ক্রীড়া ডেস্ক: ফুটবলের তেমনই এক আইকনিক ও আলোচিত উদযাপনের নাম ‘টোপো গিগিও’। দুই হাত কানের পেছনে দিয়ে দাঁড়ানোর এই সাধারণ ভঙ্গিটি মূলত ফুটবলারদের নীরব প্রতিবাদের এক অনন্য ভাষা। সম্প্রতি আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ ইংলিশ সমর্থকদের উদ্দেশ্যে এই ভঙ্গিটি করার পর ‘টোপো গিগিও’ উদযাপনটি নতুন করে ফুটবল বিশ্বে আলোচনায় এসেছে।
ফুটবল মাঠে এই চরিত্রের নতুন ও ঐতিহাসিক অর্থ তৈরি হয় ২০০১ সালে। আর্জেন্টিনার ক্লাব বোকা জুনিয়র্সের কিংবদন্তি ফুটবলার জুয়ান রোমান রিকুয়েলমে রিভার প্লেটের বিপক্ষে ‘সুপারক্লাসিকো’ ম্যাচে গোল করার পর গ্যালারির দিকে মুখ করে দুই হাত কানের পেছনে নিয়ে দাঁড়ান। তৎকালীন ক্লাব কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও চুক্তির দ্বিমতের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেই তিনি এই অঙ্গভঙ্গি করেছিলেন। সেই থেকে ফুটবলের পাতায় ‘টোপো গিগিও’ হয়ে ওঠে প্রতিবাদ ও সমালোচকদের জবাব দেওয়ার এক প্রতীক।
রিকুয়েলমের শুরু করা সেই ধারা ফুটবল বিশ্ব বারবার দেখেছে। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে নেদারল্যান্ডসকে টাইব্রেকারে হারানোর পর ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসি ডাচ ডাগআউটের দিকে এগিয়ে যান। তৎকালীন ডাচ কোচ লুই ভ্যান গালের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে তিনি ঠিক এই ‘টোপো গিগিও’ ভঙ্গিটি করেছিলেন। ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনার ফুটবল শৈলী নিয়ে ভ্যান গালের করা সমালোচনার জবাব মেসি দিয়েছিলেন মাঠের পারফরম্যান্স আর এই আইকনিক উদযাপনের মাধ্যমে।
সেই একই ঘরানার উদযাপনের পুনরাবৃত্তি ঘটালেন চেলসির আর্জেন্টাইন তারকা এনজো ফার্নান্দেজ। সম্প্রতি চেলসির হয়ে গোল করার পর গ্যালারির দিকে তাকিয়ে দুই হাত কানের পেছনে নিয়ে ‘টোপো গিগিও’ ভঙ্গি করেন তিনি। গ্যালারিতে থাকা ইংল্যান্ডের সমর্থক-যারা ক্রমাগত তাকে ধুয়ে দিচ্ছিলেন-তাদের সমালোচনা ও দুয়োধ্বনির জবাব দিতেই তিনি এই বিশেষ ভঙ্গিটি বেছে নিয়েছিলেন।




