নিউজ ডেস্ক: জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারকে ঝামেলায় ফেলা এবং দেশকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে ‘পতিত দোসররা’ নানাভাবে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। একই সঙ্গে এসব কর্মকাণ্ডের বিষয়ে দেশের মানুষকে সতর্ক ও সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সকালে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণের আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রিজভী এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারকে নানা ধরনের সমস্যায় ফেলতে এবং দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে একটি পক্ষ বিভিন্ন অপতৎপরতা চালাচ্ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন থাকতে হবে এবং যেকোনো নাশকতামূলক তৎপরতার বিরুদ্ধে সতর্ক অবস্থান নিতে হবে।
সম্প্রতি পুলিশের ভ্যান থেকে একজন শীর্ষ সন্ত্রাসী কীভাবে পালিয়ে গেল—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের প্রসঙ্গেও কথা বলেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, ওই ঘটনায় যারা জড়িত, তদন্তের মাধ্যমে তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
রিজভী আরও বলেন, তারেক রহমানের সরকার কোনো ধরনের নৈরাজ্য ও অপরাধকে প্রশ্রয় দেবে না। অপরাধের সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক, তদন্তের মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।
এদিকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে আগাম সচেতনতা ও কার্যকর উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেন রিজভী। তিনি বলেন, বাড়ি, প্রতিষ্ঠান ও আশপাশের এলাকায় জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণ করতে হবে। পচা ও জমে থাকা পানি পরিষ্কার করা গেলে ডেঙ্গুর মশার প্রজননস্থল তৈরি হওয়ার ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু আক্রান্ত হওয়ার পর চিকিৎসা নেওয়ার পরিবর্তে আগাম সতর্কতা, পরিচ্ছন্নতা এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
রিজভী জানান, আগে ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য ৫০ টাকা ফি নেওয়া হলেও বর্তমানে এ পরীক্ষা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করা হয়েছে। সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষার সুবিধা বিনামূল্যে দেওয়ার বিষয়টি চলতি বছরের সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার অংশ হিসেবেও নিশ্চিত হয়েছে।-
রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে রিজভীর আহ্বান—জমে থাকা পানি দ্রুত পরিষ্কার করা এবং সম্ভাব্য মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা—জনস্বাস্থ্য সচেতনতার দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ।




