আন্তর্জাতিক ডেস্ক: জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) অধিবেশনের ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্রে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে অপ্রত্যক্ষ কূটনৈতিক আলোচনা নজিরবিহীন গতি পেয়েছে।
মঙ্গলবার নিউ ইয়র্কে কাতারি মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে যুদ্ধ বিরতি ও অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের একাধিক শর্ত তুলে ধরেছে তেহরান। এ খবর প্রকাশ করেছে ‘ইরান ইন্টারন্যাশনাল’।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাঈল বাঘাই জানিয়েছেন, নিউ ইয়র্কে আমেরিকার কাছে ইরানের পক্ষ থেকে বেশ কিছু শর্ত পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে— সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ‘আগ্রাসন’ ও অর্থনৈতিক যুদ্ধ বন্ধ করা, ইরানি সমুদ্রসীমার ওপর থেকে মার্কিন নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আটকে থাকা ইরানি সম্পদ মুক্ত করা।
ইরানি এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাতে জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের সামরিক চাপ কমায় এবং ইরানি বন্দরগুলোর ওপর থেকে নৌ-অবরোধ তুলে নেয়, তবে মাত্র সাত দিনের মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ চলাচলের জন্য পুনরায় উন্মুক্ত করে দেওয়া সম্ভব।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিউ ইয়র্কে মধ্যপ্রাচ্যের নেতাদের সঙ্গে বৈঠককালে জানিয়েছেন, তেহরানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়ে “ব্যাপক গতি ও সম্ভাবনা” তৈরি হয়েছে।
মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার বিষয়টি নিয়ে ইরানি প্রতিনিধি দল এবং মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে দীর্ঘ ৩ ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক করেছেন। ট্রাম্প আশা প্রকাশ করে বলেন, একটি গঠনমূলক সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হবে।
তবে কূটনীতির আড়ালে দুই দেশের বৈরিতা ও সামরিক হুমকি এখনো বহাল। সূত্রের খবর, যুক্তরাষ্ট্র তাৎক্ষণিকভাবে অবরোধ তুলে নেওয়ার ইরানি দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।
অন্যদিকে, ইরান তাদের পার্লামেন্টে একটি বিল অনুমোদন করেছে, যার অধীনে হরমুজ প্রণালীর নিয়ম লঙ্ঘনকারী যেকোনো জাহাজের ২০ শতাংশ পণ্য বাজেয়াপ্ত করা যেতে পারে।
বর্তমানে নিউ ইয়র্কে অবস্থান করছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুদ্ধের ডামাডোলের মধ্যেও এ আলোচনা চুক্তি বাস্তবায়ন এবং মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকট নিরসনে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।




