ঢাকা  বুধবার, ১লা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeজাতীয়নতুন পে-স্কেলের প্রস্তাব চূড়ান্ত

নতুন পে-স্কেলের প্রস্তাব চূড়ান্ত

নিউজ ডেস্ক : সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে স্কেলের খসড়া প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। মন্ত্রিসভা সচিবের নেতৃত্বাধীন সচিব কমিটি প্রস্তাবটি নীতিগতভাবে চূড়ান্ত করেছে। প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি মিললে চলতি সপ্তাহেই এটি মন্ত্রিসভার বৈঠকে তোলা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

প্রস্তাবিত নতুন বেতন কাঠামোয় সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। তবে সব গ্রেডে সমান হারে বেতন বাড়ানোর কথা খসড়ায় রাখা হয়নি। উচ্চ গ্রেডের তুলনায় নিম্ন গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন তুলনামূলক বেশি হারে বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছে সচিব কমিটি।

খসড়া প্রস্তাব অনুযায়ী, নবম পে স্কেল দুই ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রথম ধাপে বাড়ানো হবে মূল বেতন। দ্বিতীয় ধাপে ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধির প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

গত বুধবার মন্ত্রিসভা সচিবের নেতৃত্বাধীন কমিটির বৈঠকে প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের জন্য নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে প্রয়োজন হলে খসড়ার বিভিন্ন অংশে পরিবর্তন বা সংশোধনের সুযোগ থাকছে। এমনকি পে স্কেল কত ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়েও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রিসভা।

খসড়া পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, চলতি বছরের জুলাই থেকে নবম পে স্কেলের আংশিক বাস্তবায়ন শুরু হতে পারে। এরপর ধাপে ধাপে ২০২৮ সালের জানুয়ারির মধ্যে নতুন বেতন কাঠামোর পূর্ণ বাস্তবায়ন শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে নবম পে স্কেল চূড়ান্ত করার পথে বিচার বিভাগ-সংক্রান্ত কিছু জটিলতা দেখা দিয়েছে। এ কারণে বিষয়টি পর্যালোচনা ও জটিলতা নিরসনে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছে সরকার।

২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় পে স্কেল কার্যকর হওয়ার পর প্রায় এক দশক পার হলেও নতুন কোনো জাতীয় বেতন কাঠামো চালু হয়নি। এই সময়ে সরকারি চাকরিজীবীরা নিয়মিত ইনক্রিমেন্ট পেলেও জীবনযাত্রার ব্যয় এবং মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে নতুন পে স্কেলের দাবি ক্রমেই জোরালো হয়েছে।

এই অবস্থায় ২০২৫ সালের জুলাইয়ে নবম পে কমিশন সরকারের কাছে তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়। ওই প্রতিবেদনে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়। কমিশনের প্রস্তাবে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার কথা বলা হয়েছিল।

এখন সচিব কমিটির চূড়ান্ত করা খসড়া প্রস্তাব মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে। মন্ত্রিসভার অনুমোদন মিললে নবম পে স্কেলের বাস্তবায়ন কাঠামো, বেতন বৃদ্ধির হার এবং কার্যকর হওয়ার সময়সূচি সম্পর্কে চূড়ান্ত চিত্র পাওয়া যাবে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular