ক্রীড়া ডেস্ক: ভারতীয় পুরুষ ক্রিকেট দল এখনো এশিয়া কাপের ট্রফি হাতে পায়নি। এবার নারী দলও একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারে।
এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) চেয়ারম্যান ও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নকভি আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর নারী এশিয়া কাপের ফাইনালে উপস্থিত থাকবেন বলে খবর পাওয়া গেছে। সমাপনী অনুষ্ঠানে তাকে প্রধান অতিথি হিসেবে রাখা হয়েছে।
জিও সুপারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নারী এশিয়া কাপের ফাইনালে উপস্থিত থেকে বিজয়ী দলের হাতে ট্রফি তুলে দিতে চান নকভি। তবে পরিস্থিতি ২০২৫ সালের পুরুষ এশিয়া কাপের ফাইনালের মতোই জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
২০২৫ সালের পুরুষ এশিয়া কাপের ফাইনালে পাকিস্তানকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ভারত। কিন্তু ভারতীয় অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বাধীন দল নকভির কাছ থেকে ট্রফি গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানায়। শেষ পর্যন্ত নাকভি ট্রফি নিয়ে স্টেডিয়াম থেকে চলে যান। সেই ঘটনার পর থেকেই ট্রফি বিতর্কে দুই দেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
এবার নারী এশিয়া কাপেও একই ধরনের পরিস্থিতির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। হারমনপ্রীত কৌরের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দল টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিট। তারা ইতোমধ্যে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে। ভারত শেষ পর্যন্ত শিরোপা জিতলে হারমনপ্রীত ও তার সতীর্থরা নকভির হাত থেকে ট্রফি নিতে চাইবেন কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে জল্পনা।
এরই মধ্যে ভারত-পাকিস্তানের সাম্প্রতিক ম্যাচেও দুই দলের অধিনায়কের মধ্যে করমর্দন হয়নি। হারমনপ্রীত কৌর ও পাকিস্তানের অধিনায়ক সানা মীর একে অপরের সঙ্গে হাত মেলাননি। গত বছর পুরুষ এশিয়া কাপে সূর্যকুমার যাদব ও সালমান আলী আগার মধ্যেও একই ঘটনা ঘটেছিল।
২০২৫ সালের পুরুষ এশিয়া কাপের ফাইনালে পাকিস্তানকে হারিয়ে শিরোপা জয়ের পর ভারতীয় দলের হাতে ট্রফি তুলে দেওয়ার জন্য নকভি প্রায় আধা ঘণ্টা মঞ্চে অপেক্ষা করেছিলেন। কিন্তু সূর্যকুমার যাদব ও তার সতীর্থরা নকভির হাত থেকে ট্রফি নিতে অস্বীকৃতি জানান। ভারতীয় দল অন্য কোনো এসিসি কর্মকর্তার কাছ থেকে ট্রফি নিতে চেয়েছিল।
পরিস্থিতিতে ক্ষুব্ধ হয়ে নকভি শেষ পর্যন্ত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান ছেড়ে চলে যান এবং ট্রফিটি সঙ্গে নিয়ে যান। পরে তিনি ট্রফিটি নিজের হোটেল কক্ষে নিয়ে গিয়েছিলেন। এরপর থেকে ট্রফিটি এসিসির দুবাই কার্যালয়ে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। ভারতীয় দল এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সেই ট্রফি হাতে পায়নি।
বিষয়টি সমাধানের জন্য বিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে নকভি ও এসিসির অন্যান্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা করা হয়েছে বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তবে এখনও সেই জটিলতার কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।
এই পরিস্থিতিতে ১৩ সেপ্টেম্বর নারী এশিয়া কাপের ফাইনালে নকভির উপস্থিতি নতুন করে ট্রফি বিতর্কের জন্ম দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যদি ভারত ফাইনালে উঠে এবং শেষ পর্যন্ত শিরোপা জিতে।




