নাঈম আহমাদ বলেন, সর্বদলীয় জুলাই সনদ বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদ গঠন এখন সময়ের দাবি
নিজস্ব প্রতিবেদক : জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের জন্য জেডিপি ও সমমনা সংস্কারপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোকে ক্ষমতায় আসতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টির (জেডিপি) আহ্বায়ক নাঈম আহমাদ। তিনি বলেছেন, বিএনপি সরকারের পক্ষে জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। এ জন্য এখনই ‘সর্বদলীয় জুলাই সনদ বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদ’ গঠন করা প্রয়োজন।
শনিবার বিকেলে জাতীয় জাদুঘরের সামনে জুলাই সনদ স্বাক্ষরের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক মানববন্ধনে এসব কথা বলেন নাঈম আহমাদ। ‘জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের দাবিতে’ এ কর্মসূচির আয়োজন করে জেডিপি।
মানববন্ধনে নাঈম আহমাদ অভিযোগ করেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ধাপে ধাপে প্রতারণা করা হচ্ছে। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী যেসব বিষয়ে একমত হয়েছিল, সেগুলোর অনেকগুলোই বিএনপি মানছে না। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীও কার্যত নীরব ভূমিকা পালন করছে।
জুলাই সনদের ২৩ নম্বর ধারা অনুযায়ী ডেপুটি স্পিকার পদে বিরোধী দল থেকে মনোনয়ন দেওয়ার বিধানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জামায়াত পদটিকে অলংকার বা অনুগ্রহের পদ বিবেচনা করে গ্রহণ করেনি। অথচ সরকারি হিসাব-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির প্রধানের পদটি তারা নিয়েছে। সনদের ২৪ নম্বর ধারা অনুযায়ী সংসদের চারটি স্থায়ী কমিটির সভাপতির পদ বিরোধী দলকে দেওয়ার কথা থাকলেও জামায়াত মাত্র একটি পদ পেয়েছে। বাকি তিনটি পদে বিএনপি নিয়োগ দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ পরিবর্তনের বিষয়েও সনদের ২৫ নম্বর ধারা অনুযায়ী প্রত্যাশিত পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন নাঈম আহমাদ। তাঁর ভাষায়, এসব ঘটনায় সরকার ও বিরোধী দলের যৌথ প্রতারণা প্রকাশ পেয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সমালোচনা করে নাঈম আহমাদ বলেন, জুলাই সনদের ৩৯ নম্বর ধারায় ন্যায়পাল নিয়োগের কথা রয়েছে। বর্তমান সংবিধানেও ন্যায়পালের বিধান রয়েছে। এমনকি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে ১৯৮০ সালের ৯ এপ্রিল ন্যায়পাল আইন প্রণীত হয়েছিল। কিন্তু সেই আইনও এখনো কার্যকর করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, প্রধানমন্ত্রী শুধু জুলাই সনদ নয়, তাঁর পিতার প্রণীত আইনও বাস্তবায়ন করছেন না।
জুলাই সনদের বিভিন্ন ধারা বাস্তবায়নে বিএনপির অনীহার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জেডিপির আহ্বায়ক বলেন, সনদের ১৬ নম্বর ধারা কার্যকর হলে বিএনপি নিজেদের স্বার্থ অনুযায়ী তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করতে পারবে না। ২১ নম্বর ধারা অনুযায়ী নির্বাচনে ৩৩ শতাংশ নারীকে সংসদ সদস্য পদে মনোনয়ন দিতে হবে। আর ২৬ নম্বর ধারা অনুযায়ী আন্তর্জাতিক চুক্তি নিয়ে সংসদে আলোচনা করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সনদের ৫৯, ৬০ ও ৬১ নম্বর ধারা বাস্তবায়িত হলে আদালতপাড়ায় দলীয় আইনজীবীদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ সীমিত হবে। ৬৪ নম্বর ধারা অনুযায়ী ভোট কারচুপি ও জুলাই গণহত্যার সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তে স্বাধীন কমিশন গঠন করতে হবে। আর ৬৯ নম্বর ধারা বাস্তবায়িত হলে পুলিশকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর লাঠিয়াল বাহিনী হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ থাকবে না; বরং স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠন করতে হবে।
নাঈম আহমাদ বলেন, সনদের ৭৫ নম্বর ধারা বাস্তবায়িত হলে দুর্নীতিবাজ ব্যক্তিদের দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে বাধা তৈরি হবে। এ কারণে বিএনপি মুখে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কথা বললেও দলটির পক্ষে তা পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয় বলে তিনি মনে করেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সংস্কারপন্থী রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে নাঈম আহমাদ বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংস্কারের পক্ষে থাকা দলগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। ৩০০টি সংসদীয় আসনে বিজয় নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এখন থেকেই রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক প্রস্তুতির রূপরেখা তৈরি করা প্রয়োজন। অন্যথায় জুলাই সনদের বাস্তবায়ন সুদূরপরাহত থেকে যাবে।
জেডিপির যুগ্ম সদস্যসচিব মাহতাব হোসেন সাব্বিরের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন দলটির প্রধান সংগঠক আহছান উল্লাহ, জনতার দলের যুগ্ম মহাসচিব স্বনাম ফুয়াদ, জেডিপির যুগ্ম সদস্যসচিব ইয়াসিন আরাফাত রাজ ও জাতীয় ছাত্রমঞ্চের প্রধান সংগঠক সালমান শরীফ প্রমুখ।



