচনের দিকে। অত ভালো নির্বাচন হবে বলে আমি মনে করি না। আমি বলব, তেমনটা যদি না-ও হয়, যদি ন্যূনতম একটি মান রেখে নির্বাচন আমরা করতে পারি, এর মধ্য দিয়ে গঠিত সরকার যদি তা ভালোভাবে নেয়, তাহলেও সংস্কারের একটি পর্যায় আমরা ভালোভাবে অতিক্রম করতে পারব। আর সেটিকে যদি আমরা গুঁড়িয়ে দিই তাহলে তো কিছুই থাকবে না।
প্রশ্ন: কিন্তু সংবাদমাধ্যমে তো এ খবরও এসেছে যে, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে দলগুলোর মধ্যে মতভেদ ব্যাপক। বিএনপি বলছে, পরবর্তী সংসদ তা দেখবে। জামায়াত ও এনসিপি বলছে, এখনই তা বাস্তবায়ন শুরু করতে হবে; এর একটি আইনি ভিত্তি দিতে হবে। আপনি কী বলবেন?
মাহমুদুর রহমান মান্না: এ জায়গাতেই গণতন্ত্রের একটি পরীক্ষা হয়ে যাবে বলে আমি মনে করি। আমাদের অতীত দেখলে দেখা যাবে, নানা নির্বাহী আদেশ দিয়ে আমরা কিছু কিছু সংস্কারকাজ করেছি, যেগুলো আদালত পরবর্তী সময়ে বাতিল করে দিয়েছেন। আইনি ভিত্তি ভালো, তবে এটিই চূড়ান্ত নয়। একসময় তো ইনডেমনিটি সংবিধানে দায়মুক্তি বিধানও যুক্ত করা হয়েছিল, তা কি শেষ পর্যন্ত টিকেছে? টেকেনি তো। বিচার তো করতে পেরেছে। আসলে যা হচ্ছে তা হলো, এখানেও সবাই উইনিং পয়েন্ট খুঁজছে; প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে এগিয়ে থাকার পথ খুঁজছে। তা খুঁজতে গিয়ে নতুন নতুন বিষয় আনছে– না, এটা না হলে ওটা করব না। পিআর না হলে নির্বাচন করব না। এখনই সনদের আইনি ভিত্তি লাগবে, না হলে তাতে স্বাক্ষর করব না– এটি কোনো কাজের কথা না।
প্রশ্ন: তাহলে জুলাই সনদের টিকে থাকার নিশ্চয়তা কীভাবে তৈরি হবে?
মাহমুদুর রহমান মান্না: আমি আপনাকে বলেছি, অধ্যাপক আলী রীয়াজরা আইনজ্ঞ ও সংবিধান বিশারদদের সঙ্গে কথা বলবেন। অর্থাৎ তারা নিশ্চয় সংস্কার নিয়ে ঐকমত্যকে এতদূর এসে নষ্ট হতে দেবেন না। এ সরকারের হাজারটা ব্যর্থতা আছে, কিন্তু ঐকমত্য কমিশন যা করেছে তা একটি বড় সাফল্য। তারা যে সংবিধান বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বসবেন, সে বিশেষজ্ঞরা যদি বলেন যে, আইনি ভিত্তি না দিলে তা টিকবে না, তখন কি বিএনপি গায়ের জোরে ভিন্ন কথা বললে তা টিকবে? কিংবা জামায়াত যদি গোঁ ধরে, সেটাও কি টিকবে?
প্রশ্ন: বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে তো এ মতও আছে, এতে শ্রমিক-কৃষকের কথা নেই।
মাহমুদুর রহমান মান্না: হ্যাঁ নেই। কত কিছুই তো নেই। কিন্তু যদি রাজনীতির কথা মাথায় রেখে জুলাই সনদের দিকে তাকানো হয় তাহলে বড় কিছু দেখা যাবে। এখানে বিবেচনা হতে হবে এই যে, গণতন্ত্রের পথে আমি এগোলাম কিনা। আমি মনে করি, সেদিকে আমরা পা বাড়িয়েছি। একটি পা সামনে চলে গেছে। এই পা মাটিতে পড়লেই আরেকটি পা উঠে আসবে। কিন্তু তা যদি মাটিতে না পড়ে তাহলে তো সবই গেল। আমি এটিকে একটি শুভসূচনা বলছি। একই সঙ্গে এটিও বলেছি, এটি যখন তখন উল্টে যেতে পারে। দুই পক্ষ একটি বাঁকা অবস্থান নিয়ে বলে ফেলল– মানব না। তাহলে হয়তো সামরিক শাসন এসে যাবে। এ জন্যই আমি বলছি, এ সময় এতই জটিল এবং গুরুত্বপূর্ণ যে সবাইকে সতর্ক রেখে পা ফেলতে হবে। আরেকটি সমস্যা হলো, বর্তমান বিশ্বে শুধু বাংলাদেশ নয়, সর্বত্রই নেতিবাচক বিষয় সংবাদমাধ্যমে জায়গা পায় বেশি। তারপরও আমাদের সচেতন থাকতে হবে।
প্রশ্ন: আপনি বলছেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে অন্তত রাজনীতির কিছু বিষয়ে ঐকমত্য আছে। কিন্তু অনেকে তো বলছেন, অভ্যুত্থানের শক্তি নানা মতে বিভক্ত।
মাহমুদুর রহমান মান্না: অভ্যুত্থানের সময় ঐক্য কোথায় ছিল? শুধু সরকার পতন সবাই চেয়েছে। কিন্তু আগেই বলেছি, সরকার কী ধরনের হবে, তা নিয়েই তো কোনো ঐক্য ছিল না। সংস্কার নিয়েও তো কোনো আলোচনা ছিল না। এমনকি ৪ আগস্টেও আমি বহু মানুষকে পেয়েছি, যারা আদৌ পরিবর্তনের ব্যাপারে আশাবাদী ছিলেন না। ছাত্রনেতাদের যেসব সাক্ষাৎকার দেখেছি, সেখানে তাদের একজনকেও আমার কাছে সরকার পরিবর্তনের বিষয়ে আশাবাদী মনে হয়নি। এখন বরং ঐক্য দেখা যাচ্ছে। কমিশনের সভায় ডান-বাম সবাই বসে পরস্পরের মতের প্রতি সম্মান দেখিয়ে আলোচনা করছেন। এ আলোচনার মধ্য দিয়ে যতটুকু ঐকমত্য তৈরি হয়েছে, তার শেষ ধাপ সফল হলে রাজনীতিতেও তা গুণগত পরিবর্তন আনবে।
প্রশ্ন: সরকার জুলাই ঘোষণাও দিচ্ছে। এ নিয়ে কিছু বলবেন?
মাহমুদুর রহমান মান্না: এটা ছাত্ররা খুব গুরুত্ব দিয়ে বলছেন বটে, তবে জুলাই ঘোষণা বাস্তবে কিছু না। মঙ্গলবার যা ঘোষণা করা হবে, সেখানে তেমন কিছুই নেই। আমি পড়েও দেখিনি তা। আর সরকার এ উপলক্ষে যেভাবে ট্রেন ভাড়াসহ নানা কিছু করছে, তা তাদের অপরিপক্বতার প্রমাণ দেয়।
প্রশ্ন: নির্বাচন নিয়ে তো বিএনপিই শুধু বলছে যে আগামী ফেব্রুয়ারিতে তা হবে। অন্যরা তো তা বলছে না। জামায়াত ও এনসিপি তো রীতিমতো শর্ত জুড়ে দিয়েছে। আপনি কী দেখছেন?
মাহমুদুর রহমান মান্না: নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতেই হতে হবে, নইলে আর সময় কোথায়? অন্যরা কী বলল তাতে কিছু আসে যায় না। দেখুন, বিএনপির সঙ্গে ১৫ বছর আন্দোলন করলেও আমি এখন বিএনপির মতো করে কথা বলি না। বিএনপি বলেছে, সংসদে ওপরে-নিচে দুই কক্ষেই এফপিটিপি (সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটের ভিত্তিতে ফল) হবে; আমি তা বলি না। আমাদের মত, নিম্নকক্ষে এফপিটিপি হলেও উচ্চকক্ষে তা চলবে না, সেখানে পিআর (ভোটের আনুপাতিক হারে আসন বণ্টন) হতে হবে। তারপরও নির্বাচনের সময় নিয়ে বিএনপির সঙ্গে আমার মিলে যাওয়ার কারণ, ফেব্রুয়ারির পর আমি নির্বাচনের কোনো সময় দেখছি না। নির্বাচন বরং এগিয়ে আসতে পারে– এ বছরের ডিসেম্বরে; পিছিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তাহলে দেশ একটা গাড্ডায় পড়ে যাবে। এনসিপি বা জামায়াত নির্বাচন পেছাতে চায় কারণ, তাদের সময় দরকার। রোববার এনসিপি শহীদ মিনারে সমাবেশ করেছে, সেটা তো আমরা দেখেছি। আর জামায়াত বিরাট মিছিল করতে পারে, কিন্তু ভোটের বাক্স আলাদা হিসাবে ভরবে। আগে ৭ শতাংশ ভোট পেয়ে থাকলে এবার বড়জোর তা ১২ শতাংশ হতে পারে, এর বেশি তো নয়। তবে এ দুই দল দেরিতে নির্বাচন চাইলেও নির্বাচন বানচালের দিকে যাবে না। তাহলে ওরা অস্তিত্ব সংকটে পড়বে।
প্রশ্ন: সরকারের মনোভাব কী এ বিষয়ে?
মাহমুদুর রহমান মান্না: সরকার খুবই বিভ্রান্ত বলে মনে হয়। প্রফেসর ইউনূস রাজনীতিকে দুচোখে দেখতে পারেন না বলে মনে হয়। তিনি যতবার বিদেশে গেছেন, সেখানে বহু বিদেশির সঙ্গে কথা বলেছেন, কিন্তু দেশে কি কারও সঙ্গে কথা বলেন তিনি? আমরা জেনারেল জিয়াকে দেখেছি। রাজনৈতিক কোনো অভিজ্ঞতা তাঁর ছিল না। সামরিক শাসন জারি করে, গণভোট করে, দল গঠন করে পাকাপাকি রাজনীতিতে এলেন। শেষ পর্যন্ত তাঁর সাকসেস রেট দেখুন, খুব হাই। আমাকে তা বিস্মিত করে। তাঁর দল এখন দেশের এক নম্বর দল। আর প্রফেসর ইউনূসকে দেখুন। এত বড় আন্তর্জাতিক খ্যতিসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব, রাজনীতিতে গাড্ডা মারলেন। প্রশাসন বা দেশ শাসনই তো মূলত রাজনীতি। সেটিও ঠিকঠাক করতে পারলেন না। ঐকমত্য কমিশন করেছেন, সেটিও চালাচ্ছেন আলী রীয়াজকে দিয়ে। আলী রীয়াজের কারণে অবশ্য কমিশন নিয়ে কোনো বিতর্ক তৈরি হয়নি। চমৎকারভাবে সবকিছু সামলাচ্ছেন তিনি।
প্রশ্ন: এনসিপি যে শাপলা প্রতীক চাইল, তা আপনারাও চেয়েছিলেন। এ নিয়ে কিছু বলবেন?
মাহমুদুর রহমান মান্না: আমরা শাপলা প্রতীক চেয়েছিলাম। আমাদের নির্বাচন কমিশন বলল, কোনো জাতীয় প্রতীক নির্বাচনে ব্যবহৃত হতে পারে না। আমরা তা মেনে নিয়েছি। এনসিপির নেতারা আমার কাছে এসেছিলেন– তারা শাপলা পেলে আমি যেন কোনো মামলা না করি। আমি বলেছি, তা করব না। নির্বাচন কমিশন যদি তাদের শাপলা দেয় দিতে পারে; তবে এ নিয়ে প্রশ্ন তুলতে তো বাধা নেই। এ নিয়ে তারা এত কথা বলছে, তাতে মানুষ তাদের ক্ষমতাসীন দল মনে করছে।
প্রশ্ন: এ সরকার নির্বাচন নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠুভাবে করতে পারবে, আপনি মনে করেন?
মাহমুদুর রহমান মান্না: সরকার নিরপেক্ষ থাকবে, এটা আমি মনে করি। হয়তো এনসিপির প্রতি তাদের কিছুটা পক্ষপাত থাকতে পারে। তবে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে কিনা, তা নিয়ে আমার সংশয় যথেষ্ট। পুলিশের কোনো সংস্কার হয়নি, ভালো ভোট হয় কীভাবে? তাই আমি বিএনপিকে বলি, ভাই, আপনাদের ওপরই সুষ্ঠু নির্বাচন নির্ভর করছে।
প্রশ্ন: সময় দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।
মাহমুদুর রহমান মান্না: ধন্যবাদ।
সূত্র: সমকাল।



