মিঠু সূত্রধর পলাশ, নবীনগর(ব্রাহ্মণবাড়িয়া)প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার কাইতলা উত্তর ইউনিয়নের নারুই ব্রাহ্মণহাতা এলাকায় একজন মাদক বিক্রেতাকে চোখ হাত পা বেধে অমানবিক নির্যাতনের পর এবার সালিশকারকদের নেতৃত্বে এলাকাকে ‘মাদকমুক্ত’ ঘোষণা করার জোর দাবিতে সেই নারুই ব্রাহ্মণহাতা গ্রামে মানববন্ধন করেছে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসি।
সোমবার (৮ জুন) নারুই ব্রাহ্মণহাতা বার আউলিয়া মাদ্রাসার সামনে রাধিকা সড়কে এই বিশাল মানববন্ধনের আয়োজন করে স্থানীয় জনতা। ওই মানববন্ধন থেকে এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের গডফাদার হিসেবে আশরাফুল ইসলাম সেলিম দারোগারও অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি করা হয়।
যদিও সেলিম দারোগা’র কাছে এলাকাবাসির এসব কর্কেমকান্ডকে সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্রমূলক দাবি করেছেন। তবে মানববন্ধনে এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার অসংখ্য মানুষকে অংশগ্রহণ করতে দেখা গেছে।
জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) নারুই বাজারে প্রকাশ্যে সালিশ শেষে শত শত মানুষের সামনে মাদক বিক্রেতা হবি মিয়া (৪০) কে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করার পর এলাকা থেকে চিরতরে মাদককে নির্মুল করতে এই মানববন্ধনের আযোজন করা হয়।
ওই মানববন্ধন থেকে অবিলম্বে এলাকার চিহ্নিত মাদকসেবী ও মাদক কারবারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবী জানানো হয়।
এলাকাবাসি জানান, গত বৃহস্পতিবার দিনে দুপুরে নারুই বাজারে সালিশ করে আইন বহির্ভূতভাবে যেসব স্থানীয় সাহেব সর্দারগণ হবি মিয়ার চোখ ও হাত পা বেধে নির্যাতন চালায়, সেই সাহেব সর্দারগণই এই মানববন্ধনে কড়া ভাষায় বক্তব্য রেখে এলাকাকে ‘মাদকমুক্ত’ ঘোষণা করার দাবি জানান।
মানববন্ধনে অংশ নেয়া সামির মিয়া এই প্রতিবেদককে জানান, মানববন্ধনে বক্তব্য দেন স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোকাররম মিয়া, শফিকুল ইসলাম শফু, হানিফ মেম্বার, মহসিন মাস্টার, জাকির মুন্সী, ও সামির মিয়া নিজেসহ অনেকেই।
মানববন্ধনে অংশ নেয়া সামির মিয়া সুস্পষ্টভাবে আরও বলেন,’আমাদের নারুই-ব্রাহ্মণহাতা এলাকায় মোট ১৩ জন চিহ্নিত মাদক বিক্রেতা আছেন। যাদের সর্দার হলেন ‘হবি মিয়া’। আর এসব মাদক কারবারীদের মূল গডফাদার হলেন পুলিশের দারোগা (এলাকার বাসিন্দা) আশরাফুল ইসলাম সেলিম। যার বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা মামলাসহ বহু মামলাও রয়েছে। মাদকের এই গডফাদারকে দ্রুত গ্রেপ্তারসহ তার বিচার ও এলাকাকে চিরতরে মাদকমুক্ত ঘোষণা করতেই আজ সবাই মিলে, আমরা এই মানববন্ধন করেছি।’
এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর থানায় (ডিএসবি) এসআই হিসেবে কর্মরত আশরাফুল ইসলাম সেলিম তার বিরুদ্ধে আনীত এসব অভিযোগ অস্বীকার করে উল্টো বলেন,’ মূলত এলাকায় ‘ধনকুবের’ খ্যাত ঢাকার স্পাইডার গ্রুপের কর্ণধার রিপন মুন্সীর ইঙ্গিতেই সোমবার আমার বিরুদ্ধে এই পরিকল্পিত মানববন্ধন হযেছে। আসলে রিপনই হল এলাকার সব অপকর্মের মূল হোতা। এলাকায় সংঘটিত সব ধরণের অপকর্মের জন্য তাকেই (রিপন মুন্সি) ‘গডফাদার’ হিসেবে এলাকাবাসিসহ গোটা বিশ্ববাসি চিনে এবং জানে। আমি সরকারি চাকরি করি, এরপরও রিপন বাহিনীর ভয়ে গত ছয় বছর ধরে এলাকায় যেতেই পারছিনা।’
এ বিষয়ে পরে নারুই’র সন্তান, স্পাইডার গ্রুপের কর্ণধার রিপন মুন্সির সঙ্গে কথা বললে, তিনি বলেন, ‘গণমাধ্যমের নানা অসত্য ও বাজে রিপোর্টের কারণে আমি ইতিমধ্যেই অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। আমাকে নিয়ে আর মিথ্যে প্রপাগান্ডা আর কেউ যেন না করে, সেজন্য সবার কাছে অনুরোধ রইলো।’
তিনব বলেন, দেখুন, ৫ আগস্টের পর আজকের মানববন্ধনসহ গ্রামের কোন কর্মযজ্ঞের বিষয়েই আমি আর খোঁজ খবরই রাখিনা। অথচ, আমার গ্রামটিকে আমি একটি ‘আদর্শ গ্রাম’ হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছিলাম। কিন্তু গ্রামের কিছু চিহ্নিত দুষ্ট ও বাজে লোকের কর্মকান্ডে আমি চরম হতাশ হয়ে পড়ায়, গ্রামে আসা যাওয়াই ছেড়ে দিয়েছি!’
এদিকে নবীনগর থানার ওসি মোর্শেদ আলাম চৌধুরী বলেন, ‘বৃহস্পতিবারের ঘটনায় নির্যাতিত হবি মিয়ার পক্ষ থেকে এখনও কেউ থানায় এসে কোন মামলা করেনি। তবে শুনেছি, আজ (সোমবার) এলাকায় একটি মাদকবিরোধী মানববন্ধন হয়েছে।’
প্রসঙ্গত, নারুই বাজারে মব সৃষ্টি করে মাদক বিক্রেতা হবি মিয়ার নির্মম নির্যাতনের ঘটনাটি নিয়ে ইতিমধ্যে তিতাস নিউজ সহ একাধিক সংবাদ প্রকাশিত হয়




