ঢাকা  , ;           সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeঅর্থনীতিচাহিদামতো টাকা তুলতে পারবেন ন্যাশনাল ব্যাংকের আমানতকারীরা

চাহিদামতো টাকা তুলতে পারবেন ন্যাশনাল ব্যাংকের আমানতকারীরা

অর্থনীতি ডেস্ক: দীর্ঘদিনের তারল্য সংকট, আমানতকারীদের অর্থ উত্তোলনে ভোগান্তি এবং খেলাপি ঋণের চাপের মধ্য দিয়ে যাওয়া ন্যাশনাল ব্যাংক পিএলসিকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরাতে এবার আমানতকারীদের চাহিদামতো অর্থ উত্তোলনের সুযোগ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে ব্যাংকটির সব শাখা ও এটিএম বুথে প্রয়োজনীয় নগদ অর্থ সরবরাহ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের তারল্য চাপ কাটিয়ে গ্রাহকদের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং ব্যাংকিং কার্যক্রমে শৃঙ্খলা ফেরানোর নতুন উদ্যোগ শুরু হলো।

একসময় তারল্য সংকট এতটাই তীব্র হয়েছিল যে ন্যাশনাল ব্যাংক গ্রাহকদের আমানত সময়মতো ফেরত দিতে হিমশিম খাচ্ছিল। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ঈদের আগে নগদ অর্থের চাহিদা বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে ব্যাংকটিকে ১ হাজার কোটি টাকার জরুরি তারল্য সহায়তা দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। তখন ব্যাংকটির নিজস্ব আমানত ও ঋণ আদায়ের অর্থ দিয়ে গ্রাহকদের বাড়তি উত্তোলনের চাহিদা সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল।

সংকটের পেছনে শুধু সাময়িক নগদ অর্থের ঘাটতিই নয়, ব্যাংকটির সম্পদের মানের অবনতিও বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে ওঠে। ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত ন্যাশনাল ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেড়ে ২৪ হাজার ৩০২ কোটি টাকায় দাঁড়ায়, যা ব্যাংকটির মোট বিতরণ করা ঋণের ৫৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ। ফলে তারল্য ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি ঋণ আদায় ও ব্যাংকের আর্থিক ভিত্তি শক্তিশালী করাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।

এ সংকটের প্রভাব সরাসরি পড়েছিল আমানতকারীদের ওপর। বিভিন্ন শাখায় নগদ উত্তোলনে সীমাবদ্ধতা এবং কিছু এটিএম বুথে নগদ অর্থ না থাকার অভিযোগও ওঠে। এমনকি গত সেপ্টেম্বরে চার আমানতকারী বৈধ হিসাব থাকা সত্ত্বেও টাকা তুলতে না পারার অভিযোগ নিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। পরে তাদের অর্থ উত্তোলনের সুযোগ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংককে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

তবে সংকট মোকাবিলায় ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনায়ও পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ন্যাশনাল ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে ব্যাংকটিতে সুশাসন নিশ্চিত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ব্যাংকের দক্ষতা ও কার্যক্ষমতা বাড়াতে ঊর্ধ্বতন ব্যবস্থাপনাতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আনা হয়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে ন্যাশনাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মেহজাবীন ও ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহিদুল হক সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে ব্যাংকটির বর্তমান তারল্য পরিস্থিতি ও আমানতকারীদের অর্থ উত্তোলনের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। গভর্নর আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা ধরে রাখতে চাহিদা অনুযায়ী অর্থ উত্তোলন নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এই নির্দেশনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো- আগের মতো আমানতকারীদের অর্থ উত্তোলনে অনিশ্চয়তা বা সীমাবদ্ধতা না রেখে নিয়মিত ব্যাংকিং কার্যক্রমে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা। ১৫ অক্টোবর থেকে সব শাখা ও এটিএমে প্রয়োজনীয় নগদ অর্থ রাখার নির্দেশের মাধ্যমে গ্রাহকদের দৈনন্দিন লেনদেন স্বাভাবিক করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

অর্থাৎ, ন্যাশনাল ব্যাংকের সামনে এখন মূল চ্যালেঞ্জ শুধু তাৎক্ষণিক তারল্য সংকট সামাল দেওয়া নয়; খেলাপি ঋণ কমানো, ঋণ আদায় বাড়ানো, আমানতকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতা টেকসইভাবে শক্তিশালী করা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক পদক্ষেপে আমানতকারীদের অর্থ উত্তোলন নিশ্চিত করার ওপর যে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, তা ব্যাংকটির স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফেরার প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। নোট: এখানে “সংকট উত্তরণ” কথাটি আমি পুরোপুরি সংকট শেষ হয়ে গেছে—এমনভাবে লিখিনি। কারণ সাম্প্রতিক সেপ্টেম্বরেও আমানত উত্তোলন নিয়ে অভিযোগ ও আদালতের হস্তক্ষেপের তথ্য রয়েছে। তাই সংবাদে “সংকট কাটিয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার উদ্যোগ” বলা তথ্যগতভাবে বেশি নিরাপদ ও শক্তিশালী।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular