ঢাকা  বুধবার, ১লা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeসারাদেশগৃহবধূর ছবি বিকৃত করে ব্ল্যাকমেইল, ধর্ষণ: জামালপুরে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড

গৃহবধূর ছবি বিকৃত করে ব্ল্যাকমেইল, ধর্ষণ: জামালপুরে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড

সৈয়দ নুরুল্লাহেল সাদেক, জামালপুর প্রতিনিধি : জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে এক গৃহবধূর ছবি বিকৃত করে ব্ল্যাকমেইল এবং একাধিকবার ধর্ষণের মামলায় দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁদের প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সোমবার দুপুরে জামালপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক আব্দুর রহিম আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি হলেন দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার নিমাইমারী গ্রামের আশকর আলী (৪০) ও জাহিদুল ইসলাম (৩৫)।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফজলুল হক বলেন, ভুক্তভোগী নারী ও আসামিরা একই গ্রামের বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে আসামিরা ওই গৃহবধূকে বিভিন্নভাবে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। তিনি এতে রাজি না হওয়ায় আসামিরা তাঁর ছবি বিকৃত করে আপত্তিকর ছবি তৈরি করেন। পরে এসব ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখানোর পাশাপাশি তাঁর স্বামী ও সন্তানকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, এসব ভয়ভীতি দেখিয়ে আশকর আলী ওই গৃহবধূকে তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে একাধিকবার ধর্ষণ করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফজলুল হক আরও বলেন, ঘটনার ধারাবাহিকতায় ২০২২ সালের ৩১ মার্চ রাতে গৃহবধূর স্বামী বাড়িতে না থাকার সুযোগে আশকর আলী ও জাহিদুল ইসলাম জোরপূর্বক তাঁর বসতঘরে প্রবেশ করেন। এ সময় জাহিদুল ইসলামের সহায়তায় আশকর আলী ওই নারীকে আবারও ধর্ষণ করেন।

একপর্যায়ে গৃহবধূর স্বামী বাড়িতে ফিরে বিষয়টি দেখতে পেয়ে বাধা দেন। তখন আসামিরা স্বামী-স্ত্রী দুজনকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। তাঁদের ডাকচিৎকার শুনে এক প্রতিবেশী এগিয়ে এলে তাঁকেও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়।

আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময় আসামিরা মুঠোফোনে আপত্তিকর দৃশ্য ধারণ করেন। ঘটনাটি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাঁরা চলে যান।

পরে কোনো উপায় না পেয়ে ওই বছরের ১০ এপ্রিল ভুক্তভোগী গৃহবধূর ছেলে বাদী হয়ে তিনজনের নাম উল্লেখ করে দেওয়ানগঞ্জ থানায় ধর্ষণের মামলা করেন।

মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ আশকর আলী ও জাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় মামলায় ছয়জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জানান, সাক্ষ্য ও অন্যান্য নথিপত্র পর্যালোচনা করে আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাঁদের মৃত্যুদণ্ড দেন। একই সঙ্গে দুই আসামিকে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular