ঢাকা  বুধবার, ১লা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeঅর্থনীতিনিউজিল্যান্ডের বাজারে বাংলাদেশের ওষুধ-আইটি-পাট

নিউজিল্যান্ডের বাজারে বাংলাদেশের ওষুধ-আইটি-পাট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও জোরদার করতে সম্ভাবনাময় বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ।

কৃষি-প্রযুক্তি, দুগ্ধশিল্প, সবুজ জ্বালানি, ওষুধ, চামড়া, পাট, টেকসই বস্ত্র ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে যৌথ বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

সোমবার নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডে নিউজিল্যান্ড ট্রেড অ্যান্ড এন্টারপ্রাইজের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এসব প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ আতাউর রহমান খান। নিউজিল্যান্ডের পক্ষ থেকে মার্কেট ম্যানেজার (দক্ষিণ-পূর্ব ও পূর্ব এশিয়া) র‍্যাচেল ম্যাকগাকিয়ানের নেতৃত্বে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন।

বৈঠকে জানানো হয়, বর্তমানে বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে বছরে প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য হয়। এর মধ্যে নিউজিল্যান্ড থেকে বাংলাদেশে দুগ্ধজাত ও ধাতব পণ্যের আমদানি উল্লেখযোগ্য। অন্যদিকে নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশের রপ্তানির পরিমাণ প্রায় ১৪৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যার বড় অংশই তৈরি পোশাকনির্ভর।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বাণিজ্য সম্পর্ককে আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও বহুমুখী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশেষ করে তৈরি পোশাকের বাইরে ওষুধ, পরিবেশবান্ধব পাটজাত পণ্য, চামড়াজাত পণ্য, টেকসই বস্ত্র ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের পণ্য ও সেবা নিউজিল্যান্ডের বাজারে সম্প্রসারণে দেশটির সহযোগিতা চাওয়া হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশের ওষুধশিল্পের সক্ষমতাও তুলে ধরা হয়। আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বিভিন্ন সনদ ও উৎপাদন ব্যবস্থার আওতায় দেশের ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালিত হচ্ছে উল্লেখ করে নিউজিল্যান্ডের স্বাস্থ্য খাতে সাশ্রয়ী মূল্যে মানসম্পন্ন জেনেরিক ওষুধ ও টিকা সরবরাহের সম্ভাবনার কথা জানানো হয়।

তথ্যপ্রযুক্তি খাতেও নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের ৬ লাখ ৫০ হাজারের বেশি প্রযুক্তি পেশাজীবীর দক্ষ জনশক্তির কথা তুলে ধরে সফটওয়্যার, আর্থিক প্রযুক্তি ও ডিজিটাল সেবা খাতে দুই দেশের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়।

বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও নিউজিল্যান্ডের প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হয়েছে। দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকরণ, বিশেষায়িত পুষ্টিপণ্য, শীতল সরবরাহব্যবস্থা, কৃষি-প্রযুক্তি, উন্নত উৎপাদন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিকে সম্ভাবনাময় বিনিয়োগ খাত হিসেবে তুলে ধরা হয়।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বিভিন্ন সুবিধা রয়েছে। এসব সুবিধা কাজে লাগিয়ে নিউজিল্যান্ডের প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগের পাশাপাশি দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তর বাজারেও ব্যবসা সম্প্রসারণের সুযোগ পেতে পারে।

দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতাকে দ্রুত বাস্তবে রূপ দিতে তিনটি তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নিউজিল্যান্ড ট্রেড অ্যান্ড এন্টারপ্রাইজের সংশ্লিষ্ট দলের সঙ্গে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন, বাংলাদেশি ওষুধ, তথ্যপ্রযুক্তি ও চামড়া খাতের রপ্তানিকারকদের সঙ্গে নিউজিল্যান্ডের ব্যবসায়িক ক্রেতাদের ভার্চুয়াল ব্যবসায়িক বৈঠকের আয়োজন এবং দেশটির পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করা।

এ ছাড়া দুই দেশের যৌথ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গঠন এবং বাণিজ্য মেলায় পারস্পরিক অংশগ্রহণের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বৈঠকে উভয় দেশের সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ ও পারস্পরিক লাভজনক অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হয়। বাংলাদেশের বৃহৎ বাজার ও উৎপাদন সক্ষমতার সঙ্গে নিউজিল্যান্ডের প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও উচ্চমূল্যের রপ্তানি সক্ষমতার সমন্বয় হলে দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে প্রত্যাশা করা হয়েছে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular