আন্তর্জাতিক ডেস্ক: জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভাষণকে কেন্দ্র করে গাজায় যুদ্ধ বন্ধ ও মার্কিন সামরিক সহায়তা প্রত্যাহারের দাবিতে নিউইয়র্কের রাজপথে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং পুলিশ অন্তত ১০০ জন বিক্ষোভকারীকে আটক করে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের সদর দপ্তরের সামনে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে তারকা, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং সংগঠকসহ চার শতাধিক মানুষ অংশ নেন।
নিউইয়র্কের স্থানীয় অধিবাসী হোসে নামের এক বিক্ষোভকারী বলেন, ‘এখানে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর উপস্থিতি নিউইয়র্কবাসীর জন্য চরম অবমাননাকর। সে একজন যুদ্ধাপরাধী, আর আমরা তা কোনোভাবেই বরদাশত করব না।’
নেতানিয়াহুর ভাষণের ঠিক আগে বিক্ষোভকারীরা রাস্তা অবরোধ করে অবস্থান নেন। এই কর্মসূচির যৌথ নেতৃত্বে ছিল জেভিপি এবং নিউ ইয়র্ক সিটি ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্ট অব আমেরিকা।
প্যালেস্টাইন ইউথ মুভমেন্টের সদস্য এবং জেভিপির এক সক্রিয় কর্মী নাস ঈসা বলেন, ‘আমরা যা দেখছি তা হলো ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদকে তাদের বিশ্বভাবনা জাহিরের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করছেন। যেখানে শক্তি প্রয়োগ ও বিচারহীনতার সংস্কৃতিকে প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে।’
বিক্ষোভকারীরা নিউইয়র্কের মাধ্যমে ইসরায়েলকে মার্কিন সামরিক সহায়তার ভূমিকাও সামনে আনেন। এর আগের দিন এনওয়াইসি-ডিএসএ জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক সংবাদ সম্মেলন করে অবিলম্বে সব ধরনের সামরিক কার্গো পরিবহন বন্ধের দাবি জানায়।
বৃহস্পতিবার সড়কে যানবাহন চলাচলে বাধা সৃষ্টি করার অজুহাতে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সরে যেতে বলে এবং পরবর্তীতে গ্রেপ্তার অভিযান চালায়। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ জানায়, জনশৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ১০৩ জনকে আটক করা হলেও পরে তাদের সবাইকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
আয়োজকরা জানান, আটক হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৯ জন জনপ্রতিনিধি ও নির্বাচনের প্রার্থী ছিলেন। ডেমোক্রেটিক দলের এক তরুণ প্রার্থী দারিওলাইজা আভিলা শেভালিয়ারও তাদের মধ্যে ছিলেন।
তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘নেতানিয়াহুর স্থান আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে, নিউইয়র্কের রাজপথে কিংবা জাতিসংঘের মঞ্চে নয়।’
জেভিপির সংগঠক জেস ফ্র্যাঙ্কেল কারেল জানান, একজন ইহুদি হিসেবে তিনি চান তাদের করের অর্থ গাজায় বোমা ফেলার বদলে মার্কিন নাগরিকদের কল্যাণে এবং সেখানকার স্কুলে ব্যয় করা হোক।
কয়েক ঘণ্টা পর প্যালেস্টাইন ইউথ মুভমেন্ট এবং দ্য পিপলস ফোরামের ডাকে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী জাতিসংঘের সদর দপ্তরের দিকে পদযাত্রা করেন।
বিক্ষোভের অন্যতম সংগঠক তাহের দাহলে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক আইন থেকে পালিয়ে বেড়ানো যুদ্ধাপরাধীদের জন্য নিউইয়র্ক কখনই নিরাপদ আশ্রয়স্থল হতে পারে না।’
বিক্ষোভকারীদের মতে, নেতানিয়াহুর এই সফর সাধারণ মানুষের অসন্তোষের চিত্রটি বিশ্বনেতাদের সামনে স্পষ্ট করে তুলে ধরেছে। আয়োজকদের ভাষ্য, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে অবিলম্বে গাজায় ইসরায়েলি পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কার্যকরী ব্যবস্থা নিতে হবে।
সূত্র: আল জাজিরা




