নিউজ ডেস্ক : ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) চালু করার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার বিকেলে মোবাইল ব্যবসায়ীরা ঢাকার বিটিআরসি প্রধান কার্যালয় ঘেরাও করে ভাঙচুর ও সংঘর্ষে নামেন। ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের দরজা-জানালার কাঁচ ভাঙা ও অফিসের ভেতরে ক্ষয়ক্ষতির সংবাদ মিলেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে, সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে এবং কয়েকজনকে আটক করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
ব্যবসায়ীদের দাবি ছিল, এনইআইআর বাস্তবায়নের আগে মোবাইল আমদানি সহজীকরণ ও কর-হার যৌক্তিক করা হোক, বিশেষত গ্রে-মার্কেট (অবৈধ রুটে আমদানি) ব্যবসায়ীদের জন্য র্যাম্প-আপ/গ্রেস পিরিয়ড নিশ্চিত করা হতো। তারা অভিযোগ করেন, আগের বৈঠকে তিন মাসের গ্রেস প্রাপ্তির কথা ছিল; কিন্তু দ্রুত চালু করা নিয়ে ‘প্রতারণার’ কথা বলছেন ব্যবসায়িক সংগঠনগুলো। এ নিয়ে উত্তপ্ত বৈঠকের পর বিক্ষোভ রুখে দিতে গিয়ে পরিস্থিতি উত্তেজিত হয়।
সরকারি পর্যায়ে এক সিদ্ধান্তে কিছু কর হ্রাসসহ ব্যবসায়ীদের দাবি বিবেচনার কথা বলা হলেও বিটিআরসি ওই দিনেই এনইআইআর কার্যকর করেছে, আর এতে ক্ষুব্ধ অনেক ব্যবসায়ী কর্মসূচি বেছে নেন।
বিটিআরসি ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছে; কর্তৃপক্ষ দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত অফিস পুনরুদ্ধার ও দায়ীদের বিরুদ্ধে মামলা তদন্ত করবে বলেও জানিয়েছেন।
ঘটনায় ইলেকট্রনিক তথ্য ও যোগাযোগ খাতে অস্থিরতা ছড়িয়েছে—বাজারের অনেক ব্যবসায়ী ও গ্রাহক অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এনইআইআর চালু করা অবশ্যই সুরক্ষা ও চেনাভিত্তিক আইনগত নিয়ন্ত্রণের জন্য জরুরি; কিন্তু বাস্তবায়নের সময় স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে সমন্বয় না থাকলে সামাজিক উদ্বেগ ও অর্থনৈতিক বিরূপ প্রভাব দেখা দিতে পারে। তাই দ্রুত বৈঠক এবং পরিষ্কার টেকনিক্যাল-কারিগরী ও আর্থিক সমাধান দরকার।
ভোক্তা ও সাধারণদের জন্য পরামর্শ—অফিশিয়াল চ্যানেলের বাইরের কোনো ‘অফার’ বা ফোন নিবন্ধন-প্রতিশ্রুতিতে আক্রমণ না করা, সন্দেহজনক ট্যাক্স-ছাড় বা কাগজপত্রে দ্রুত টাকা না পাঠানো এবং বিটিআরসি/কাস্টমস ইস্যু করা অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তি দেখে চলা। পাশাপাশি ব্যবসায়িক সংগঠনগুলোকে শান্তিপূর্ণ সিদ্ধান্তে আসতে ও প্রশাসনও দ্রুত সংলাপে বসে সমস্যার স্থায়ী সমাধান প্রদানের আহ্বান রয়েছে।
ঢাকানিউজ২৪/মহফ




