ঢাকা  বুধবার, ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeখেলাচ্যাম্পিয়নস ট্রফি জিতে প্রত্যাবর্তনের গল্প শোনালেন বরুণ

চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জিতে প্রত্যাবর্তনের গল্প শোনালেন বরুণ

নিউজ ডেস্ক: আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির শিরোপা ১২ বছর পর ঘরে তুলেছে ভারত। সেটিও দাপট দেখিয়েই। অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন। পুরো টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে দারুণভাবে ট্রফি ঘরে তোলে রোহিত শর্মার দল। আর এই শিরোপা জয়ের অন্যতম কারিগর ছিলেন দলের ‘রহস্যময়ী’ বরুণ চক্রবর্তী।

৩৩ বছর বয়সি এই স্পিনার ভারতের হয়ে প্রথম দুই ম্যাচে মাঠে না নামলেও ফাইনালসহ গুরুত্বপূর্ণ শেষ তিন ম্যাচে মাঠে নেমেছিলেন। আর সবগুলোতেই করেছেন দুর্দান্ত পারফরম্যান্স। তাইতো ভারতের শিরোপা জয়ের পর তাকে নিয়েই চলছে বেশি চর্চা, বরুণকে প্রশংসায় ভাসাচ্ছে ক্রিকেট বিশ্ব। তবে একসময় তাকে চরম সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল। পড়েছিলেন ভক্তদের রোষানলেও, এমনকি হুমকির ফোনও পেয়েছিলেন। কিছু মানুষ তার বাড়ির ঠিকানা খুঁজে বের করে এবং কেউ কেউ তাকে বিমানবন্দর থেকে অনুসরণ করেছিল। সম্প্রতি এক ইউটিউবের পডকাস্টে সেসব গল্পই শুনিয়েছেন বরুণ।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসা ২০২১ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের স্কোয়াডে আরেক স্পিনার চাহালের বদলে জায়গা পান বরুণ। তবে প্রত্যাশা পূরণ করতে ব্যর্থ হন তিনি। ঐ আসরে তিন ম্যাচ খেলেও কোনো উইকেটের দেখা পাননি তিনি। তার মধ্যে পাকিস্তানের বিপক্ষেও হেরেছিল ১০ উইকেটের ব্যবধানে এবং ভারত গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়। ব্যর্থতার পর সমালোচনার মাত্রা এতটাই বেড়ে যায় যে, বরুণকে হুমকির ফোন আসতে থাকে।

ঐ গল্প শুনিয়ে বরুণ বলেন, ‘একটা সময় আমি রীতিমতো অন্ধকারে ডুবে গিয়েছিলাম। অবসাদ গ্রাস করেছিল। মনে হয়েছিল বিশ্বকাপে নির্বাচিত হয়ে সুবিচার করতে পারিনি একটাও উইকেট পাইনি। তিন বছর পরের বিশ্বকাপে আমি ডাকও পাইনি। তাই আমার তো এটাই মনে হয় যে, টিমে সুযোগ পাওয়ার থেকেও এই কামব্যাকটা আমার জন্য আরো কঠিন ছিল।’

ঐ সময় অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন দিয়ে তাকে দেশে ফিরতেও বারণ করা হয়েছিল। রাখা হয়েছিল নজরবন্দি। শুধু তা-ই নয়, ক্রোধে সমর্থকরা তাকে বাড়িতেও কয়েক দফা খুঁজতে গিয়েছিল। বরুণ বলেন, ‘আমাকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। বলা হয়েছিল, ‘ভারতে এসো না, এলে ফিরতে পারবে না।’ কিছু লোক আমার বাড়ি পর্যন্ত চলে এসেছিল, আমাকে খুঁজে বের করেছিল। কখনো কখনো আমাকে নিজের বাড়িতেই লুকিয়ে থাকতে হয়েছিল। আর বিমানবন্দর থেকে ফেরার সময় কয়েকজন বাইকে করে আমাকে অনুসরণ করেছিল। তখন আমি বুঝতে পারি, ভক্তরা কতটা আবেগপ্রবণ হয়।’

সেই বিশ্বকাপের পর লম্বা সময়ের জন্য জাতীয় দলের থেকে হারিয়ে যান বরুণ। টি-টোয়েন্টি কিংবা ওয়ানডে কোনো ফরম্যাটেই সুযোগ পাচ্ছিলেন না। তবে নিয়মিত খেলে যাচ্ছিলেন আইপিএল ও ঘরোয়া ক্রিকেটে। সেখানেই উন্নতি করছিলেন, যার ফলে আবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাকে দেখা যায় গেল বছর তাদের ঘরের মাটিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজ দিয়ে। সাধারণত বরুণকে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটেই দেখা যায়। তবে এবার ভারত তাকে কাজে লাগিয়েছে ওয়ানডে ফরম্যাটে। আর সেই সুযোগটাই লুফে নিয়েছে বরুণ।

যেই দুবাইয়ে তার ক্রিকেট ক্যারিয়ারে নেমে এসেছিল অন্ধকার চার বছরের ব্যবধানে সেই দুবাইয়েই আলোকিত করেছেন নিজের নাম। জশপ্রীত বুমরাহ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি থেকে ছিটকে যাওয়ার পর কেউ ভাবেননি, বরুণ চক্রবর্তী এত বড় প্রভাব ফেলতে পারেন। পঞ্চম স্পিনার হিসেবে দলে অন্তর্ভুক্ত হলেও তিনি হয়ে উঠেছিলেন ভারতের এক্স-ফ্যাক্টর। এই প্রত্যাবর্তন নিয়ে বরুণ বলেন, ‘আমি এখনো বিশ্বাস করতে পারছি না যে, একসঙ্গে এত ভালো কিছু ঘটছে। আমি আরো ভালো করতে চাই, পরবর্তী ধাপে যেতে চাই।’ চ্যাম্পিয়ন ট্রফি নিয়ে বলেন, ‘এই টুর্নামেন্টটি আমার জন্য অনেক বড় আত্মবিশ্বাসের উৎস ছিল। আমি অনুভব করেছি যে, আমি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের জায়গা করে নিতে পারি।’

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular