নিউজ ডেস্ক: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল, ছাত্রশিবির ও ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরের দিকে প্রথমে ক্যাম্পাসে, পরে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতাল চত্বরে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খবর বিবিসি বাংলা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা পৌনে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেন। অনুষ্ঠান চলাকালে জকসু নেতাকর্মীরা ও আরো কয়েকজন কিছু প্ল্যাকার্ড নিয়ে মিলনায়তনে ঢুকতে যান। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ ও অস্থায়ী হল নির্মাণ, মেডিক্যাল সেন্টারে পর্যাপ্ত ল্যাব–সুবিধা, টেকনিশিয়ান ও চিকিৎসক নিয়োগসংক্রান্ত দাবি জানান তারা। এক পর্যায়ে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাদের বাগ্বিতণ্ডা হয় এবং পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষের পর শিবির নেতাকর্মীদের ক্যাম্পাস থেকে তাড়িয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।
এরপর দুপুর ২টায় ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা জড়ো হন। আর হাসপাতালের মূল ফটকের বাইরে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা জড়ো হয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। একপর্যায়ে ছাত্রশিবির নেতাকর্মীরা ধাওয়া করতে গেলে পাল্টা ধাওয়ায় শিবিরের নেতাকর্মীরা হাসপাতালের ভেতরে ছুটে যান। এসময় দুইপক্ষ একে অপরের দিকে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে।
এ ব্যাপারে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল গণমাধ্যমকে বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ইউজিসির চেয়ারম্যান মামুন আহমেদকে অপমানিত করার জন্য ছাত্রশিবির ও তাদের সহযোগী সংগঠন প্রস্তুতি নিয়েছিল। তাদেরকে বিনয়ের সঙ্গে সরে যেতে বলা হয়েছিল। তারা তা করেনি। একপর্যায়ে দুপক্ষের মধ্যে মারামারি হলে ছাত্রদলের অনেক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে জানান তিনি।
এদিকে জকসুর সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলিম আরিফের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণভাবে দাবি তুলে ধরতে গেলে তাদের বাধা দেয়া হয়। ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালান। বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারেও ভাঙচুর চালানো হয় বলেও তিনি দাবি করেন।
সূত্রাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিউর রহমান দুপুর ৩টার দিকে গণমাধ্যমকে জানান, সংঘর্ষের পর ক্যাম্পাস ও এর আশপাশের পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে।




